• ঢাকা
  • বুধবার, ১০ আগস্ট, ২০২২, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৯

যে ইস্যুতে ক্ষুব্ধ প্রাথমিকের শিক্ষক ও অভিভাবকরা


নিউজ ডেস্ক জুন ২২, ২০২২, ০৩:২৪ পিএম
যে ইস্যুতে ক্ষুব্ধ প্রাথমিকের শিক্ষক ও অভিভাবকরা

ফাইল ছবি

ঢাকা: প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি ও কিটস অ্যালাউন্সের (জামা-জুতা) টাকা বিতরণের দায়িত্ব পেয়েছিলো ‘নগদ’। কিন্তু মোবাইল ব্যাংকিং সংস্থাটি সে টাকা বিতরণে জট পাকিয়েছে। 

মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সারাদেশের প্রায় সোয়াকোটি শিক্ষার্থীর অভিভাবকের অ্যাকাউন্টে কমপক্ষে এক হাজার করে টাকা জমা পড়ার কথা। কিন্তু গত সপ্তাহে টাকা বিতরণ শুরুর পর থেকে নগদের বিরুদ্ধে ভোগান্তির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে হন্যে হয়ে নগদের বিভিন্ন অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্তদের খুঁজছেন অভিভাবক ও শিক্ষকরা। কিন্তু কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদেরকে উপকারভোগীর ফোন ধরতে নগদের উচ্চ পর্যায় থেকে নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে।   

ভোগান্তির শিকার শিক্ষক ও অভিভাবকরা তাই ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন ফেসবুকে। কেউ ইমেইল ও ফোন করে অভিযোগ জানাচ্ছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে।

এমনই একজন হলেন হাতিয়া দ্বীপের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। একই স্কুলে নিজের সন্তান অধ্যয়নরত বলে তিনি উপবৃত্তি ও কিটস অ্যালাউন্সের উপকারভোগী অভিভাবকও বটে। 

গত সোমবার ওই শিক্ষক তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘গরীব অসহায় অভিভাবকদের টাকা এসেছে অথচ উঠাতে পারছে না। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে শিক্ষকরা। অনেকের টাকা এসেছে কিনা জানাও নাই, কারণ কোন মেসেজ আসেনি। আমার অ্যাকাউন্ট আমার অধিকার। অথচ তারা (নগদ) কোনো ইনফরমেশন ছাড়াই পিন চেঞ্জ করেছে, কেন? আমার নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে কোনো ওটিপি ছাড়াই টাকা উঠিয়েছিল ঢাকার একটি ফার্মেসী থেকে। আমি মামলা করতে চেয়েছিলাম নগদের বিরুদ্ধে। কিন্তু সম্মানিতরা অনেকেই নিষেধ করেছিলেন। পূর্বের অ্যাকাউন্ট নগদে থাকায় এবারো ৯৫% বা তারো বেশি নগদেই সাবমিট করা হয়েছে বর্তমান সিস্টেমে। এভাবে হরিলুট চললে কিভাবে হবে? কাস্টমার কেয়ার বন্ধ। সেল্ফ কেয়ারেও something went wrong! এখন মামলা করা দরকার। এভাবে কি চলে? আমাদের হাত পা বেঁধে কেন সাঁতার কাটতে বলা হয়?’

শাহ আলম শামীম নামের একজন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘নগদ ছাড়া বাকি সকল মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল কোম্পানি ক্যাশইনের ম্যাসেজ দেয়। আগে মায়ের হাসি, শিওর ক্যাশেও ক্যাশইনের ম্যাসেজ দিতো। তখন যতদিন ইচ্ছা অ্যাকাউন্টে টাকা রাখা যেতো। অথচ এখন নগদ বলছে যে ১৫ দিনের মধ্যে ক্যাশ আউট করতে, অথচ অনেক অভিভাবক ম্যাসেজ না দেয়ায় টাকার খবরও জানে না। পিন নম্বর জটিলতায় ৮০%-৯০% অভিভাবক টাকাও ক্যাশ আউট করতে পারছে না। নগদের ফাইজলামির একটা সীমা থাকা উচিত!’

অশ্রু চৌধুরী নামে অপর একজন শিক্ষক তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘নগদ আবার তেলেসমাতি শুরু করেছে। গতবারও অর্ধেক শিক্ষার্থীর টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এবারও বিভিন্ন অযুহাত দেখাচ্ছে। নগদ অফিসে শত শত অভিভাবকের দীর্ঘ লাইন। কার স্বার্থে যে নগদের উপবৃত্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল বুঝতে পারছি না।’

তৈয়বুর রহমান নামে আরেকজন শিক্ষক লিখেছেন, ‘পিন সমস্যার দ্রুত সমাধান করুন নাহলে শিক্ষকরা বিভিন্ন প্রশ্নে নাজেহাল হচ্ছেন।’

ফারুক শেখ নামের আরেক শিক্ষক ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আর কত রাত কাটাবো, উপবৃত্তি এন্ট্রির সময় দিনে সার্ভার স্লো তাই রাত কাটাও। উপবৃত্তি এলেও জ্বালা, পিন উদ্ধারের হিড়িক লেগে যায়। তারপরও দোষটা আমাদের উপরে পড়ে।’ 

খুলনার তেরখাদার এক স্কুলের একজন শিক্ষক গত রোববার সাংবাদিকদের জানান, তার স্কুলে মোট ৩০০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে তিনদিনে মোট ২০ জনের মতো টাকা পেয়েছেন। অভিভাবকরা জানতে চান, ‘আমার তো বিকাশ নম্বর নিলেন কয়েকদিন আগে। এখন তাহলে নগদ-এর নম্বরে কেন টাকা পাঠালেন? অভিভাবকদের এই প্রশ্নের কি জবাব দেবো? মৌখিকভাবে বলা হচ্ছে সাত দিনের মধ্যে টাকা তুলে নিতে হবে। কিন্তু এমনসব প্রান্তিক অভিভাবক রয়েছেন যাদের টাকা পাওয়ার খবরটি শুনতে বা বুঝতেও সাতদিন লাগতে পারে। সেক্ষেত্রে তাদের টাকা কি এবার গচ্চা যাবে?

তিনি জানান, তেরখাদা উপজেলা সদরের বাবুল টেলিকম থেকে পিন রিসেট করার জন্য ১০০/১৫০ টাকা নিচ্ছে। কিটস অ্যালাউন্সের এক হাজার টাকা তুলতে নগদ এজেন্টকে দিতে হচ্ছে এক থেকে দেড়শ টাকা। 

শিক্ষকরা আরও বলেন, অভিভাবকরা নগদ-এর অফিসার বা শিক্ষা অফিসার কাউকে চেনেন না, তারা তো চেনেন জানেন আমাদের। তাই আমাদের কাছে আসেন যেসব সমস্যা নিয়ে তার কোনোটিরই সমাধান আমাদের হাতে নয়। প্রধান প্রধান সমস্যার মধ্যে রয়েছে, ক্যাশইনের মেসেজ না দেয়া, পিন নম্বর জটিলতায় ক্যাশ আউট করতে না পারা, পিন সেট, পিন রিসেট, পিন ডাজ নট ম্যাচ, পিন রিসেট করতে গেলে গত তিনমাসের ট্রানজেকশন জানতে চাওয়া। অপশন-২ সিলেক্ট করলে ‘সামথিং ওয়েন্ট রং। হেল্প লাইনে (১৬১৬৭) কল দিলে ১৫/২০ মিনিট অপেক্ষার পর বলা হচ্ছে দু:খিত। এছাড়াও রয়েছে, সাতদিন বা ১৫দিনের মধ্যে টাকা তুলে নেয়ার মৌখিক নির্দেশ, এজেন্টের কাছে টাকা তুলতে গেলে এক থেকে দেড়শ টাকা আদায় করা। পিন রিসেট করতে এজেন্টকে টাকা দেওয়া। আবার নগদের পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্তরা অভিভাবকদের ফোন রিসিভ না করা। এসব শুনতে শুনতে শিক্ষকরা বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ।   

এসব অভিযোগের ব্যাপারে নগদের চট্টগ্রামের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাধব চন্দ্র দে সোমবার দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আর উপকারভোগীদের (অভিভাবকদের) কল রিসিভ করবো না। সমস্যার কথাগুলো শুধু উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে জানাবো। নগদের পক্ষ থেকে আমাদেরকে এমনই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’   

নাম না প্রকাশের শর্তে খুলনা অঞ্চলের একজন প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, আসলে আমরা এই সমস্যার কথা অধিদপ্তরের দুজনকে জানিয়েছি, কিন্তু মনে হলো ঊর্ধতন কর্মকর্তাদেরও কেউ ভুল বোঝাচ্ছেন। তারা নগদ কর্তৃপক্ষের যন্ত্রের দেয়া তথ্যে বিশ্বাস করছেন। যন্ত্র যাই দেখাক, বাস্তবে অধিকাংশ অভিভাবক টাকা তুলতে পারেননি। 

এ বিষষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভোগান্তি যাতে না হয় সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। উপকারভোগী ও শিক্ষকদের ভোগান্তির জন্য দায়ী কেউ যদি চিহ্নিত হয়, তাহলে ছাড় দেয়া হবে না।’

তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বিষয়টি দেখভাল করার। তিনি মঙ্গলবার অধিদপ্তর ও নগদের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক সভা করেছেন। বুধবারও বসবেন তারা।’ 

সোনালীনিউজ/আইএ

Wordbridge School
Sonali IT Pharmacy Managment System