রংতুলির ছোঁয়ায় শেষ আঁচড় দিতে ব্যস্ত শিল্পীরা

  • জামাল উদ্দিন বাবলু, লক্ষ্মীপুর | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২২, ০৫:৫৭ পিএম
রংতুলির ছোঁয়ায় শেষ আঁচড় দিতে ব্যস্ত শিল্পীরা

লক্ষ্মীপুর: শরতের কাশফুল, ঢাকের বাদ্য আর প্রতিমা তৈরিতে কারিগরদের ব্যস্ততা জানান দিচ্ছে দেবী দূর্গার আগমনী বার্তা। আগামী পহেলা অক্টোবর মহাষষ্ঠির মধ্যে দিয়ে শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ উপলক্ষে লক্ষ্মীপুর জেলার ৭৯ টি মন্ডপে দিনরাত প্রতিমা তৈরিতে ব্যাস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা। ০১ অক্টোবর পুজা শুরু হয়ে ৫ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে। 

আয়োজকরা বলছেন, এবারে দূর্গা মায়ের আগমন ঘটবে গজে আর যাবে দোলায়, সুজলা সুফলা শষ্য শ্যামলায় ভরে যাবে দেশ আর ভাতৃত্বের বন্ধন ও রোগমুক্তির আশায় অন্যরকম আনন্দে ভাসছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। তারা বলছেন, বিগত বছরের তুলনায় এ বছর ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। এরপরও থেমে নেই তাদের আয়োজন। রকমারী আলোকসজ্জার বর্ণালী বাহারে সাজানো হচ্ছে পুজা মন্ডপ ও তার আশপাশ এলাকা। হাতে আছে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এবছর বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রতিটি মন্ডপে স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা। সব মিলে উৎসবের রংয়ে সাজছে উপকুলীয় এ জেলা লক্ষ্মীপুর। 

জানা যায়, দেবীদুর্গা অসুর দমনের শুভ শক্তি নিয়ে পৃথিবীতে আগমন করবেন। দুষ্টের দমন আর সৃষ্টের পালনের জন্যই দশহস্তে দেবী দূর্গা স্বর্গ থেকে মর্ত্যলোকে আগমন করেছিলেন। এরই ধারাহিকতায় হিন্দু সম্প‍্রপ্রদায়ের মানুষ গুলো প্রতি বছর শারদীয় উৎসব হিসেবে দূর্গাপূজা উদযাপন করে আসছে। এবার জেলার ৫টি উপজেলায় ৭৯টি পুজা মন্ডপে এবার দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। অপরদিকে পরিবার পরিজনের জন্য কেনা কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। ঘরে বাইরে পূজাকে ঘিরে চলছে ব্যস্ততা। জামা কাপড় তৈরি, কেনা-কাটায় সরগরম শহরের বিপণী বিতানগুলোতে। শারদীয় দুর্গা উৎসবকে কেন্দ্র করে চারপাশে চলছে এখন উৎসবের আমেজ। 

কয়েকটি পূজামন্ডপে ঘুরে দেখা যায়, কাদা মাটি, বাঁশ, খড় ও সুতলি দিয়ে তিলতিল করে গড়ে তোলা দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরিতে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। বিভিন্ন মন্দিরে একেক জন কারিগর দুর্গা পূজা শুরুর ১০দিন থেকে ১৫দিন আগে থেকেই প্রতিমা তৈরিতে সময় নিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দক্ষ কারিগররা জেলার বিভিন্ন মন্দিরে শুরু করেন এসব প্রতিমা বানানোর কাজ। ইতিমধ্যে অধিকাংশ পূজামন্ডপের প্রতিমা তৈরির মাটির প্রধান কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। আগামী দুই একদিনের মধ্যে কারিগররা তাদের নিপুন হাতের প্রতিমা রং করার কাজ শুরু করবেন। 

প্রতিমা শিল্পীরা জানান, বংশ পরম্পরায় এ পেশায় জড়িত আছেন তারা। বাপ দাদার কাছ থেকে শেখা কাদা মাটি আর খড় দিয়ে কিভাবে প্রতিমা তৈরির কাজ করতে হয়। বছরের এই সময়ে কাজের চাপ বেশি তাই রাত দিন পরিশ্রম করে মনের মাধুরী মিশিয়ে দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করছে। এক সেট প্রতিমা তৈরি করতে তাদের সময় লাগে ১ সপ্তাহ থেকে ২ সপ্তাহ। তবে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধিতে মুজুরি নিয়ে অসন্তোষ ও আক্ষেপের কথা জানালেন প্রতিমা শিল্পীরা। 

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ লক্ষ্মীপুর শাখার সাধারণ সম্পদক স্বপন দেবনাথ বলেন, মন্ডপগুলোর নিরাপত্তায় ইতিমধ্যে প্রশাসনের উদ্যোগে সিসি ক্যামরা বিতরণ করা হয়েছে। জেলায় বরাবরই শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন হয়। এবারও এর ব্যত্যয় ঘটবেনা বলে জানান তিনি। 

লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. মাহফুজ্জামান আশরাফ সোনালীনিউজকে বলেন, দুর্গোৎসব সফল করতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন দফায় দফায় বৈঠক করছেন আয়োজকদের সঙ্গে। পূজায় নিরাপত্তায় প্রতিটি উপজেলায় ইউনিয়ন ভিত্তিক ও মন্ডপ ভিত্তিক টহল টিম গঠন করা হয়েছে। শারদীয় দূর্গা পূজা নির্ভিঘ্নে সম্পন্ন করতে পারে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও ৪ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ সব রকম প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানান জেলা পুলিশ সুপার। 

সোনালীনিউজ/এম
 

Link copied!