• ঢাকা
  • শনিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২০, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
Sonalinews.com

ট্রাম্প-বাইডেনের হ-য-ব-র-ল বাকযুদ্ধ! (ভিডিও)


বাংলা প্রেস, নিউ ইয়র্ক সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০, ১২:০১ পিএম
ট্রাম্প-বাইডেনের হ-য-ব-র-ল বাকযুদ্ধ! (ভিডিও)

ঢাকা : আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এর আগে মার্কিন স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ট্রাম্প-বাইডেনের হ-য-ব-র-ল বাকযুদ্ধ হয়ে গেলো!

প্রথম বিতর্কে মুখোমুখি হয়েছিলেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জো বাইডেন। যুক্তরাষ্ট্রে এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দুই প্রার্থীর মধ্যে তিনটি বিতর্কের প্রথমটিতে ক্লিভল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে উপস্থাপনা করেন ফক্স নিউজ সানডের উপস্থাপক ক্রিস ওয়ালেস। দেড় ঘন্টাব্যাপী বিশৃঙ্খলপূর্ণ বিতর্কে একে অপরকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছে বাইডেনও ট্রাম্প।মার্কিন সংবাদমাধ্যম বাংলা প্রেস এ খবর জানিয়েছে।

করোনা ভাইরাস মহামারি, অর্থনীতি এবং নভেম্বরের নির্বাচনের মর্যাদা নিয়ে এ সময় দুই নেতার বক্তব্যে যেন অগ্নি ঝরছিল। ছিল ব্যক্তিগত আক্রমণ, নাম ধরে ডাকাডাকি। আর যথারীতি জো বাইডেনের বক্তব্যের মাঝখানে ফোঁড়ন কাটছিলেন ট্রাম্প। ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের এ যাবতকালের সবচেয়ে খারাপ প্রেসিডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করেছেন জো বাইডেন। তাকে তিনি দায়িত্বহীন, মিথ্যাবাদী, সঙ, পুতিনের পোষা কুকুর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। পক্ষান্তরে ট্রাম্প বলেছেন, জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে ধ্বংস করতে চান।

জো বাইডেনকে তিনি ‘স্মার্ট’ নন বলে আখ্যায়িত করেন। যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মঙ্গলবার রাতে প্রথম প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কে মুখোমুখি এমনই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে একজন আরেকজনকে ঘায়েল করেন। এ সময় উপস্থাপক ক্রিস ওয়ালেস বিতর্কে কোনো নিয়ন্ত্রণই করেননি। বিতর্কের মধ্যে জো বাইডেন যখন প্রথম সেগমেন্টে সুপ্রিম কোর্ট নিয়ে বক্তব্য রাখছিলেন তখন বার বার তার কথার মধ্যে বিঘ্ন সৃষ্টি করছিলেন ট্রাম্প। এ সময় ক্ষিপ্ত বাইডেন তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন- আপনি কি চুপ করবেন? এটা প্রেসিডেন্সিয়ালসুলভ আচরণ নয়।

পরে ট্রাম্পকে ‘ক্লাউন’ (সঙ), ‘রেসিস্ট’ (বর্ণবাদী) এবং ‘পুতিনস পাপি’ (পুতিনের পোষা কুকুর) হিসেবে আখ্যায়িত করেন বাইডেন। বলেন, আপনি আমেরিকার এ যাবতকালের সবচেয়ে খারাপ প্রেসিডেন্ট। জবাবে ট্রাম্প বলেন, আপনার মধ্যে কোন স্মার্ট কিছু নেই, জো (বাইডেন)। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন জো বাইডেনের কথার মধ্যে বার বার বিঘ্ন সৃষ্টি করছিলেন, তখন এক পর্যায়ে তাকে এমন আচরণ করতে বারণ করেন উপস্থাপক ক্রিস ওয়ালেস। তিনি বলেন, আমি মনে করি মানুষের কাছে আমরা ভালভাবে উপস্থাপিত হতে পারবো যদি আমরা দু’জনেরই কথার মধ্যে কম ফোঁড়ন কাটি। আপনাদের কাছে আমি এটা মানতে আবেদন জানাচ্ছি। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ঠিক আছে। তাকেও এটা মানতে বলুন। ক্রিস ওয়ালেস ট্রাম্পের এ কথার জবাবে বলেন, খোলাখুলি বলি- আপনি বেশি বিঘ্ন সৃষ্টি করছেন। ট্রাম্পের পাল্টা জবাব- তিনিও (বাইডেন) প্রচুর বিঘ্ন সৃষ্টি করছেন।

বিতর্কে বাইডেন বলেন, করোনা নিয়ে প্রেসিডেন্টের কোনো পরিকল্পনা ছিল না। এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, এটা ছিল চীনের ভুল। এরকম হওয়া কখনোই উচিৎ ছিলো না। তবে আমরা দুর্দান্ত কাজ করেছি। এ সময় ট্রাম্প আরো বলেন, বাইডেন এমন পরিস্থিতিতে পুরো দেশ বন্ধ করে দিতেন এবং পুরো দেশকে ধ্বংস করে দিতেন।

এদিকে ট্রাম্পের ১০ বছর ধরে আয়কর না দেওয়ার বিষয়ে বিতর্কে বাইডেন বলেন, আপনি মার্কিন ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ প্রেসিডেন্ট। একজন স্কুল; শিক্ষকও আপনার চেয়ে বেশি আয়কর দেন। এর জবাবে আয়কর নিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনকে অস্বীকার করেন ট্রাম্প। তবে ট্রাম্প বলেছেন ব্যবসায়ী হিসেবে বুদ্ধি খাটিয়ে তিনি যথাসম্ভব কম আয়কর দেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে দ্বিতীয় এবং শেষ বিতর্কটি অনুষ্ঠিত হবে ১৫ ও ২২ অক্টোবর। এদিকে প্রেসিডেন্ট বিতর্ক নিয়ে গঠিত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিশন জানিয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ও কমলা হ্যারিসের মধ্যে বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে ৭ অক্টোবর। ১৯৬০ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্কের প্রথা চলে আসছে। বিতর্কের ধরন সবসময়ই একই। উপস্থাপক প্রশ্ন করেন এবং প্রার্থীরা উত্তর দেন।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

Side banner