• ঢাকা
  • রবিবার, ২৯ মে, ২০২২, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

সয়াবিনের মজুত বন্ধ হয়নি


নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২২, ০৩:২৬ পিএম
সয়াবিনের মজুত বন্ধ হয়নি

ঢাকা : ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়েও কাজ হচ্ছে না। কোনোভাবেই বাজারে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করা যাচ্ছে না। খুচরা পর্যায়ে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এখনো কম। ঈদের ছুটি শেষে প্রথম কর্মদিবস গত বৃহস্পতিবার বোতলজাত সয়াবিন তেল লিটারে ৩৮ টাকা আর খোলা তেল ৪৪ টাকা বাড়ানোর পরও তেল নেই বাজারে।

তেলের সরবরাহকারী কোম্পানির পক্ষ থেকে পরে বলা হয়, ঈদের ছুটির কারণে সরবরাহ বন্ধ, দুদিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

এদিকে প্রতিবেশী দেশ ভারতে সয়াবিন তেলের দাম বেশি হওয়ায় বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে তেল পাচারের চেষ্টা করছে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। ভোজ্যতেলের পাচার রোধে সক্রিয় আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা।

অন্যদিকে, গত সোমবার থেকে রাজধানীর দোকানগুলোতে তেলের সরবরাহ কিছুটা দেখা যেতে থাকে। তবে মঙ্গলবার যত চাহিদা ছিলো, তত তেলের দেখা মিলেনি। রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল এবং মিরপুরের শেওড়াপাড়া বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, এখনো পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। তবে পাইকারি বাজারে সরবরাহ শুরু হয়েছে।

মোহাম্মদপুরের শাকিল স্টোরে তেল কিনতে আসা রহিমা বেগম বলেন, গতকাল বাজার থেকে ৩০ টাকার তেল কিনছি। দুই দিন রান্না করতে পারছি। আজ তেল কিনতে এসে দেখি তেল নাই। একই দোকানে তেল কিনতে এসেছেন সুজন মিয়া। তিনি বলেন, ঈদের আগে তেল কিনতে পারেননি। ঘরে থাকা তেল দিয়ে কোনো রকমে পার করেছি। সরিষার তেল কিছুটা ছিল। সেটাও শেষের পথে। আর সরিষার তেলের রান্না খেতে বাসার সদস্যরা অভ্যস্ত নয়। কিন্তু গত কয়েক দিন বাজারে সয়াবিন তেলের কোনো বোতল পাইনি। আজো না পেয়ে সরিষার তেলই নিলাম এক লিটার ৩০০ টাকায়।

বাজারের সরবরাহ সংকট নিয়ে দুদিন আগে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সচিবালয়ে ক্ষোভ ঝেড়েছেন মূলত ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের প্রতি। তিনি জানান, ব্যবসায়ীরা কথা দিয়েছিলেন তারা বাজারে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখবেন। তাদের কথা বিশ্বাস করে তারা ঠকেছেন। তবে এখন থেকে তিনি কঠোর হবেন।

এই হুঁশিয়ারি দেওয়ার আগে থেকেই অবশ্য দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চলছে। এসব অভিযানে বেরিয়ে এসেছে, বিপুলসংখ্যক খুচরা ব্যবসায়ী তেল বিক্রি না করে আরো বেশি দামে বিক্রির জন্য লুকিয়ে রেখেছেন। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অবৈধ মজুত ধরা পড়েছে রাজশাহীতে। জেলার পুঠিয়ার বানেশ্বর বাজারের চারটি গুদামে ৯২ হাজার লিটার তেল লুকিয়ে রাখার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া যশোরের বেনাপোলে ৬৪ হাজার লিটার সয়াবিন তেলের মজুতের সন্ধান পেয়েছে টাস্কফোর্স। রাজশাহীর বানেশ্বরে ৯২ হাজার লিটার মজুতের একদিন পরেই বেনাপোলে মিললো বিশাল তেলের মজুত।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গতকাল বেনাপোল স্থল বন্দর এনএসআই এর তথ্যর ভিত্তিতে এনএসআইয়ের সদস্যরা, বেনাপোল পোর্ট থানা ও উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ টাস্কফোর্স যৌথ অভিযানে বেনাপোল বাজারে মেসার্স মেহেরাব স্টোরে ও প্রত্যন্ত গ্রাম নারায়ণপুরে একটি ঘরে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সেখান থেকে অবৈধভাবে মজুত করা ৬৪ হাজার ৪০০ লিটার ভোজ্যতেল আটক করে। মজুতকৃত ভোজ্যতেলের মূল্য প্রায় কোটি টাকার ওপরে।

আর রাজশাহীর বানেশ্বর বাজারে অবৈধভাবে মজুদ করে রাখা ৯২ হাজার ৬১৬ লিটার ভোজ্যতেল জব্দ করা হয়েছ। এরমধ্যে সয়াবিন ও পাম তেল রয়েছে। এ ঘটনায় চার ব্যবসায়ীকে আটকও করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, বানেশ্বরের ‘সরকার অ্যান্ড সন্স’-এর মালিক বিকাশ সাহার গুদামে ১৫ হাজার ৯৬ লিটার (৭৪ ব্যারেল), এন্তাজ স্টোরের মালিক এন্তাজ হাজির গুদামে ২৮ হাজার ৯৬৮ লিটার (১৪২ ব্যারেল), মেসার্স পাল অ্যান্ড ব্রাদার্সের মালিক কৈলেন পালের গুদামে ২১ হাজার ১২ লিটার (১০৩ ব্যারেল), রিয়া স্টোরের মালিক রাজিব সাহার গুদামে ১৫ হাজার ৩০০ লিটার (৭৫ ব্যারেল) তেল জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া একটি ট্রাক থেকে ১২ হাজার ২৪০ লিটার (৬০ ব্যারেল) ভোজ্যতেল জব্দ করা হয়।

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের ডিলার রহিম সরকার জানান, দুই দিনে ২১ টন তেল সরবরাহ করা হয়। কিন্তু তা মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, রাতেই তেল সরবরাহের কথা আছে। তবে, চাহিদার তুলনায় তা কম।

কারওয়ান বাজারের পাইকারি মার্কেট বুধবার বন্ধ। তবে খুচরা বিক্রি হয়-এমন দোকানগুলো খোলা। সেসব দোকানে চড়া দরে বিক্রি হচ্ছিল খোলা সয়াবিন তেল। এক দোকানে খোলা সয়াবিন তেল ২১০ টাকা লিটারে বিক্রি করতে দেখা গেছে, যদিও সরকার সর্বোচ্চ দর ঠিক করে দিয়েছে ১৮০ টাকা। অর্থাৎ নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি ৩০ টাকা।

হাতিরপুল বাজারেও সব দোকানে তেল নেই। একজন দোকানি পাঁচ এবং দুই লিটারের সামান্য তেল পেলেও এক এবং আধা লিটারের তেল পাননি। দোকানি সোহেল মুন্সি জানান, সোমবার এই তেল দেওয়া হয়। কিন্তু চাহিদা বেশি হলেও সরবরাহ করা হচ্ছে না। আর অন্য একটি খুচরা দোকানে তেল দেখা যায়নি।

শেওড়াপাড়ার কাঁচাবাজারের পাশাপাশি পাঁচটি মুদি দোকানের একটিতেও বোতলজাত সয়াবিন তেলের দেখা মেলেনি। দোকানিরা জানান, এখনও নতুন তেল আসেনি। ঈদের আগ থেকে তেলের গাড়ি আসছে না। তবে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ২-৩ দিনের মধ্যেই তেল পাওয়া যাবে।

তবে ক্রেতা সেজে কথা বলতে গেলে অন্য কয়েকটি দোকানের কয়েকজন বিক্রেতা আগের দামের তেল বেশি দামে বিক্রির প্রস্তাব দেন। দোকানি করিম মোল্লা এদের একজন। তিনি জানান, নতুন দামের তেল সরবরাহ করা হয়নি। পুরোনো দামের তেল রাখা ছিল। যেসব ক্রেতা নিয়মিত কেনাকাটা করছেন, তাদেরকেই শুধু এই তেল দেওয়া হচ্ছে। তবে এক লিটার দাম নেয়া হচ্ছে ২০০ টাকা।

তিনি বলেন, ক্রেতারা সারা বছর বাজার করেন। তেল যদি তাদের না দেওয়া যায়, তাহলে তারা হতাশ হন। অন্য জায়গায় চলে যাবেন। তাই অনেক কষ্টে সংগ্রহ করে বেশি দাম দিয়ে কিনে কিছু তেল সংগ্রহ করা হয়েছে। যা শুধু মুখচেনা ক্রেতাদের কাছেই বিক্রি করা হবে। তিনি জানান, অনেকে ফোনে জানতে চাইছেন তেল পাওয়া যাবে কি না। বলেন, অবস্থা এমন হয়েছে যে অল্প কয়েক লিটার তেল আছে, কারে রেখে কারে দেব। এমন বাস্তবতায় গত কয়েক দিনের মতো গতকালও তেলের জন্য দোকানে দোকানে ঘুরতে দেখা গেছে ক্রেতাদের।

গত বৃহস্পতিবার বাণিজ্য সচিবের সঙ্গে মিল মালিকদের বৈঠকের পর সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম নির্ধারণ করে সরকার। সে অনুযায়ী ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৮ ও খোলা প্রতি লিটার ১৮০ টাকায় বিক্রি হবে। আর পাম অয়েল বিক্রি হবে ১৭২ টাকা লিটার।

এর আগে বোতলজাত এক লিটার সয়াবিনের দর ছিল ১৬০ টাকা। আর খোলা তেল ছিল ১৩৬ টাকা লিটার। অর্থাৎ আগের চেয়ে বোতলজাত সয়াবিন তেলে লিটারপ্রতি ৩৮ টাকা ও খোলা তেলে ৪৪ টাকা বেড়েছে। পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৮৫ টাকা, যা আগে ছিল ৭৬০ টাকা।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

Wordbridge School
Sonali IT Pharmacy Managment System