• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

জয়-বীর স্বীকৃতি পেলে রাহুলের কি দোষ?


নিজস্ব প্রতিবেদক  সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২২, ০৪:১৩ পিএম
জয়-বীর স্বীকৃতি পেলে রাহুলের কি দোষ?

ঢাকা: ঢালিউডের সুপারষ্টার খ্যাত নায়ক শাকিব খানকে নিয়ে বিতর্ক যেনো পিছু ছাড়ছে না। অপু বিশ্বাস-বুবলীর পর এবার জানা গেলো আরেক স্ত্রীর নাম যেখানে রয়েছে এক সন্তানও। 

গল্পের শুরুতে চেনা যাক শাকিব খানের কথিত পুত্র রাহুল খানের গল্প। বেশ লাজুক প্রকৃতির ছেলে। নাম রাহুল খান। বাংলামোটর একটি ওয়ার্কশপে মাত্র তিন হাজার টাকার বেতনে চাকুরী করে। কাজ ছাড়া খুব একটা কথা বলে না। একা একা থাকতে পছন্দ করে। পরিবারের প্রসঙ্গ আসলেই চুপসে যায়। বিশেষ করে বাবার প্রসঙ্গ আসলেতো একেবারেই চমকে যায়। কিসের যেন একটা শূন্যতা খেলা করে তার দু’চোখ জুড়ে। কিন্তু মুখে কোনো কথা নেই।

আরও পড়ুন : প্রায় রাতেই পূজা চেরিকে নিয়ে লং ড্রাইভে যান শাকিব খান!

রাহুলের মায়ের গল্প : কিন্তু রাহুলের মা কে? রাহুলের মায়ের নাম রাত্রি। এফডিসিতে সবাই তাকে এক নামে চেনে। তার মায়ের ক্যারিয়ারের শুরু হয়েছিল এই সময়ের হার্টথ্রুব হিরো শাকিব খানের সাথেই। অনেকেই হয়তো জানেন না শাকিব খানের আসল নাম মাসুদ রানা। সেই মাসুদ রানার কাছের বন্ধু ছিলেন রাত্রি। একসময় শাকিবকে নাচ, গান, এমনকি তাকে তার বাসায় থাকার জায়গা পর্যন্ত করে দিয়েছিলেন রাত্রি। সৌন্দর্য্য আর নাচের পারদর্শীতার কারনে রাত্রির একটা গ্রহণযোগ্যতাও তৈরি হয়েছিল। এমন কি শাকিব খানকে নিয়ে অনেকের কাছে পরিচয় করে দিতেন তিনি। রাত্রির ভাষ্যমতে, হিরা-চুনি-পান্না সিনেমার জন্য শাকিবকে কিনে দিয়েছিল হাজার টাকা দামের একটি দামি কোর্ট। শাকিব এখন বড় সুপারস্টার হয়ে গেছে বলেই এখন হয়তো রাত্রিকে তার নজরে পড়ে না। কিন্তু আজও শাকিবের কোন শুটিং এফডিসিতে থাকলে রাত্রি ঠিক থাকতে পারেন না। শাকিবকে দেখার জন্য আজও খাওয়া দাওয়া ভুলে এফডিসির চারপাশ পাগলের মত ঘুরতে থাকেন। কিন্তু সে খবর কে রাখে!

কিন্তু এই তথ্যের ভিত্তি কি? রাত্রির কথা ছাড়া কোনো জোর প্রমাণ না মিললেও এফডিসি সংশ্লিষ্ট অনেকেই শাকিব-রাত্রির ব্যাপারটা জানেন। প্রোডাকশন বয় থেকে শুরু করে অনেক সাংবাদিকের কাছেও এটা ওপেন সিক্রেট। নিকট অতীত না হওয়ার কারনেই হয়তো কেউ আর এটার চর্চা করেন না। কারো সঙ্গে আলাপ করতে গেলেই কেউ রহস্যজনক হাসি হাসেন অথবা হেসেই উড়িয়ে দেন।

বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক ওমর ফারুক তার ফেসবুকে আজ শুক্রবার একটি পোষ্ট করেন তা হুবহু তুলে ধরা হলো...

“২০০৮/২০০৯ এর দিকে দৈনিক ভোরের কাগজের বিনোদন পতায় একটি ছবি প্রকাশ পায়। চিত্র নায়িকা রাত্রি আর শাকিব খানের বিয়ের ছবি। ভোরের কাগজের বিনোদন সম্পাদক Jahangir Biplob ভাই এই ছবিটি অনেক কষ্টে জোগাড় করেন। আমিও কাজ করি ভোরের কাগজে তখন।

তখন চাইলেই ছবি ইনবক্সে চলে আসতো না, ক্যামেরায় তোলা ছবি স্ক্যানিং করে পত্রিকার পাতায় ছাপাতে হতো। আর একটা ছবি জোগাড় করতে খবর হয়ে যেত, পকেটের টাকা খরচ হতো। 

ছবিটি প্রকাশের পর তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠেন শাকিব খান। এফডিসিতে ভোরের কাগজ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। জাহাঙ্গীর বিপ্লব এবং ওমর ফারুক কে এফডিসিতে পাইলেই নাকি মারবেন শাকিব খান। খবর শুনে বিপ্লব ভাইয়ের মাথা গরম, আমি জুনিয়র তবুও উত্তেজনা কম না! বিপ্লব ভাইকে বললাম চলেন এখনই এফডিসিতে যাবো। দেখি শাকিব কোন ... ছিড়ে! 

প্রয়াত আওলাদ ভাই তখন এফডিসি তে যা বলেন তাই হয়। আওলাদ ভাই শাকিব কে ধমকালেন, কেন এমন কথা বললো আর আমাদের বোঝালেন ছেলেটার ক্যারিয়ার আছে চেপে যা। আমরা চেপে গেলাম, শাকিব খানও চেপে গেলো। 

প্রশ্ন হলো, শাকিব খান তাহলে প্রথম সন্তান রাহুল খান এবং রাত্রির সাথে কেনো অবিচার করছেন? জয় এবং বীর স্বীকৃতি পেলে রাহুল কি দোষ করলো? 

বিনোদন সাংবাদিকগণ এই বিষয়টা নিয়ে এখন আওয়াজ তুলেন। একজন অসহায় স্ত্রীকে তার স্বামীর অধিকার আর বাবার আদর থেকে বঞ্চিত এক সন্তানকে বাবার অধিকার পেতে সহায়তা করতে পারেন।”

এ বিষয়য়ে শাকিব খানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। 

সোনালীনিউজ/এম

Wordbridge School