• ঢাকা
  • শনিবার, ৩১ জুলাই, ২০২১, ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮
abc constructions

অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ


নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৯, ২০২১, ১২:২৯ পিএম
অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ

ঢাকা : রাজধানীর শ্যামপুর সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শাহেদ আলীর বিরুদ্ধে নারী শিক্ষকদের যৌন হয়রানির করার অভিযোগ উঠেছে। কলেজটির আরবি প্রভাষক রোকেয়া নূরকে বিভিন্ন সময় উত্ত্যক্তের পাশাপাশি নানা প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশ ভ্রমণ এবং বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার নামে কুপ্রস্তাব দেওয়া হয়।

এসব কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় অধ্যক্ষ শাহেদ আলী তাকে হুমকি-ধমকি এবং হয়রানি করে আসছেন। যৌন হয়রানিসহ শাহেদ আলীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগী ওই নারী শিক্ষক নিরুপায় হয়ে তার বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

লিখিত অভিযোগে নারী শিক্ষক রোকেয়া নূর জানান, ‘জনাব মো. শাহেদ আলী ২০১৬ ইং সালে অত্র প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পর থেকে প্রতিষ্ঠানে চাকরির ক্ষেত্রে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার প্রলোভন দেখিয়ে আমাকে তার দলে টানার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে থাকেন।

আমার কাছে তিনি নিজে এবং তার কয়েকজন অনুসারী প্রভাষকের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে তার মনের গোপন অভিব্যক্তি প্রকাশ করার চেষ্টা করেন। দেশের বিভিন্ন লোকেশনে ঘুরে বেড়ানো ও ভারত ভ্রমণের প্রস্তাবও তিনি আমাকে দেন। তার এসব প্রস্তাব বিভিন্নভাবে এড়িয়ে চলি। এরপর থেকে অধ্যক্ষ এবং তার অনুসারী প্রভাষকরা অধ্যক্ষের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আমাকে প্রশাসনিকভাবে বিভিন্ন চাপের মুখে ফাঁদে ফেলানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে।’

তার অভিযোগ আমলে নিয়ে বিষয়টি তদন্তের জন্য গত ১ এপ্রিল মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ জামাল হোসেন একই বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (কলেজ-২)-কে সরেজমিনে তদন্তের নির্দেশ দেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তারা আগামী ২৭ জুলাই সকাল ১১টায় শিক্ষক শাহেদ আলীকে অভিযোগের শুনানিতে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষক বলেন, ‘আমাকে অনেক হয়রানি করা হয়েছে। কিন্তু কারো কাছ থেকে কোনো প্রতিকার পাইনি। কারণ তিনি খুব প্রভাবশালী। তিনি এলাকার রাজনৈতিক মহলকে ম্যানেজ করে চলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো উপায় না পেয়ে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দিতে বাধ্য হয়েছি।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি একজন সাধারণ শিক্ষিকা। তিনি বিসিএস ক্যাডার। আমাকে নানাভাবে প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। জানি না শেষ পর্যন্ত কি হবে। তবে মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপে আমি সন্তুষ্ট। আশা করি আমি ন্যায়বিচার পাব।’

জানা গেছে, শাহেদ আলীর যৌনলিপ্সার শিকার হয়েছেন একাধিক নারী শিক্ষক। তার কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় অনেককেই নানাভাবে হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক নারী শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, ‘অধ্যক্ষ স্যারকে আমরা সম্মান করি। কিন্তু তিনি আমাদের সরলতার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব করেন, অশালীন মন্তব্য করেন। শুধু মানসম্মান এবং চাকরির ভয়ে মুখ বুজে সহ্য করছি।’

ওই নারী শিক্ষক আরো বলেন, ‘অধ্যক্ষ স্যার কেবল কুপ্রস্তাব দিয়েই তিনি ক্ষান্ত হন না। তার কুপ্রস্তাবে রাজি না হলে পেশাগতভাবে ট্র্যাপে ফেলার চেষ্টা করেন, যাতে আমরা বাধ্য হই।’

অভিযোগকারী রোকেয়া নূর সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘তিনি যথেষ্ট ভদ্র একজন শিক্ষিকা। কারো সাতে-পাঁচে নেই। তিনি মন্ত্রণালয়ে যে অভিযোগ দিয়েছেন তাকে স্যালুট জানাই। হয়তো তার মাধ্যমে আমরা যারা ভুক্তভোগী তারা এই অধ্যক্ষের হাত থেকেই রেহাই পাব।’

তবে এসব অভিযোগ শতভাগ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন অধ্যক্ষ শাহেদ আলী।

তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। একজন নারী ছাড়া আমার বিরুদ্ধে আর কোনো নারী অভিযোগ আনেনি। আমার যতগুলো শিক্ষক কর্মচারী আছেন তারা কেউই এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে জানেন না।’

রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর বিষয়ে শাহেদ আলী বলেন, ‘মূলত যারা অভিযোগ করেছেন তারাই প্রভাবশালী এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ছত্রচ্ছায়ায় থাকেন। এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।’

এদিকে কলেজটির অভিভাবকরা একটি ‘অভিভাবক ফোরাম’ সংগঠন করেন। কিন্তু এটি করায় অধ্যক্ষ শাহেদ আলী তাদের বিরুদ্ধেও রুষ্ট হন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন অভিভাবক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, ‘এ ধরনের সংগঠন প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রয়েছে। কিন্তু আমরা এটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে আমাদের ছেলেমেয়েদের নানাভাবে হয়রানি করতে শুরু করেন অধ্যক্ষ। এ কারণে, কেউই আর তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস করেন না।’

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অধ্যক্ষ শাহেদ আলী শুধু নারী লোভীই নন, তিনি প্রশাসনিক বিভিন্ন কাজে শিক্ষকদের কাছ থেকে ঘুষও নিয়ে থাকেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় যদি এ ব্যাপারে আন্তরিক হয় তাহলে অনেকেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান তারা।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

 

Haque Milk Chocolate Digestive Biscuit
Dutch Bangla Bank Agent Banking
Wordbridge School