• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২১, ২ বৈশাখ ১৪২৮
abc constructions

‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নিয়ে পজেটিভ প্রচারণা বাড়াতে হবে


নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২২, ২০২১, ০৫:৪১ পিএম
‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নিয়ে পজেটিভ প্রচারণা বাড়াতে হবে

ঢাকা: আগামী ৪ এপ্রিল বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) নির্বাচন (২০২১-২৩ )। এই নির্বাচন দেশের পোশাক খাতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন দক্ষিণ আফ্রিকা বিজিএমইএ’র মার্কেট ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান এম এ বাশার। 

তিনি বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণে আমাদের নতুন বাজার ধরতে হবে। পাশাপাশি যে বাজারগুলো আছে সেখানে পণ্যের রপ্তানি আরো বৃদ্ধি করতে হবে। তৈরি পোশাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুযোগ্য নেতৃত্ব দেয়ার মাধ্যমে ২০৪১ সালে উন্নত রাষ্ট্র হিসাবে আমাদের সামনে যে চ্যালেঞ্জ আসছে তা অর্জন করতেই হবে।যাতে আমরা ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ নিয়ে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারি।

নিজের মনের কথাগুলো সোনালীনিউজের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় জানিয়েছেন বিজিএমইএ’র এই নেতা।সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন-এম আর হোসাইন।    
 
 

নতুন বাজার ধরতে বিজিএমইএ’র উদ্যোগগুলো কী? 

সাউথ আমেরিকা, রাশিয়া, জাপান, সাউথ আফ্রিকা বিশেষত আফ্রিকা জোন পুরাটাই আমাদের জন্য নতুন বাজার। এ বাজার ধরার সুযোগ আমাদের হাতে আছে। সেখানে মানসম্মত পণ্য নিয়ে যেতে হবে।এক্ষেত্রে আফ্রিকার মার্কেট আমরা পুরোপুরি দখল করতে পারি। যদি আমাদের সরকার আফ্রিকান সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে জিএসপি বা ট্যাক্স ফ্রি সুবিধা নিতে পারে তাহলে এ বাজার পুরোটাই আমাদের দখলে আসবে। তেমনি নতুন মার্কেটগুলোতেও এই সুযোগ সুবিধাগুলো আদায় করে নেয়া যায়। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে এই মার্কেটগুলো আমারা আমাদের দখলে নিয়ে আসতে পারবো। কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম ও চীন থেকে ফিরে আসবে বায়াররা। এটা কেউ একা পারবে না। এ জন্য দরকার সরকারের সহযোগিতা।
 
২০২০-২১ সালে রপ্তানি আয় ৩৪ কোটি মার্কিন ডলার একটা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এটা কতটুকু অর্জন করেতে পেরেছেন, জানতে চাইলে বাশার বলেন, ২০২১ সাল আমাদের আরএমজি সেক্টরের জন্য ভালো যাবে। তবে সরকার যে লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করেছে রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রে সেটা কতটুকু অর্জিত হয়েছে তা আমার জানা নেই। আমি এটুকু বলতে পারি ২০২১ সাল বাংলাদেশের আরএমজি সেক্টরের জন্য ভালো যাবে। রপ্তানি আয়ও বৃদ্ধি পাবে।

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পুনর্বাসনে বিজিএমই কী কী উদ্যোগ নিয়েছে?

বৈশ্বিক করোনা মহামারীর কারণে ৪৯টি ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়েছে। এই ফ্যাক্টরিগুলো খুব একটা বড় ছিল তেমনটা নয়। আগে গার্মেন্টসে যেখানে ৪৪ লাখ শ্রমিক কাজ করতো তা ধীরে ধীরে কমে বর্তমানে ২৫ লাখ শ্রমিকে এসে দাড়িয়েছে। করোনার কারণে সরকারের প্রণোদনা লোন যা দিয়েছে তা নিয়ে আমরা ২ শতাংশ সুদসহ ব্যাংককে পরিশোধ করছি। শ্রমিকদের বেতন দিয়েছি। এক্ষেত্রে শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। আমি মনে করে তারা ভালো আছেন। এক্ষেত্রে মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রত্যেক গার্মেন্টস মালিককে লোন পরিশোধ করতে হচ্ছে। কারখানা বন্ধ থাকলেও শ্রমিকরা তাদের বেতন পেয়েছে সরকারের কাছ থেকে।   

প্রণোদনা প্যাকেজের ফলে করোনায় কারখানা মালিকরা কতখানি উপকৃত হয়েছে?

করোনায় প্রণোদনা গার্মেন্টস সেক্টরের জন্য সরকারের বড় উপহার। এই টাকা কোনো মালিকদের পকেটে যায়নি। এ টাকাটা চলে যায় শ্রমিকদের একাউন্টে। এটা ফ্রি না, সরকার দিয়েছে ২ শতাংশ হারে লোন। যা ১৮ কিস্তিতে পরিশোধ করার কথা। তার ভিতরে গত ২০২০ সালে করোনার কারণে কারো ব্যবসা ভালো ছিল না। করোনার ধকল থেকে সে সময় আমরা সোজা হয়ে দাঁড়ানোর মত অবস্থা তৈরি হয়নি। যার জন্য আমরা সরকারের কাছে বারবার বিজিএমইএর’র পক্ষ থেকে আবেদন করছি প্রণোদনার টাকা পরিশোধের সময় বাড়ানোর জন্য। এখানে বলা দরকার টাক্সফোর্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী আমাদের প্রণোদনা দিয়েছেন। যার সময় গত ডিসেম্বরে শেষ হয়েছে। আমরা আবারও সকারের কাছে অনুরোধ করছি। আমাদের নেতা বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মনুশি, বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি শফিউল আলম মহিউদ্দিন এবং বিজিএমইএ’র সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এস এ মান্নান কচি এনিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছেন সময় বাড়ানোর জন্য। প্রধানমন্ত্রী তাদের ৬ মাস সময় বাড়ানোর জন্য আশ্বাস দেন। ইতোমধ্যে সেই সময় বাড়ানো হয়েছে। যদি ৬ মাস না বাড়ানো হতো তাহলে অনেক ফ্যাক্টোরি দিশেহারা হয়ে যেত। নতুন করে কাজ এখনও পুরোপুরি আসেনি। আমরা আশা করছি, ২০২১ সালে ভালো কাজ পাবো। 

কিন্তু আপনারা এখন আবারও প্রণোদনার টাকা পরিশোধে সময় চাচ্ছেন কেন জানতে চাইলে বিজিএমইএ’র এই নেতা বলেন, একটা জিনিস লক্ষ্য করবেন, এই বাড়তি ৬ মাসের মধ্যে দুইটা ঈদ আছে। তখন শ্রমিকদের বাড়তি বেতন-বোনাস দিতে হয়। এখন আমরা কি প্রণোদনার টাকা দিবো না কি শ্রমিকদের ঈদের বেতন-বোনাস দিবো। তারপরও আমাদের আশা থাকবে যেন এসময়টি আরেকটু বাড়ানো হয়। না হলে আমাদের টিকে থাকা কঠিন হবে।
 
 

এলডিসি থেকে উত্তরণের ফলে গার্মেন্টস ব্যবসায় কোনো প্রভাব পড়বে কী?

স্বল্পউন্নত দেশের তালিকা থেকে আমাদের উন্নত দেশের তালিকায় যাবার পথ সুগম হয়েছে। এটা আমাদের দেশের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের খবর। কারণ গার্মেন্টস সেক্টরই এলডিসি থেকে উত্তরণে বড় ভূমিকা রেখেছে।সাম্প্রতিক রিপোর্টে দেখলাম আমাদের গার্মেন্টস সেক্টর এলডিসি থেকে উত্তরণে ৮৪ শতাংশ কাজ করেছে। অতএব এই সেক্টর যেন টিকে থাকতে পারে তা নিয়ে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি আমাদের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।ইউরোপে আমরা জিএসপি সুবিধা নিয়ে থাকি। সে ক্ষেত্রে যদি জিএসপি সুবিধা বন্ধ হয়ে যায় বায়াররা আমাদের থেকে পণ্য নিতে আগ্রহী হবে না। কারণে তাদের বাড়তি ট্যাক্স ও ভ্যাট দিতে হবে সংশ্লিষ্ট দেশকে। যার জন্য সরকার ও আমাদের এই সেক্টরকে কাজ করতে হবে। আগে কোটা ছিল এখন যদি জিএসপি সুবিধা উঠে যায় তাহলে আমাদের এই সেক্টর একটা বড় ধাক্কা খাবে। 

ধাক্কা সামলানোর উপায় কী হতে পারে ? 

‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নিয়ে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় পজেটিভ প্রচারণা বাড়াতে হবে। ১৯৯৪ সালে যখন রেদওয়ান আহমেদ ছিলেন, বিজিএমইএ’র প্রেসিডেন্ট মোস্তাফা গোলাম কুদ্দুস ছিলেন অন্য সেক্টরের চেয়ারম্যান। তখন বিদেশিরা চাপ দিয়েছিল যে বাংলাদেশে শিশু শ্রম হচ্ছে।তখন বাংলাদেশের অর্ডারগুলো অন্যদেশে চলে যাচ্ছিল। তখন তিনি বিদেশিদের বুঝানোর চেষ্টা করেছেন এই বলে যে, “দেখ আমরা শিশু শ্রমিক নিচ্ছি না, তোমরা যদি আমাদের দেশ থেকে একটি পোশাক কিনো তাহলে আমরাদের একটি শিশু স্কুলে লেখাপড়া করতে পারবে। আমরা ১৮ বছরের নিচে কোনো শ্রমিক নিয়োগ দিচ্ছি না এবং তাদেরকে স্কুলে পাঠানোর ব্যবস্থা করছি।” এভাবে তিনি বাংলাদেশের ইমেজ বিশ্বের কাছে তুলে ধরেছিলেন।২০১৩ সালের পর রানা প্লাজা ধসের পর আবারও বায়াররা আমাদের দেশে থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিলেন। তখন আমেরিকা ও ইউরোপ আমাদের ওপর কমপ্লায়েন্স চাপিয়ে দিয়েছিল। এর ফলে আমাদের অনেক কিছু ত্যাগ করতে হয়েছে। তারপরও আমরা ব্যবসা করেছি, যার ফলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে।

বর্তমানে দেশের গার্মেন্টসগুলো কতখানি নারী বান্ধব?

আমাদরে গার্মেন্টস সেক্টর শতভাগ নারী বান্ধব। এখানে যেসব নারী কাজ করেন তারা বেতনসহ মাতৃত্বকালীয় ৬ মাস ছুটি ভোগ করতে পারেন। এছাড়া প্রায় প্রত্যেকটা ফ্যাক্টরিতে চাইল্ড কেয়ার সেন্টার আছে। বিজিএমইএ থেকে প্রত্যেকটি এরিয়া ভিত্তিক স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র আছে যাতে শ্রমিকরা তাদের স্বাস্থ্য সেবা নিতে পারেন। এছাড়া অনেক ফ্যাক্টরি আছে যারা নিজেদের উদ্যোগেও স্বাস্থ্য কেন্দ্র চালু করেছে। যেখানে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক থাকেন। গার্মেন্টস সেক্টর নারীদের চাহিদা পুরনে সব সময় সচেষ্ট আছে এবং থাকবে। এছাড়া আগামীতে হেল্থ সেন্টারগুলো আরো বৃদ্ধির চেষ্টা করা হবে। এছাড়া রাতে নাইট ডিউটির পর নারীদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দিতে আমাদের সিকিউরিটির ব্যবস্থা করে থাকি। যাতে তারা নিরাপদে বাড়ি পৌঁছাতে পারে।  

নারীদের নিরাপত্তায় আগামীতে বিজিএমই কী পদক্ষেপ নিচ্ছে জানতে চাইলে বাশার বলেন, নারীদের নিরাপত্তা আমরা দিচ্ছি আগামীতেও দেব। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু কিছু ফ্যাক্টরি তাদের নারী শ্রমিকদের জন্য পৃথক কোয়াটারের ব্যবস্থা করেছে। যাতে তারা সেখানে থাকতে পারে। যারা কোয়াটার করতে পারছে না তারা তাদের ফ্যাক্টরির সিকিউরিটি দিয়ে নারী শ্রমিকদের বাসায় পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করে থাকে। এখানে যারা কাজ করেন প্রত্যেকেই আমাদের সন্তানের মত। বিধায় একজন সচেতন অভিভাবক হিসেবে তাদের নিরাপত্তা দেয়াই আমাদের অন্যতম দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে আমি মনে করি।

ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া এখন আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাড়িয়েছে।প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে আমাদের কী করা প্রয়োজন? 

প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকার জন্য আমাদের সরকারের সহযোগিতা সব সময় দরকার। আমাদের বায়ারদের কমিটমেন্ট রক্ষা করতে, টাইমলি ও কোয়ালিটিপূর্ণ শিপমেন্ট করতে এবং এ সেক্টরেকে আরো সমানের দিকে নিয়ে যেতে বিদ্যুৎ বিল, ট্যাক্স পেইডের ক্ষেত্রে কাস্টমসটা আরো সহজ করতে হবে। আমাদের প্রায় প্রত্যেকটা গার্মেন্টস মালিক কাস্টমসের কাছে নাকানি-চুবানি খাচ্ছি। যার জন্য এ সেক্টরগুলো আরো ইজি হলে এবং সরকারের সহযোগিতা পেলে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়াকে পেছনে ফেলা কোনো ব্যাপার হবে বলে আমি মনে করি না। আমাদের সামনে সেই সুযোগ আছে।

সোনালীনিউজ/আইএ

Haque Milk Chocolate Digestive Biscuit
Wordbridge School