টুং টাং শব্দে মুখরিত চুয়াডাঙ্গার কামারপাড়া

  • চুয়াডাঙ্গা প্র‌তি‌নি‌ধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মে ২৪, ২০২৬, ০১:৩৮ পিএম
টুং টাং শব্দে মুখরিত চুয়াডাঙ্গার কামারপাড়া

ছবি : প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গা: আর মাত্র কয়েক দিন পর কোরবানির ঈদ। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুত করার জন্য ছুরি, বটি, দা, চাপাতি, ডাঁসাসহ বিভিন্ন উপকরণ তৈরি ও পুরাতন যন্ত্রপাতি ঘষামাজার কাজ সেরে নিচ্ছেন সবাই। এই কাজে ব্যস্ততা বেড়েছে চুয়াডাঙ্গার কামারদের। সেই সাথে বেড়েছে তাদের আয় রোজগারও। লোহাকে কয়লার আগুনে পুড়িয়ে লাল টকটকে করে ঠেঙ্গিয়ে-ঠেঙ্গিয়ে তৈরী করা হচ্ছে দেশীয় অস্ত্র। যেন টুং টাং শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে কামার পাড়া।

চুয়াডাঙ্গা চারটি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কামাররা এসব কাজে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাদের দম ফেলার মত সময় নেই।

জীবননগর উপজেলার হাসাদাহা গ্রামের শ্রী অনীল কুমার কর্মকার একজন কামার। তিনি দীর্ঘ ৪৮ বছর এই কামার শিল্পের সাথে জড়িত। এখন তার একমাত্র ছেলে শ্রী অজশ কুমার কর্মকারকে সাথে নিয়ে এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সারা বছরেই তারা এই কাজ করে থাকেন। তবে কুরবানীর ঈদ আসলেই দা, বটি, ছুরি, ডাঁসা তৈরি ও পুরাতন উপকরণগুলো ঘষামাজার কাজের চাপ পড়ে যায়। কাজের প্রচণ্ড চাপ তার ওপর বিদ্যুতের লোডশেডিং। বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচন্ড গরমের মধ্যে আগুনের পাশে বসে কাজ করাটা তাদের জন্য অনেক কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যে কাজগুলো করার অর্ডার নেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র সেই কাজগুলোই করছেন। নতুন করে কাজের অর্ডার আর নিচ্ছেন না তারা।

এ কারণে ১ কেজি ওজনের লোহার একটি দা বা বটি তৈরি করতে ১৫০০ টাকা নিয়ে থাকি। এছাড়াও ছুরি তৈরি করতে ছুরির সাইজ অনুযায়ী টাকা নেওয়া হয়। পুরাতনগুলো ঘষামাজা করতে ১০০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০ টাকা নিয়ে থাকে।

চুয়াডাঙ্গা মুন্সীগঞ্জ এলাকার অনিল কর্মকার জানান, এখন অনেক কাজের চাপ। কোরবানি ঈদের আর কয়েকদিন বাকি রয়েছে। বছরে অন্য সময় কাজ কম থাকলেও এখন কাজের চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি। ১টিন কয়লার দাম ৮০ টাকা। একজন শ্রমিকের হাজিরা দিতে হয় ৭০০ টাকা। এছাড়াও অন্য খরচ রয়েছে। এ কাজ করে কোন রকমে সংসার চলে। কাজের উপর নির্ভর করে টাকা নেওয়া হচ্ছে। কাজের এত চাপ ভাত খাওয়ার মত সময় নেই।

পিএস

Link copied!