• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

কচুরিপানা ফুলে প্রকৃতি মেতেছে নতুন রূপে


আমিনুল হক বুলবুল, নান্দাইল নভেম্বর ১৭, ২০২২, ০৬:২৫ পিএম
কচুরিপানা ফুলে প্রকৃতি মেতেছে নতুন রূপে

নান্দাইল: কচুরিপানার ফুল এত নয়নাভিরাম, মনোমুগ্ধকর ও চিত্তাকর্ষক হয়ে ফুটেছে যা প্রকৃতি প্রেমীদের বিমুগ্ধ না করে পারে না।

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মধুপুর-দেওয়ানগঞ্জ সড়কের বেতাগৈর নামক স্থানে সড়কের পশ্চিম পাশে কাঁচামাটিয়া নদীতে অপরূপ এই দৃশ্য তৈরি করেছে কচুরিপানার ফুল। নদীতে দলবেঁধে ফুটেছে কচুরিপানা ফুল। ফুলের নির্মল ও স্নিগ্ধকর সৌন্দর্য প্রকৃতিতে যোগ করেছে নান্দনিকতা। তাই প্রকৃতি মেতেছে এখন নতুন রূপে। 

দুই কিলোমিটার জায়গা জুড়ে শুধু কচুরিপানার ফুল। সাদা, হালকা গোলাপি আর বেগুনি রঙের কচুরি পানার ফুল দেখলে মনে হবে শিল্পীর তুলিতে নিখুঁতভাবে আঁকা কোনো ছবি। যা দৃষ্টি কাড়ছে মানুষের। ছড়াচ্ছে মুগ্ধতা। যাতে মুগ্ধ হচ্ছেন প্রকৃতি প্রেমিরা।

কচুরি পানার ফোটা ফুলগুলো কোনো সুবাস না ছড়ালেও এসব ফুলের রয়েছে নান্দনিক রূপ। ফুলের শোভা ও সৌন্দর্য ভোগ করতে ভিড় জমাচ্ছেন নারী- পুরুষ, ছোট বড় সবাই। ছোট ছোট ছেলেরা জলাশয় থেকে কচুরিপানার ফুল উঠিয়ে খেলা করে।

উপজেলার বিভিন্ন স্থানের ছোট বড় খাল-বিল, বাড়ির পাশে পুকুর, ডোবা-নালায়ও এখন ফুটেছে সৌন্দর্যবর্ধক দৃষ্টিনন্দন কচুরি পানার ফুল। ডোবা ও জলাশয়ে ফুল ফুটে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে।

সরেজমিনে কাঁচামাটিয়া নদী ঘুরে দেখা যায়, কচুরি পানার ফুলের চাদরে ঢেকে আছে নদী। হাজার হাজার ফুল ফুটে রয়েছে। যেখানেই দৃষ্টি যাচ্ছে শুধু ফুল আর ফুল।ফুলের মুগ্ধতা ছড়ানো সৌন্দর্য উপভোগ করছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। কেউ কেউ খুব যত্ন করে নিজের মুঠোফোনে তুলে নিচ্ছেন এসব ফুলের দৃশ্য।

স্থানীয় লোকজন জানান, কাঁচামাটিয়া নদীতে বর্ষাকালে পানি থাকলেও এখন অল্প জায়গায় হাটুসমান পানি রয়েছে। আর সেই পানিতে কচুরিপানায় ভরে ওঠেছে। ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে প্রায় ২ কি:মি:দীর্ঘ পুরো নদী। মনোরম হয়ে ওঠেছে পুরো এলাকা।একসঙ্গে এতো কচুরিপানার ফুল দেখতে ছুটে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা।

কৃষিক্ষেত্রে এর যথেষ্ট উপকারিতা রয়েছে।কৃষকেরা কচুরিপানা উঠিয়ে জমিতে ফলানো আলু, পটলসহ বিভিন্ন সবজি চাষে ব্যবহার করছেন। কচুরিপানা থেকে এখন তৈরি হচ্ছে জৈব সার। ফলে কৃষক ফসল উৎপাদনে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। কচুরিপানা গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবেও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

স্থানীয় মধুপুর হাইস্কুলের ছয় শিক্ষার্থী রিফাত, মোস্তাকিম,আমিনুল, ইয়াসিন, সজল ও রায়হান কচুরিপানা ফুল দেখতে এসেছে। কচুরিপানা ফুল হাতে তারা জানায়, আমরা কচুরিপানা ফুল দেখতে এখানে এসেছি। আমরা খুব খুশী,ফুল দেখে অনেক ভালো লাগছে।’

চরশ্রীরামপুর গ্রামের আবু সাইদ বলেন, কাঁচামাটিয়া নদীতে অনেক কচুরিপানা ফুল ফুটছে। দেখতে অনেক সুন্দর। প্রতিদিন অনেক মানুষ ফুল দেখতে আসে।

নদীর পাড়ের বাসিন্দা স্থানীয় বেতাগৈর গ্রামের রাজন বলেন, কাঁচামাটিয়া নদীতে ফুটেছে প্রচুর কচুরিপানার ফুল।সকাল বিকাল বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসছেন কচুরিপানার ফুল দেখতে।

রাজাপুর ফাজিল মাদ্রাসার প্রভাষক মাওলানা শরীফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে কচুরিপানা ফুল দেখতে আসলাম। ফুলের সৌন্দর্য মুগ্ধ করছে সবাইকে।এটি আল্লাহর প্রাকৃতিক বিশেষ নিদর্শন। কচুরিপানার ফুলে যে এত মনোমুগ্ধকর পরিবেশ তৈরি হতে পারে,তা এখানে না আসলে বুঝতাম না।’

নান্দাইল উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান বলেন,কাঁচামাটিয়া নদীতে প্রচুর পরিমানে কচুরিপানা ফুল ফুটেছে। দেখতে খুব সুন্দর। এ ফুল জলাশয়ে যতক্ষণ থাকে, ততক্ষণই মুগ্ধতা ছড়ায়।

সোনালীনিউজ/এম
 

Wordbridge School