টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সাবিনা আক্তার নামে এক প্রেমিকার ঘরে পরকীয়া প্রেমিক বিএনপি নেতা সফিক সিকদারকে আটক করেছে জনতা।
সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ওই নারীর বাড়ি ঘেরাও করে তাদের দুজনকে আটক করে বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের সোনালিয়া গ্রামে। সফিক সিকদার একই ওয়ার্ডের কটামারা গ্রামের রহমান সিকদারের ছেলে। সফিক বাঁশতৈল ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোনালিয়া গ্রামের সামান মিয়ার মেয়ে সাবিনা আক্তারের একই এলাকায় বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক মাস পর স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে তিন বছর আগে সৌদিআরব চলে যান। কয়েক মাস আগে তিনি দেশে ফেরেন। এরমধ্যে কটামারা গ্রামের দুই সন্তানের জনক সফিক সিকদারের সঙ্গে সাবিনার পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সফিক রাতে সাবিনার বাড়ি আসে। বিষয়টি এলাকার লোকজনের নজরে আসলে সোমবার রাতে গোপনে পাহারার ব্যবস্থা করেন। বিষয়টি সফিকের অজানা ছিল। রাত ১১টার দিকে সফিক ওই নারীর ঘরে ঢুকলে স্থানীয় লোকজন রাত ১২টার দিকে বাড়ি ঘেরাও করে তাদের আটক করেন। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ছাড়াও শত শত মানুষ ওই বাড়িতে জমায়েত হন।
খবর পেয়ে বাঁশতৈল ফাঁড়ির উপপরিদর্শক আতাউর রহমান ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। এছাড়া বাঁশতৈল ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান, উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা সাবেক প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন আল আজাদ, বাঁশতৈল ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম আক্কাছ, ৮নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কিয়াম উদ্দিনসহ স্থানীয় লোকজন উপস্থিত হন বলে জানা গেছে। পরে সফিক ও সাবিনার সম্মতিতে ৫ লাখ টাকার কাবিনে বিয়ের সিদ্ধান্তে তাদের উদ্ধার করেন।
বাঁশতৈল ফাঁড়ির উপপরিদর্শক আতাউর রহমান জানান, জনতার হাতে নারী পুরুষ আটকের খবর শুনে ঘটনাস্থলে যান। পরে রাজনৈতিক দলের নেতাদের উপস্থিতিতে মীমাংসার পক্রিয়া শুরু হলে তারা চলে আসেন বলে জানান।
বাঁশতৈল ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান জানান, সাবিনা ও সফিকের সম্মতিতে পাঁচ লাখ টাকার কাবিনে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরে রাত ২টার দিকে আলাউদ্দিন আল আজাদসহ নেতৃবৃন্দ দুজনকেই নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান বলে জানান।
এম
আপনার মতামত লিখুন :