• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২১, ৮ মাঘ ১৪২৭

রিজার্ভ চুরিতে ফিলিপাইন ছাড়া কেউ তথ্য দেয়নি


নিজস্ব প্রতিবেদক নভেম্বর ২৫, ২০২০, ০৩:২১ পিএম
রিজার্ভ চুরিতে ফিলিপাইন ছাড়া কেউ তথ্য দেয়নি

ঢাকা : বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির পর পাঁচ বছর পার হতে চললেও এখনো ওই ঘটনার কোনো কুলকিনারা হয়নি।

রিজার্ভ চুরির ঘটনা জানার পরপরই মতিঝিল থানায় বাংলাদেশ ব্যাংক যে মামলা দায়ের করে, তার তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দীর্ঘ পাঁচ বছরেও তারা এ মামলাটির তদন্ত গুছিয়ে আনতে পারেনি।

তদন্ত সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অন্যান্য যেসব দেশের অপরাধীরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের কাছে তথ্য চেয়েও আশানুরূপ সাড়া পাচ্ছেন না তারা। এপর্যন্ত মাত্র ফিলিপাইন ছাড়া আর কোনো দেশই তথ্য সরবরাহ করেনি। যে কারণে তদন্তের সমাপ্তি টানতে পারছে না তারা।

শুরু থেকেই মামলাটির তদন্ত করে আসছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রিজার্ভ চুরির ঘটনায় দেশের ভেতরের লোকজন ছাড়াও বাইরের কয়েকটি দেশের ৩০ জনেরও বেশি দুর্বৃত্তকে শনাক্ত করেছে সিআইডি।

এসব ব্যক্তির তথ্য পেতে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে চিঠি চালাচালি হচ্ছে। তবে ফিলিপাইন ছাড়া আর কোনো দেশ এখনো এসব অপরাধীর তথ্য সরবরাহ করেনি।

ফিলিপাইন ছাড়াও হংকং, ম্যাকাও, চীন, শ্রীলঙ্কা, মিসর, সিঙ্গাপুর ও জাপানের অপরাধীরা জড়িত রিজার্ভ চুরির সঙ্গে। সেসব অপরাধীর তথ্য পেতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। এসব বিদেশি অপরাধীর তথ্য কবে নাগাদ হাতে পাবে, সেটাও সঠিকভাবে বলতে পারেননি তারা।

এ মামলার তদন্তের বিষয়ে আদালতকে নিয়মিত অবহিত করতে হয় তদন্ত সংস্থাকে। মামলা দায়েরের পর থেকে এ পর্যন্ত ৪৪ বার আদালতকে তদন্ত শেষ না হওয়ার বিষয়টি অবহিত করেছে সিআইডি। আগামী ৬ ডিসেম্বর এ মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা সিআইডির অর্গানাইজড ও ফিন্যানশিয়াল ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রায়হান উদ্দিন খান এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে নারাজ।

সিআইডি ছাড়াও রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির ঘটনার তদন্তের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি)। সব বিভাগের একটি সমন্বিত টিম এ তদন্ত কাজ চালাচ্ছে।

মামলার তদারক কর্মকর্তা সিআইডির অর্গানাইজড ও ফিন্যানশিয়াল ক্রাইম বিভাগের বিশেষ পুলিশ পুলিশ সুপার (এসএস) মোঃ মোস্তফা কামাল বলেন, এটি খুব জটিল মামলা। কবে নাগাদ শেষ হবে বলা যাচ্ছে না। তবে কয়েকদিন আগে এ মামলার অগ্রগতি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক হয়েছে। এতে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে তথ্য চেয়ে তাগাদা দিয়ে আবারো চিঠি পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে। সিআইডির পক্ষ থেকে এরইমধ্যে চিঠি পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। রিজার্ভ চুরির এ ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশ ছাড়াও আরো আটটি দেশের লোকজন জড়িত।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে সুইফট কোডের মাধ্যমে ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রায় ১০১ মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। এরমধ্যে দুই কোটি ডলার চলে যায় শ্রীলঙ্কায় এবং আট কোটি ১০ লাখ ডলার চলে যায় ফিলিপাইনের জুয়ার আসরে। রিজার্ভ চুরির বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে মানি লন্ডারিং আইনে ওই বছরের ১৫ মার্চ (২০১৬) মতিঝিল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম-পরিচালক জোবায়ের বিন হুদা এই মামলা করেন।

সোনালীনিউজ/এমটিআই