• ঢাকা
  • শনিবার, ১৫ মে, ২০২১, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
abc constructions

বিনিয়োগে জটিলতা চান না প্রবাসী ব্যবসায়ীরা


নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৫, ২০২১, ১২:৪৭ পিএম
বিনিয়োগে জটিলতা চান না প্রবাসী ব্যবসায়ীরা

ঢাকা : ১৯৯০ সালে ১৩-১৪ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে আমেরিকায় পাড়ি জমান আব্দুল আলিম দোলন। এরপর সেখানেই বেড়ে ওঠার সাথে পড়াশোনা ও নাগরিকত্ব লাভের পাশাপাশি গত তিন দশকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ অর্থনীতির দেশে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুজাতিক কোম্পানি ছাড়াও চাকরি করেছেন নামিদামি কয়েকটি কোম্পানিতে। চাকরির পাশাপাশি দেশটিতে ব্যবসায়ও সফলতা পেয়েছেন আব্দুল আলিম।

এরপর মাতৃভূমি বাংলাদেশেও তিনি বিনিয়োগ করেছেন কোটি কোটি টাকা। একান্ত আলাপচারিতায় নিজের সফলতার গল্প, দেশের প্রতি মমত্ববোধের পাশাপাশি প্রবাসীদের দেশে বিনিয়োগে নানা জটিলতার বিষয়ে অনেক কথা বলেন।

সিলেটের মিরা গার্ডেন হোটেলের চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম জানান, মূলত দেশে তার বিনিয়োগের পেছনে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন তার বড় মেয়ে। তিনি বলেন, ‘আমি একবার বাংলাদেশে আসি আমার পরিবারসহ। সেই সময় আমার বড় মেয়ে অনেক অসহায় দরিদ্র শিশুকে দেখতে পায়।

সে আমাদের আত্মীদের বাসা থেকে পাওয়া (সিলেটের নিয়ম অনুযায়ী কোনো বাসায় গেলে শিশুদের হাতে টাকা দেওয়া হয় ঈদের সালামির মতো) প্রায় ২-৩ হাজার টাকা একটি ফুল বিক্রেতা মেয়ের হাতে দিয়ে দেয়।

আমার মেয়ে তখন আমাকে প্রশ্ন করল, এরা লেখাপড়া না করে ভিক্ষা করছে কেন। আমি বললাম যে অর্থের অভাবে এরা এসব করছে। তখন সে বলল তুমি ওদের চাকরি দিয়ে দাও, তাহলে অভাব থাকবে না। মেয়ের কথায় তখন আমার মধ্যেও বোধোদয় হলো যে দেশের মানুষের জন্য কিছু করা দরকার। তখন আমি দেশে বিনিয়োগ করি।’

দুই ছেলে ও দুই কন্যা সন্তানের জনক আব্দুল আলিম জানান, তার প্রজন্মের কেউ দেশে থাকেন না। সন্তানদেরও সবাই আমেরিকাতেই পড়াশোনা করছে। তবুও তিনি দেশে বিনিয়োগ করেছেন শুধু দেশের প্রতি ভালোবাসা এবং দায়বোধ থেকে।

আব্দুল আলিম বলেন, ‘এখানে বিনিয়োগ করার অর্থ এই নয় যে, এখান থেকে টাকা নিয়ে আমি আমেরিকায় চলব। এখানে বিনিয়োগের উদ্দেশ্য হলো, এর মাধ্যমে যদি আমার দেশের কিছু লোকের কর্মসংস্থান হয় সেটাই আমার জন্য আনন্দের। এর বেশি কিছু না। কারণ আমার সন্তানরা সবাই আমেরিকায় পড়াশোনা করছে। তারাও সেখানকার নাগরিক।’ তবে দেশে বিনিয়োগ করতে গিয়ে বেশকিছু তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানান তিনি।

আব্দুল আলীম বলেন, ‘প্রভাবশালীদের নানা ধরনের চাপ সামলাতে হয়। এ কারণে ভয়ে অনেকেই বিনিয়োগ করতে চান না। নইলে প্রবাসীদের সবাই দেশে বিনিয়োগ করতে চান। কারণ দেশটা আমাদের। এখানে আমাদের জন্ম। মাতৃভূমির টানে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হয়েও দেশে ছুটে আসি।’

দ্বিতীয়ত, প্রবাসীদের দেশে বিনিয়োগে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের জটিলতার মুখোমুখি হতে হয় না। যেসব কাগজপত্র চাওয়া হয় তা দিয়ে দিলে কোনো ঝামেলা তৈরি করা হয় না।

আব্দুল আলীম বলেন, ‘বাংলাদেশে সবকিছু দেওয়ার পর বলা হলো হবে না। অর্থাৎ তাদের কিছু পয়সা দিতে হবে। এজন্য পদে পদে হয়রানি হতে হয়। যদিও আমরা এটাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এজন্য এখন আর কিছু মনে করি না। কিন্তু দেশে প্রবাসীদের বিনিয়োগ বাড়াতে হলে এ সিস্টেম পরিবর্তন করতে হবে।

আব্দুল আলীম যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণের সময় তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট বাতিল হয়ে যায়। তবে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণ করা যায়। এজন্য নতুন একটি পাসপোর্ট করাতে গিয়ে সেখানেও বিড়ম্বনার শিকার হন।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমাকে জানানো হলো পাসপোর্ট পেতে ৩ বছর লাগবে। অথচ একটা পাসপোর্ট করতে এতটা সময় কেন লাগবে সেটি আমার বুঝে আসে না।’

আব্দুল আলিমের মতে, প্রবাসীদের বিনিয়োগের বাধা দূর করতে পারলে দেশে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ আসত। এতে দেশে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির হতো।

একই সঙ্গে, প্রবাসীরাও দেশের মাটিতে নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ পেতেন। তবে বর্তমানে যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলো অচিরেই দূর হবে বলে আশা করেন তিনি।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

Haque Milk Chocolate Digestive Biscuit
Wordbridge School