• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০২ মার্চ, ২০২১, ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭

উত্তপ্ত নোয়াখালীর রাজনীতি, দায়ী কে?


নিউজ ডেস্ক জানুয়ারি ২৩, ২০২১, ০৮:০৯ পিএম
উত্তপ্ত নোয়াখালীর রাজনীতি, দায়ী কে?

ঢাকা: বেশকিছু দিন ধরে উত্তপ্ত নোয়াখালীর রাজনীতি।বসুরহাট পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জার বক্তব্যে শুরু হয়ে রাজনীতির এ আগুন ছড়িয়েছে গোটা দেশে। 

জয়নাল হাজারী থেকে শুরু করে নিক্সন চৌধুরী, কাজী জাফরউল্লাহ, একরামুল করিম চৌধুরীসহ আরও অনেকেই গরম হয়ে উঠেছেন এ উত্তাপে।ওবায়দুল কাদেরকে পেতে হয়েছে রাজাকার পরিবারের সদস্যের তকমা। সর্বশেষ হরতাল পর্যন্ত ডাকা হয়েছে কোম্পানীগঞ্জে।যদিও ওবায়দুল কাদেরের অনুরোধে হরতাল প্রত্যাহার করেছেন ছোট ভাই কাদের মির্জা।

এদিকে নোয়াখালীর উত্তপ্ত রাজনীতি ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইন জগতেও। নেয়াখালীর গ্রুপগুলোতে রীতিমত অনলাইন যুদ্ধ চলছে বললে ভুল হবে না। অনেকেই আবার বিশ্লেষণ করছেন নোয়াখালীর রাজনীতিকে।তুলে ধরছেন স্থানীয় রাজনীতির ভেতরকার বিষয়গুলো।

সেরকমই একটি ফেসবুক পোস্ট হুবহু সোনালীনিউজের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক, পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী জনাব ওবায়দুল কাদের সহোদর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা গত কয়েক মাস আগে থেকে নোয়াখালী জেলা কমিটিতে যোগ্যতাসম্পন্ন নেতাদের অন্তর্ভুক্তি না করা, সরকারি নিয়োগ বাণিজ্য , টেন্ডারবাজী, অস্ত্রবাজী, গনতন্ত্র পুনরুদ্ধার,  জনগণের  ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা হরণ, মাদক ও সন্ত্রাসসহ নানা বিষয়ে সরকার দলীয় সাংসদ এবং নেতাদের বিরুদ্ধে আকস্মিকভাবে প্রতিবাদী হয়ে উঠেন। 
ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ দ্বিতীয় প্রভাবশালী নেতার ভাইয়ের এহেন আচরণ জনমনে সংশয়  সৃষ্টি হয়েছে।। গত দশ বছর জুলুম অত্যাচারের শিকার বিএনপি জামাতের অসহায় শোষিত মানুষগুলো ও বসুরহাট পৌরসভা নির্বাচনে আনন্দ উপভোগ করে। ভোটাধিকার প্রয়োগের শতভাগ নিশ্চয়তা পেলে ও ফলাফলে তা মোটেও প্রতিফলিত হয়নি বলে অনেকে জানান।।। 

ফেসবুক থেকে নেয়া

নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট) আসনে প্রতিদ্বন্ধিতা করেন আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। সামান্য ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী  বা পরাজিত হন। তবে হেভিওয়েট  দুজন নেতার বাড়ী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়।। ১৯৯৬ সালে ১২ জুন তারিখে অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ বিজয়ী হয়ে ২৩ জুন তারিখে সরকার গঠন করে। ওবায়দুল কাদের এমপিকে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেন বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনা ওয়াজেদ।  

নোয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগ এর প্রভাবশালী নেতা হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদুর রহমান বেলায়েত,  গোলাম মহি উদ্দিন লাতু, খায়রুল আলম সেলিম, এডভোকেট মমিন উল্লাহ, এডভোকেট আবুল খায়ের, এডভোকেট আবদুর রব, এডভোকেট জামাল উদ্দিন,  আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু, আবু তাহের (সোনাপুর), আবু তাহের (চরবাটা), ডাক্তার আবদুর রব, এডভোকেট মহিব উল্লাহ, লুঙ্গি চুন্নু (মরহুম), বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান (লুতু), শিহাব উদ্দিন শাহীন প্রমূখ আর ছাত্র নেতাদের মধ্যে শহীদ উল্লাহ খাঁন সোহেল, মিঠুন ভট্ট, সুফি,, আজাদ, মোহান্মদ হানিফ প্রমূখ নেতাদের ভুমিকা ১৯৯৬ সালে দৃশ্যমান ছিল। 

জেলা শহর মাইজদী থেকেই নিয়ন্ত্রিত হত গোটা জেলা।। ভদ্র, বিনয়ী এবং আদর্শবান নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদুর রহমান বেলায়েত জেলা কমিটির সভাপতি থাকায় নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডারবাজী, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, মাদক বাণিজ্যসহ অনিয়ম করতে সাহস পায়নি সুবিধাভোগীগোষ্ঠী। জেলা শহর মাইজদীতে পারস্পরিক সহাবস্থান করেই রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালিত হতো।। 

#১৯৯৬_পরবর্তী_সময়ে
নোয়াখালীর কবিরহাটে আওয়ামী রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং দানবীর হাজী ইদ্রিস পূত্র চট্টগ্রামের এ এন্ড জে ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী একরামুল করিম চৌধুরী। স্থানীয় লোকদের দান অনুদান এবং চট্টগ্রামে  কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেন। ১৯৯৭ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর অন্যতম সহযোদ্ধা হাজী ইদ্রিস এর মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ কবিরহাটকে পৌরসভায় উন্নীত করেন। এ পরিবারের সন্তান হিসেবে একরামুল করিম চৌধুরী নোয়াখালীর  রাজনীতিতে বিশেষ জায়গা দখল করে নেন। ১৯৯৬-২০০১ সালের আওয়ামীলীগ সরকারের সময় নিজ উপজেলা  কবিরহাট (সদর পূর্বাঞ্চল) এর বিভিন্ন দাবী নিয়ে সোচ্চার হয়ে উঠেন। উন্নয়নসহ নানা বিষয়ে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এর সাথে বনিবনা না হওয়াতে ২০০১ সালে পহেলা অক্টোবর তারিখে অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন নোয়াখালী-৫ আসনে।। 

সে নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ৮৪,৫৭৮ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন। অন্যদিকে, আওয়ামীলীগ মনোনীত ওবায়দুল কাদের পেয়েছিলেন  ৪৫,৯৭২ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী একরামুল করিম চৌধুরী পেয়েছিলেন ৪২,০৪৮ ভোট। দুই জনের প্রাপ্ত ভোট ৮৮,০২০ । বিএনপি প্রার্থী থেকে ৩৪৪২ ভোট বেশী। স্বতন্ত্র প্রার্থী না হলে ২০০১ সালে হয়তো ওবায়দুল কাদের পূননির্বাচিত হতেন।। 

২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৫ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হলেন ওবায়দুল কাদের আর নোয়াখালী-৪ আসনে মনোনয়ন পেলেন একরামুল করিম চৌধুরী।  দুই আসনে দুইজনই জয়লাভ করেন। 

#নোয়াখালী-৫ আসন থেকে দুবার নির্বাচিত হয়ে দলে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন ওবায়দুল কাদের।
একরামুল করিম চৌধুরী পরিবারের অসহযোগিতা থাকলে হয়তো ২০০৮ সালেও নির্বাচিত হতে পারতেন না।। সাবেক উপরাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ও আইন বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে পরাজিত করা সহজ ছিল না। 

#ওবায়দুল_কাদের সহজে এমপি নির্বাচিত হওয়ার জন্য সুকৌশলে কবিরহাট নিবাসী একরামুল করিম চৌধুরীকে নোয়াখালী-৪ আসনে মনোনয়ন এর ব্যবস্থা করেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে । যার বদৌলতে নোয়াখালীর অবিসংবাদিত নেতা মরহুম আবদুল মালেক উকিল পূত্র গোলাম মহি উদ্দিন লাতু এবং এএইচএম খায়রুল আলম সেলিমসহ স্থানীয় নেতাদের ও  এমপি হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেন। তাছাড়া জেলা শহর মাইজদীর অনেক ত্যাগী নেতা কর্মীর ও স্বপ্ন ভঙ্গুর করেন। 

#জনাব_ওবায়দুল_কাদের_এমপি
আকস্মিকভাবে অভিনব পদ্ধতিতে আপনার সহোদর শুধু নোয়াখালী নয়, গোটা দেশকে জাগিয়ে দিল। গনতন্ত্র পুনরুদ্ধার, জনগণের ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা, মাতাল ও নারীলোভী এমপি ও তাদের টেন্ডাররবাজী, সন্ত্রাস ইত্যাদি নিয়ে।। নোয়াখালী_৪ এর একজন নাগরিক হিসেবে আমার জানতে ইচ্ছে করছে,,,, 
(১) নোয়াখালী-৪ আসনে কবিরহাটের (নোয়াখালী-৫ আসন) একজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হল কেন?  তিনি তো নোয়াখালী-৫ আসনের জন্য যোগ্য প্রার্থী ছিলেন। তবে জাতীয় নেতা বা কেন্দ্রীয় নেতা হলে দলের বৃহৎ স্বার্থে এভাবে মনোনয়ন দেয়া হয়। 
(২) নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীর প্রভাবশালী নেতা বা  মালেক উকিল পূত্রকে মনোনয়ন না দিয়ে আজ কেন আপনার ভাই উনাদের কথা বলছেন? মালেক উকিল এর নোয়াখালী বলেন কিন্তু তার সুযোগ্য সন্তানকে ২০০৮ এ মনোনয়ন দেয়া হয়নি।। 
(৩) গত কয়েকমাস আগে অনুষ্ঠিত জেলা সম্মেলনে আপনি প্রধান অতিথি ছিলেন। আপনার ঘোষিত কমিটি নিয়ে কেন আপনার ভাই এত বাড়াবাড়ি করছেন? 
(৪) দলের দ্বিতীয় প্রধান ব্যক্তি হিসেবে নোয়াখালী সিটি কর্পোরেশন ঘোষণা সম্ভব হয়নি কেন? 
(৫) মাইজদী বাজার-সোনাপুর সড়কটি কেন আজো প্রশস্ত হয়নি? কোন প্রভাবশালীর কারনে হাজার কোটি টাকা বরাদ্ধের কাজটি বন্ধ হয়ে আছে? 
(৬) আপনার ডিও লেটার দেয়ার পরও কেন সুবর্ণচর পৌরসভা বাস্তবায়িত হয়নি গত সাড়ে তিন বছরে? 
(৭) সোনাপুর_ সুবর্ণচর রেল লাইন সম্প্রসারণ কেন হয়নি?? 
(৮) সুবর্ণচরে নৌ বন্দর ও ইকোনমিক জোন হওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা কেন হবে কোম্পানীগঞ্জে? 
(৯) চরাঞ্চলের সরকারী খাসজমি কেন বেদখল করবে ভুমিদস্যুরা,  জেলার একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক  নেতা থাকতে।। 
(১০) আপনার মতো শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা থাকতে কেন সরকারিকরনের জন্য অনুমোদিত চরজব্বার কলেজটিকে বহাল রেখে সৈকত কলেজকে জাতীয়করণ করতে পারেননি? একটিকে বাতিল করে আরেকটি করায় দলের যে মারাত্মক ক্ষতি করা হল, তা কোনদিন কড়ায় গন্ডায় টের পাওয়া যাবে।।। 
(১১) আওয়ামীলীগের দ্বিতীয় শীর্ষ প্রধান রাজনৈতিক নেতা হিসেবে কেন নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়ন করতে পারেননি?
আরো হাজারো প্রশ্ন,,,,,,,, 
#কার_স্বার্থে_নোয়াখালী_৫_আসনের_প্রতিদ্বন্ধী_ও
#যোগ্য_প্রার্থী_সদর_সুবর্ণচরে_মনোনয়ন_পেলেন।
সুবিধাভোগী এবং নোংরামীর রাজনীতি পরিহার করে স্ব স্ব অবস্থান থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গড়তে নিয়োজিত থাকুন। একটি অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্যহীন রাষ্ট্র বিনির্মানে আপনার অবদান অপরিহার্য,  তবে আওয়ামীলীগ বাঁচাতে বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনাই অনিবার্য।  সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।।।

সোনালীনিউজ/আইএ