• ঢাকা
  • সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯

ভুয়া ডিবি পরিচয়ে গাড়িতে তুলে নিয়ে টাকা লুট, গ্রেফতার ৫


নিজস্ব প্রতিবেদক  জানুয়ারি ২, ২০২৩, ০৩:৩১ পিএম
ভুয়া ডিবি পরিচয়ে গাড়িতে তুলে নিয়ে টাকা লুট, গ্রেফতার ৫

ঢাকা: ভুয়া ডিবি পুলিশ পরিচয়ে টার্গেটকৃত ব্যক্তিকে গাড়িতে তুলে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়া একটি চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। 

রোববার (১ জানুয়ারি)  মধ্যেরাতে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। 

গ্রেফতার হলেন: পিযুষ সুর (২৭), মো. হারুন (৩৮), জোবায়ের হোসেন পারভেজ,  আরিফ হোসেন (২৯) ও খোকন চন্দ্র দেবনাথ (৪২)। এসময় তাদের কাছ থেকে ২ টি কালো রংয়ের নোয়াহ্ মাইক্রোবাস, ১ টি সাদা রংয়ের প্রভোক্স প্রাইভেট কার, ২ টি পুলিশের রিফ্লেক্টিং ভেষ্ট ও ১ টি হ্যান্ডকাপ জব্দ করা হয়। 

সোমবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি প্রধান) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত ১৩ ডিসেম্বর রাতে এক ভুক্তভোগী রিকশা যোগে মতিঝিল সিটি সেন্টার পার হয়ে অলিম্পিয়া বেকারীর দিকে যাওয়ার পথে একটি কালো রংয়ের নোয়াহ্ গাড়ি তার গতিরোধ করে। এরপর ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তার কাছে অবৈধ মালামাল আছে বলে দুই হাতে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে তাকে গাড়িতে তুলে নেয়। এরপর তার সঙ্গে থাকা ৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকা মূল্যের বিদেশী মুদ্রা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। 

পরে ভুক্তভোগী ব্যক্তিকে রাজধানীর শাপলা চত্বর, ধোলাইপাড় টোলপ্লাজা, ধলেশ্বরী টোলপ্লাজা কুচিয়ামারা ব্রিজ হয়ে ঢাকা মাওয়া সড়কে পিডিএল ক্যাম্পের সামনে নামিয়ে দিয়ে গাড়িটি মাওয়ার দিকে চলে যায়।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী এ বিষয়ে মতিঝিল থানায় একটি মামলা করেন। পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগও ছায়া তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থলের বেশ কিছু  ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে। গোয়েন্দা তথ্য এবং প্রযুক্তিগত সহায়তায় কালো রঙের নোয়াহ্ গাড়িটি পশ্চিম নাখালপাড়া থেকে উদ্ধার করা হয়। গাড়ির মালিক ও ড্রাইভারকে জিজ্ঞাসাবাদে, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আসামীদের গ্রেফতার করা হয়। 

হারন অর রশীদ বলেন, এ চক্রটি পারস্পরিক যোগসাজসে প্রাইভেট কার নিয়ে ঢাকা মহানগর এলাকার বিভিন্ন ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আশে পাশে ঘোরাফেরা করে ব্যাংকে টাকা জমা দিতে আসা, ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে বের হওয়া এবং মানি এক্সচেঞ্জের ব্যক্তিদের টার্গেট করে। ব্যক্তি সনাক্তের পর উক্ত ব্যক্তির পিছনে পিছনে গাড়ি নিয়ে সুবিধাজনক স্থানে ব্যারিকেড দিয়ে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নেয়। 

ডিবি প্রধান বলেন, গাড়িতে তুলে ভিকটিমের সঙ্গে থাকা নগদ টাকা পয়সা ও মূল্যবান মালামাল কেড়ে নিয়ে সুবিধাজন নির্জন স্থানে ফেলে যায়। এ চক্রটি দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছে। এ চক্রের প্রধান শহীদুল ইসলাম মাঝি। বিরুদ্ধে সারাদেশে সর্বমোট ১৬টি মামলা রয়েছে।  ইতিপূর্বে শহীদুল ইসলাম মাঝিকে ডিবি পুলিশ একাধিকবার গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ্দ করে। পলতক শহীদুল ইসলাম মাঝিসহ তার অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেফতার চেষ্টা অব্যাহত আছে।

অনুরোধ জানিয়ে পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি প্রধান) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, ডিবি বললেই আপনারা গাড়িতে উঠবেন না। প্রথমে তাদের পরিচয় জানবেন অথবা আপনাদের সন্দেহ হলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষদের সঙ্গে কথা বলবেন। ডিবি অথবা অন্য যেকোনো সংস্থার নাম ব্যবহার করে অপরাধ করে আসছে আমরা অনেক গ্রেফতার করেছি। অনেকের নাম আমরা পেয়েছি তাদেরকে গ্রেফতার করবো। তবে আপনাদের কেও সচেতন থাকতে হবে।

সোনালীনিউজ/এম

Wordbridge School