• ঢাকা
  • শনিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২১, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

ভেঙে পড়েছে জঙ্গি কার্যক্রম


নিজস্ব প্রতিবেদক নভেম্বর ১৬, ২০২১, ০৪:০৪ পিএম
ভেঙে পড়েছে জঙ্গি কার্যক্রম

ঢাকা : নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি আনসার আল ইসলামের দাওয়াতি শাখার প্রধানকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে জঙ্গিদের অনলাইন কার্যক্রম অন্তত ৮০ ভাগ বন্ধ করা গেছে বলে দাবি করেছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট-সিটিটিসি। রোববার রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানার আব্দুল্লাহপুর বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে হাসিবুর রহমান নামের ওই জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করে সংস্থাটির সদস্যরা।

গ্রেপ্তার হাসিবুরের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার মহিপুরে। তিনি মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এলএলবি প্রথম বর্ষের ছাত্র বলে জানায় সিটিটিসি। হাসিবুর ফেসবুকে আযযাম আল গালিব নামে আনসার আল ইসলামের দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনায় নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন বলে দাবি করেন সিটিটিসি প্রধান ও পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান।

সোমবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি। আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় মাঠপর্যায়ে জঙ্গিরা আগের মতো সংগঠিত নয়। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে দাওয়াতি কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করে। সে ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আনসার আল ইসলামের মতাদর্শ প্রচার শুরু করেন সংগঠনটির নেতারা।’

তিনি বলেন, শরিয়া আইন প্রণয়ন করে আনসার আল ইসলামের মাধ্যমে রাষ্ট্রব্যবস্থা চালু করতে বিভিন্ন উগ্রবাদী বক্তব্য ও জিহাদের কথা বলে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিতেন। এই ধরনের পোস্ট দেয়ার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে উগ্রবাদে জড়াতে উদ্বুদ্ধ করে র্যাডিকালাইজ করাই ছিল হাসিবুরের দায়িত্ব। আসাদুজ্জামান বলেন, হাসিবুর নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের অনলাইন দাওয়াহ শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ২০১৬ সালে এসএসসি পাস করে ঢাকা অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল কলেজে পড়ার সময় জঙ্গিবাদের আদর্শ ধারণ করেন। প্রথমে ফেসবুকের মাধ্যমে ও আন্তর্জাতিক সহিংস উগ্রবাদী সংগঠন আল-কায়েদার আদর্শ ও মতবাদ প্রচারকারী আইডি জামিল হাসান, মো. জামসেদ হোসেন আইডি দুটির সঙ্গে যুক্ত হন।

আইডিগুলোতে তালেবান ও আল-কায়েদার বিষয়ে বিভিন্ন লেখা ও সংবাদ প্রচার করত বলে জানান তিনি।

সিটিটিসির কর্মকর্তা বলেন, তিনি ভিপিএন ব্যবহার করে নিয়মিত উগ্রপন্থা প্রচার করে এমন সাইটে প্রবেশ করতেন। এমন কনটেন্ট নিয়ে পড়াশোনা করতেন। ২০১৯ সালের দিকে তিনি আনসার আল ইসলাম ও আল-কায়েদার মতাদর্শ সমর্থন করে লেখালেখি শুরু করেন।

হাসিবুর গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, সংবিধান, রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচারে আযযাম আল গালিব নামের ফেসবুক আইডি ব্যবহার করতেন। এমনকি একই নামে বিভিন্ন মাধ্যমে আইডি খুলে তিনি এসব প্রচার করতেন বলে দাবি সিটিটিসির।

দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনার সময় হাসিবুরের সঙ্গে টেলিগ্রামে যোগাযোগ হয় ‘জায়েদ ইবনে আলী’ ও ‘শাফায়েত মুসান্না ইসা’ নামের দুটি আইডির। তারাও একই মতাদর্শ প্রচারের সঙ্গে জড়িত।

জায়েদ ইবনে আলী নামের টেলিগ্রাম আইডিটি ছদ্মনাম ব্যবহার করে আল আমিন সিদ্দিকী ও ‘শাফায়েত মুসান্না ইসা’ আইডিটি ছদ্মনামে নারী জঙ্গি জোবায়দা সিদ্দিকা নাবিলা পরিচালনা করতেন বলে দাবি করেন সিটিটিসি প্রধান।

আগে আলাদা দুই অভিযানে তাদের দুজনকেই গ্রেপ্তার করে সিটিটিসি। আনসার আল ইসলামের দাওয়াতি শাখার প্রধানকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে তাদের অনলাইন কার্যক্রম প্রায় শেষ করে দেয়া গেছে বলে মনে করেন আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘জঙ্গিরা কোণঠাসা হয়ে অনলাইনে সুসংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছিল। দাওয়াতি শাখার এই তিনজনকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে আমরা তাদের সেই চেষ্টাকেও নস্যাৎ করতে সফল হয়েছি। আমাদের ধারণা, এর মধ্য দিয়ে জঙ্গিদের অনলাইন কার্যক্রম অন্তত ৮০ ভাগ বন্ধ হয়ে যাবে।’

সোনালীনিউজ/এমটিআই

Haque Milk Chocolate Digestive Biscuit
Wordbridge School
Sonali IT Pharmacy Managment System