চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে শ্রমিক লীগ-ছাত্রলীগের সংঘর্ষ, আহত ২

  • লালমনিরহাট প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুন ৩, ২০২০, ০৩:৩২ পিএম
চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে শ্রমিক লীগ-ছাত্রলীগের সংঘর্ষ, আহত ২

লালমনিরহাট: লালমনিরহাটে  চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে বাস শ্রমিকদের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।  মঙ্গলবার (২ জুন) রাত ৮ টার দিকে জেলার কেন্দীয় বাসষ্ট্যান্ড ও ঢাকা বাসষ্ট্যান্ডে এ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে । পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং তাদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। 

আন্দোলনরত শ্রমিক নেতারা জানায়, মালিকরা নির্ধারিত ১৫শ টাকা চেইন আদায় করলেও সরকারী নির্দেশনার অযুহাতে শ্রমিকদের কল্যাণ ট্রাস্টের ১শ ১০টাকা আদায় করতে বাধা দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে জেলা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় দুই গ্রুপের সমর্থিতরা একত্রিত হয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার শুরু করে। 

অন্যদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ অফিস থেকে ঘটনাস্থলে আসার পথিমধ্যে ছাত্রলীগ কর্মী ও শ্রমিক নেতা কর্মীদের মধ্যে বাকবিতন্ডায় সৃষ্টি হয় এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষ হয়। এতে ছাত্রলীগ নেতা জাকির ও আওরঙ্গ আহত হয় । পরে তাদের কে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।  

সাধারণ শ্রমিক আন্দোলন কমিটির নেতা নুরনবী বকুল জানান, ১১ বছর ধরে বর্তমান কমিটি শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডের কথা বলে কোটি কোটি টাকা উত্তোলন করেছে। তারা করোনাপরিস্থিতিতে সাধারণ শ্রমিকের কোন খোঁজ নেয়নি। সরকার কোন চেইন চাঁদা উত্তোলনে নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা তাদের গুন্ডাবাহিনী দিয়ে চেইনের নামে প্রতিটি গাড়ি হতে ২৭০ টাকা করে জোরপূর্বক উত্তোলণ করার চেষ্টা চালায়। তা আমরা বন্ধ করে দিয়েছি। আমরা সাধারণ শ্রমিক আমরা কোন রাজনীতি বুঝিনা। মালিক সমিতি ইউনিয়ন বুঝিনা। যারা আমাদের দুর্দিনে পাশে ছিল না। তাদের দিয়ে কি হবে। আমরা সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে চলবো।

শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহম্মেদ জানান, মটর মালিক সমিতির মতে তথাকথিত শ্রমিক নামধারী গুন্ডারা বাসষ্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়। আমরা শ্রমিকরা করোনা পরিস্থিতিতে মটরমালিক সমিতির কোন আর্থিক সহয়তা পাইনি। তাই মালিক সমিতি বাস হতে জিপির নামে চাঁদা উত্তোলন করে তা বন্ধ করার দাবি তুলেছি। সেই কারনে বাসষ্ট্যান্ড মালিক সমিতির গুন্ডারা তা দখলে নিতে চায়।

এদিকে মটর মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জানান, শ্রমিক আন্দোলনের সাথে মটরমালিকের কোন সর্ম্পক নেই। জিপির অর্থ মালিকদের মটর মালিকরা সিদ্ধান্ত নিয়ে আপদকালীন এই অর্থ তুলে। এটা বন্ধ করার অধিকার মটরমালিকের শ্রমিকদের নেই। মটরমালিক সমিতির সদস্যরা যদি মনে করে জিপি দেবেনা। মালিক সমিতি নিবেনা। 

লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহফুজ আলম জানায়, আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মালিক ও শ্রমিকদের দুই গ্রুপের মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা চলে আসছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তৎপর রয়েছে। বর্তমানে সার্বিক পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।

সোনালীনিউজ/এসএ/এসআই

Link copied!