• ঢাকা
  • শনিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২১, ১০ মাঘ ১৪২৭

যুদ্ধাপরাধের দায়ে ১৩ অস্ট্রেলীয় সেনা বরখাস্ত


আন্তর্জাতিক ডেস্ক নভেম্বর ২৭, ২০২০, ০৫:৩৯ পিএম
যুদ্ধাপরাধের দায়ে ১৩ অস্ট্রেলীয় সেনা বরখাস্ত

ঢাকা : আফগানিস্তানে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ১৩ সেনাকে বরখাস্ত করতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। শুক্রবার এমন তথ্য জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।

দেশটির সেনাপ্রধান রিক বার বলেন, এসব সেনাকে প্রশাসনিক পদক্ষেপের নোটিশ দেয়া হয়েছে। এরপর তারা যদি সফলভাবে আপিল করতে ব্যর্থ হয়, তবে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদের বরখাস্ত করা হবে। এএফপির খবর।

কয়েক বছরের তদন্ত শেষে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার অভিজাত বিশেষ বাহিনী আফগানিস্তানে বেআইনিভাবে ৩৯ বেসামরিক নাগরিক ও বন্দিকে হত্যা করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের জন্য ‘রক্ত’ ঝরাতে প্রতিরক্ষাহীন বন্দিদের হত্যা করতে সেনাদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছিলেন জ্যেষ্ঠ কমান্ডাররা।  অর্থাৎ ‘রক্তপাতে’ সেনাদের অভ্যস্ত করে তুলতে এভাবে তাদের দিয়ে কাউকে ‘প্রথম হত্যা’ করানো হতো। বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, সম্ভাব্য ফৌজদারি বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে সাবেক ও বর্তমান ১৯ সেনার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০০৫ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে আফগানিস্তানে বিশেষ বাহিনীর আচরণ নিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত তদন্তে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

অস্ট্রেলিয়ার জেনারেল অ্যাঙ্গুস জন ক্যাম্পবেল বলেন, ২৩টি ভিন্ন ভিন্ন ঘটনায় অস্ট্রেলীয় বিশেষ বাহিনীর সেনাদের হাতে ৩৯ জনকে বেআইনিভাবে হত্যার বিশ্বাসযোগ্য তথ্য আমাদের কাছে আছে।

তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের উত্তাপের’ বাইরে গিয়ে এসব হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে। সামরিক আচরণ ও পেশাগত মূল্যবোধ গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠে এসেছে তদন্তে। বেসামরিক নাগরিক ও কারাবন্দিদের বেআইনিভাবে হত্যাকাণ্ড কখনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না বলেও জানান ক্যাম্পবেল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যাদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল, তাদের অধিকাংশকে আগেই ধরে আনা হয়েছিল। নিহতদের মধ্যে বন্দি, কৃষক, শিশু ও স্থানীয় আফগান নাগরিকরা রয়েছেন।

প্রতিবেদনের নির্দেশনা অনুসারে ক্যাম্পবেল বলেন, অস্ট্রেলীয় সামরিক বাহিনীর বর্তমান ও সাবেক ১৯ সদস্যকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে যথেষ্ট প্রমাণ আছে কিনা; তা নিশ্চিত হতে তাদের বিশেষ তদন্তকারীদের হাতে সোপর্দ করা হবে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিন্ডা রেইনল্ডস গত সপ্তাহে বলেন, হেগ শহরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে স্থানীয় বিচারকে অস্বীকার করতে পারে। ক্যানবেরাকে এমন পরামর্শই দেয়া হয়েছে।

এর আগে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেন, এই তদন্ত প্রতিবেদনে অস্ট্রেলীয়দের জন্য শক্ত ও কঠিন সংবাদ নিয়ে আসতে পারে।

তালেবানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ হিসেবে ২০০২ সাল থেকে আফগানিস্তানে অস্ট্রেলিয়ান সেনারা অবস্থান করছেন। দেশটিতে এখনও তাদের দেড় হাজার সেনা রয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদন জানায়, তদন্তাধীন বছরগুলোতে যেসব অন্যায় ঘটেছে, এই প্রতিবেদন তা তুলে ধরতে সম্ভবত ব্যর্থ হয়েছে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই