• ঢাকা
  • রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২০, ১০ কার্তিক ১৪২৭
Sonalinews.com

পদ হারাচ্ছেন ১০ কোম্পানির ১৭ পরিচালক


নিজস্ব প্রতিবেদক সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২০, ০৯:০৫ পিএম পদ হারাচ্ছেন ১০ কোম্পানির ১৭ পরিচালক

ফাইল ছবি

ঢাকা: শেয়াবাজারে তালিকাভুক্ত ১০ কোম্পানির ১৭জন পরিচালক নূন্যতম দুই শতাংশ শেয়ার ধারণ না করার কারনে তাদের পদ হরাচ্ছেন।

শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) তাদের পরিচালক পদ থেকে সড়ে দাঁড়াতে রোববার একটি নির্দেশনা জারি করবে বলে বৃহস্পতিবার কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

গত ২ জুলাই শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত যেসব কোম্পানির পরিচালকের হাতে নিজ কোম্পানির ২ শতাংশের কম শেয়ার রয়েছে এমন ২২ কোম্পানির ৬২ জন পরিচালককে চিঠি দেয় নতুন কমিশন। এরপরে ২৫ জন পরিচালক তাদের নূন্যতম শেয়ার ধারন করেন। আর ১৯ জন স্ব-ইচ্ছায় পরিচালক পদ ছেড়ে দেন। বাকি ১৭ জনের বিষয়ে রোববার বিএসইসি একটি নির্দেশনা জাড়ি করবে বলে বৃহস্পতিবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

১০ কোম্পানির ১৭ পরিচালকে পদ ছেড়ে দিতে নির্দেশ দেয়া হবে, যা কমিশন বৃহস্পতিবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। 

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে শেয়ারবাজারে ধস নামার পর ২০১১ সালে ন্যূনতম শেয়ার ধারণের আইন করে বিএসইসির তৎকালীন কমিশন। ধসের পর ২০১১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এম খায়রুল হোসেনের নেতৃত্বে বিএসইসি পুনর্গঠন করা হয়। খায়রুল কমিশন ন্যূনতম শেয়ার ধারণের আইন করলেও সেই আইন অমান্য করে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত অনেক কোম্পানির পরিচালক দায়িত্বে বহাল রয়েছেন। আবার আইন হওয়ার পরও অনেক কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালক ঘোষণা ছাড়াই সব শেয়ার বিক্রি করে দেন। ফলে আইন করলেও সেই আইন পরিপালনে কার্যকর কোনো উদ্যোগই ছিল না। টানা ৯ বছর দায়িত্ব পালনের পর গত মে মাসে খায়রুল হোসেনের উত্তরসূরি হিসেবে বিএসইসির নেতৃত্বে আসেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম। 

গত মে মাসে দায়িত্ব নিয়ে তিনি ন্যূনতম শেয়ার ধারণের আইনের বাস্তবায়নের উদ্যোগের পাশাপাশি বেশ কিছু সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন। শিবলী রুবাইয়াতের দায়িত্ব গ্রহণের পর ঝিমিয়ে পড়া শেয়ারবাজারে গতি ফিরে আসে।

গত শনিবার বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, তালিকাভুক্ত যেসব কোম্পানির পরিচালকদের দুই শতাংশ শেয়ার নেই, তাদের পদ ছাড়তে হবে। যারা খারাপ উদ্দেশ্যে শেয়ারবাজারে এসে বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন, কোম্পানি ভালোভাবে চালাচ্ছেন না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বিএসইসি।

উল্লেখ্য, ২০০৯-১০ সালে শেয়ার কারসাজির পর ভয়াবহ দরপতনের প্রেক্ষাপটে ২০১১ সালের ২২ নভেম্বর পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালকদের এককভাবে ও সম্মিলিতভাবে নূন্যতম শেয়ার ধারণের শর্ত আরোপ করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল, কোম্পানি পরিচালনায় জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে যথাযথ প্রতিনিধিত্বশীল পর্ষদ গঠন করা।ওই নির্দেশনায় পরিচালক পদে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এককভাবে কমপক্ষে সংশ্নিষ্ট কোম্পানির ২ শতাংশ শেয়ার থাকার বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছিল বিএসইসি। এ ছাড়া কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার থাকার শর্ত দেয়। গত আট বছরে অনেক পরিচালক ও কোম্পানি এ শর্ত লঙ্ঘন করেছে।এ নির্দেশনা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরই ৪ কোম্পানির ১৪ জন পরিচালক আদালতে রিট করেন। আর শেষ পর্যন্ত পরিচালকদের রিট খারিজ করে বিএসইসির সিদ্ধান্ত বহাল রাখে আদালত।   

সোনালীনিউজ/এলএ/এমএএইচ

Side banner