• ঢাকা
  • বুধবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২১, ১২ কার্তিক ১৪২৮

নিত্যপণ্যে জ্বালানি তেলের প্রভাব!


নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ১৩, ২০২১, ১২:৪৯ পিএম
নিত্যপণ্যে জ্বালানি তেলের প্রভাব!

ঢাকা : কোনোভাবেই লাগাম টানা যাচ্ছে না নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির। এবার ব্যবসায়ীদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিই নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার কারণ।

তারা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে আমদানি নির্ভর সব পণ্যের পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। জ্বালানি তেলের দাম না কমলে বাজার স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

এদিকে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে দিশেহারা সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। যদিও সরকারের কর্তাব্যক্তিদের দাবি, মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে নিত্যপণ্যের দাম ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দফায় দফায় দাম বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ৮০ ডলার ছুঁয়েছে। যা গত সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

২০১৮ সালের অক্টোবরের পর গত জুনে করোনার প্রকোপের মধ্যে প্রথমবারের মতো অপরিশোধিত জ্বালানি তেল প্রতি ব্যারেলের দাম ৭৫ ডলারে ওঠে।

এছাড়া অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের পাশাপাশি রেন্ট ক্রুড অয়েল ও হান্টিং অয়েলের দামও প্রতিনিয়ত বাড়ছে। গত এক মাসে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম বেড়েছে প্রায় সাড়ে ১৫ শতাংশ। আর হান্টিং অয়েলের দাম বেড়েছে ১৭ শতাংশের ওপরে।

এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ধারা কতদিন স্থায়ী হবে তা নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না কেউ। এ নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছে সরকারও।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নিত্যপণ্য বিশেষ করে আমদানি পণ্যের দাম সহনীয় রাখতে শুল্ক কর প্রত্যাহার এবং হ্রাসের বিষয়ে এনবিআরকে চিঠি দিয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব তো কেউ আটকে রাখতে পারবে না। এর প্রভাব তো পড়বেই। তবে নিত্যপণ্যের দাম অবশ্যই সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে চলে আসবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

রাজধানীর বাজারগুলোর চিত্র বলছে, আমদানি করা চাল বাজারে আসার পরও দাম কমার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব পড়েনি। দফায় দফায় বাড়ছে ভোজ্যতেলের দাম। বেড়েছে আটা-ময়দার দামও। চিনির দাম আকাশ ছুঁয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে দাম নির্ধারণ করে দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ব্যবসায়ীদের পছন্দের দামেই বিক্রি হচ্ছে চিনি।

ব্যবসায়ীদের দাবি, নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির কারণ আন্তর্জাতিক বাজার। আমদানিনির্ভর এসব পণ্যের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়লে এর প্রভাব এখানকার বাজারে বাড়বেই। এর ওপর যুক্ত হয়েছে পরিবহন খরচ। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে দেশে বিদেশে সর্বত্রই পরিবহন খরচ, বিশেষ করে জাহাজ ও ট্রাক ভাড়া বেড়েছে। যা পণ্যের মূল্যে প্রভাব ফেলেছে।

এ বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, পেঁয়াজ হারভেস্ট করেছে সেই এপ্রিল মাসে, এতদিন পর্যন্ত পেঁয়াজ থাকে না। পেঁয়াজ চাষিরা সব বিক্রি করে দেন। পেঁয়াজ পচনশীল ও মজুদ রাখার তেমন কোনো ব্যবস্থা না থাকায় মৌসুমের শেষের দিকে বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়। গ্রীষ্মকালীন ও আমদানীকৃত পেঁয়াজ বাজারে আসার পরপরই আগামী ১৫ থেকে ২ দিন পর দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

Haque Milk Chocolate Digestive Biscuit
Wordbridge School
Sonali IT Pharmacy Managment System