• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৬ আশ্বিন ১৪২৮
abc constructions

নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী


নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ২৪, ২০২১, ১২:২৬ পিএম
নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী

ঢাকা : কোরবানির ঈদের ছুটির পাশাপাশি শুরু হওয়া কঠোর বিধিনিষেধের প্রভাব পড়েছে রাজধানীর কাঁচাবাজারে। ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম কম হলেও নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। বেড়েছে সব ধরনের সবজির দামও। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ কম থাকার কারণে সবকিছুর দামই বাড়তি।

শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ দোকান বন্ধ। বাজারে ক্রেতাও কম। অনেক মুদিখানার পাশাপশি মাংসের দোকানও বন্ধ।  ছিল না কোনো হইহল্লা। বিক্রেতারা বলছেন, একে ঈদের পর, অপরদিকে কঠোর বিধিনিষেধের কারণে বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি কম। আরো দুই-এক দিন পর হয়তো ক্রেতারা বাজারে আসতে শুরু করবেন।

ঈদের আগে বাড়তি দামে বিক্রি হয়েছে চাল। সরু চালের মধ্যে নাজিরশাইল ও মিনিকেট ৬৫ টাকা কেজি। আগের সপ্তাহে এই চাল বিক্রি হয়েছে ৫৮ থেকে ৬০ টাকায়। পাইজাম ও লতা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৬ টাকায়। আগের সপ্তাহে যা ছিল ৫৩ টাকা। মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণ ও চায়না ইরি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজিতে। আগের সপ্তাহে যা ছিল ৪৬ টাকা কেজি। সয়াবিন তেলের বোতল এক লিটার ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায়, ৫ লিটার ৭০০ থেকে ৭১০ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল ভালো মানেরটা কেজি ১৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি হালি লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়।

কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা গেছে, কাঁচা মরিচের দামই বেশি বেড়েছে। ঈদের আগের দিন যেই কাঁচা মরিচ ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে, সেই মরিচ গতকাল  বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। এলাকাভিত্তিক কাঁচা বাজারগুলোতে বেগুন প্রতিকেজি খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়, পেঁপে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকায়, শশা ৮০ টাকা, টমেটো ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, বরবটি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়শ ৫০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ঝিঙ্গা ৫০ টাকা, কাঁকরোল ৬০ টাকায়। ঈদের আগে ১০ টাকা আঁঁটির লালশাক বিক্রি হচ্ছে টাকায়।  কচুর লতি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। লাউ ও চালকুমড়া আকারভেদে ৫০ থেকে ৭০ টাকা। লেবু প্রতিহালি ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলু কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকায়।

ব্যবসায়ীরা জানান, কোরবানি ঈদ, বিধিনিষেধে সরবরাহ কম ও বৃষ্টি-এই তিন কারণে সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে ।

নিউমার্কেট কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী জয়নাল বলেন, ঈদের কারণে গাজর ও টমেটোর চাহিদা বেড়েছে। অনেকে সালাদ খাওয়ার জন্য কিনছে। চাহিদার তুলনায় বাজারে এ দুটি পণ্যের সরবরাহ কম, এ কারণে দাম বেড়েছে।

আরেক ব্যবসায়ী সবুর আলী বলেন, গাজর ও টমেটোর দাম আগে থেকেই বেশি। এখন ঈদের টানে দাম আরো বেড়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে দাম একটু কমে যাবে। তবে গাজর ও টমেটোর কেজি সহসা ১০০ টাকার নিচে নামার সম্ভাবনা নেই।

হাতিপুলে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীরী উজ্জ্বল আহমেদ বলেন, ঈদের পরে কাঁচাবাজারে এসে দেখলাম সব কিছুর দাম অনেক বেশি। কাঁচা মরিচ কিনতে হলো ১০০ টাকা কেজি, যা দুই দিন আগেই ৪০ টাকা কেজিতে কিনেছি। বাজারে সবজিরও বেশি আমদানি নেই। সবাই বলছে ঈদের ছুটিতে বেশি মাল আসেনি তাই দাম বেশি।

ঈদের কাঁচাবাজারে চাহিদার পাল্লায় ভারী থাকে মসলা আর সালাদ তৈরির সরঞ্জামে। মসলাজাতীয় পণ্যের দাম এখনো কিছুটা বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। বাজারে জিরা কেজি ৩০০ টাকা, দারুচিনি ৩৮০ টাকা, লবঙ্গ ৮৫০ টাকা, এলাচ (ছোট) ২ হাজার ৪০০ টাকা, ধনেপাতা ১২০ টাকা, তেজপাতা ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা কেজি, রসুন দেশিটা ৮০-৯০ টাকা, বিদেশি ১৪০ টাকা, আদা দেশি ১৩০ টাকা, বিদেশি ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

সবজির মতো মাছ বাজারেও অল্পকিছু ব্যবসায়ী মাছ বিক্রি করছেন। তবে ক্রেতা কম, মাছের দামও বেড়েছে। মাছ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি, যা ঈদের আগে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছিল। এছাড়া কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে তেলাপিয়া মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ৩২০ টাকা, মৃগেল মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৮০ টাকা, পাবদা মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং রূপচাঁদা মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮৫০ টাকা।

মাংসের বাজারে গিয়ে গরু ও খাসির মাংসের দোকান বন্ধ দেখা গেছে। তবে কিছু মুরগির দোকান খোলা পাওয়া যায়। বাজারে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা ও দেশি কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকা কেজিতে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

Haque Milk Chocolate Digestive Biscuit
Dutch Bangla Bank Agent Banking
Wordbridge School
Sonali IT Pharmacy Managment System