কুমিল্লায় জমে উঠেছে পশুর হাট

  • কুমিল্লা প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২৩, ০১:১৪ পিএম
কুমিল্লায় জমে উঠেছে পশুর হাট

কুমিল্লা: ঈদের চার দিন আগেই কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন হাটে আসতে শুরু করেছে কোরবানির গরু ছাগল সহ অন্যান্য পশু। বেশকিছু কোরবানির পশু নিয়ে বসেছেন ব্যাপারীরা।

দুই-এক দিনের মধ্যেই কোরবানির পশুতে পুরোপুরি ভরে উঠবে কুমিল্লা নগরীসহ জেলার ১৭ উপজেলার ৪৩০ টি কোরবানির পশুর হাট। 

শনিবার  (২৫ জুন) সকালে কুমিল্ল সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী পশুহাট ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে এ হাটে বিভিন্ন যানবাহনে করে স্থানীয় ও দূর দূরান্ত থেকে খামারি ও গরু ব্যবসায়ীরা গরু, খাসি, ছাগল, ভেড়া নিয়ে ভিড় জমাতে শুরু করেন। এ হাটে ক্রেতা বিক্রেতাদের উপস্থিতিতে জমে উঠেছে কুরবানী পশুর হাট।

জেলা সদর দক্ষিণ উপজেলার পূর্ব জোড়কনন ইউনিয়নের থেকে ছাগল কিনতে এসেছেন আমিন সরকার। তিনি বলেন, কোরবানি পশু হিসেবে এবার ছাগলকে বেছে নিছি । অন্যন্যা বছরের চাইতে এবার দামও বেশি মনে হচ্ছে । সাধ্যের মধ্যে পেলে একটা ছাগল ক্রয় করবো। বেপারীরা ছাগলের দাম বেশি চাচ্ছে। 

গরু কিনতে আসা জেলার চৌদ্দগ্রামের মাইনুল বলেন, চার  ভাগে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকার মধ্যে একটি গরু কোরবানি দিবো। এ কারণে  ভালো একটি গরু খুঁজছি। তবে দাম বেশি হওয়ায় চিন্তায় করছি। তবে বাজার তো মাত্র শুরু হয়, দেখি আর তো কয়েকটা বাজার আছে, মিল মতো পাইলে  কিন্না পেলমু।

সুয়াগাজী বাজারে গরু বিক্রি করতে আসা ক্ষুদ্র খামারি আহসান হাবিব বলেন, ‘শখের বসে তিন মাসের মোটাতাজাকরণ প্রজেক্টে তিনি দশটি গরু কোরবানীর জন্য প্রস্তুত করেন এবং এগুলো বিক্রিও করেছেন। বাজারে প্রতিদিন যেভাবে গরুর খাদ্যের দাম বেড়ে চলেছে এতে করে কর্মচারী রেখে গরু পালন করে খামারিরা লাভের মুখ দেখতে পাবেন না। বরং হাত বদল হয়ে পশু ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছেন বলে জানান তিনি।

এদিকে জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, কুমিল্লা জেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে এবছর অন্তত ৪৩০ টি কোরবানির পশুর হাট ইজারা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে স্থায়ী পশুর হাট ৩৬ টি। অস্থায়ী পশুরহাট ৩৯৪ টি। সবচেয়ে বেশি পশুর হাট বসবে মুরাদনগর ও বরুড়া উপজেলায় চল্লিশটি করে, এছাড়া চৌদ্দগ্রাম উপজেলাতেও পশুর হাট বসবে ৩৫ টি।

এছাড়া কোরবানির পশুর হাটের ব্যবস্থাপনা নিয়ে কঠোর অবস্থানে আছে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ । 

জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান জানান, ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে পাশে কোথাও পশুর হাট বসানো যাবে না। ব্যবসায়ীদের কোন হাটে আসতে বাধ্য করা যাবে না। সমগ্র জেলায় হাটগুলোর উপর  আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ নজরদারি থাকবে।

এছাড়া হাসিলের হার উন্মুক্ত অবস্থায় হাটে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। ইজারাদাররা পশুর হাটে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট থাকবেন।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম বলেন, প্রতিটি হাটে জেলা প্রশাসনের একটি টিমের মাধ্যমে  উপজেলাগুলোতে কোরবানির পশুর হাট  সরকারি হাসিলের মূল্য তালিকা প্রকাশ্যে টানিয়ে দেয়া হয়েছে।

এছাড়া হার্টের পরিষ্কার পরিছন্নতা, ভেটেরিনারি চিকিৎসক বসা ও জাল টাকা সনাক্তকরণ মেশিন ব্যবস্থাপনায় কাজ করবেই ইজারাদাররা।

সোনালীনিউজ/এমএন/এসআই

Link copied!