আল্লাহর কী পরিকল্পনা, ধানের শীষের বিপক্ষে লড়াই করতে হচ্ছে: রুমিন ফারহানা

  • ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৯, ২০২৫, ০৪:২৮ পিএম
আল্লাহর কী পরিকল্পনা, ধানের শীষের বিপক্ষে লড়াই করতে হচ্ছে: রুমিন ফারহানা

ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের রাজনৈতিক সমীকরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুর ২টার দিকে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন তিনি। এ সময় বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে রুমিন ফারহানা ছিলেন বিএনপির অন্যতম শক্তিশালী মনোনয়ন প্রত্যাশী। দীর্ঘ আলোচনা ও সমন্বয়ের পর আসনটি জোটের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি। জোটের প্রার্থী হিসেবে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব এরই মধ্যে তার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

এই সিদ্ধান্তের ফলে জোটের ভেতরে কৌশলগত সমঝোতা থাকলেও মাঠের রাজনীতিতে ভিন্ন চিত্র তৈরি হয়েছে। দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে নামার ঘোষণা দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন রুমিন ফারহানা।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রুমিন ফারহানা। তিনি তার বাবা ভাষা সংগ্রামী অলি আহাদের স্মৃতির কথা তুলে ধরেন। বলেন, আল্লাহর পরিকল্পনা মানুষের বোঝার বাইরে। তার বাবা ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের প্রবল জোয়ারের বিপক্ষে স্বতন্ত্র নির্বাচন করেছিলেন। সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির মতো ২০২৬ সালে এসে ধানের শীষের জোয়ারের বিপক্ষে তাকে স্বতন্ত্র লড়াইয়ে নামতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মানুষের চোখে যে আশা, ভালোবাসা, আস্থা ও বিশ্বাস দেখছেন, সেটিই তার বড় শক্তি। এই বিশ্বাসের প্রতিদান দিতে পারাই তার প্রধান লক্ষ্য।

সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলা এবং বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা ও বুধন্তি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনটি বরাবরই ভিআইপি আসন হিসেবে পরিচিত। জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অনেক নাম এই আসনের সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন।

রুমিন ফারহানার স্বতন্ত্র প্রার্থিতা এই আসনে ভোটের লড়াইকে ত্রিমুখী প্রতিযোগিতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। জোটের হিসাব, দলীয় সিদ্ধান্ত এবং ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা-এই তিনের টানাপোড়েনে আসনটির ভোটের রাজনীতি এবার আরও জটিল ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।

জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে নামার এই পদক্ষেপ শুধু একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি স্থানীয় রাজনীতিতে ভোটারদের মনোভাব ও দলীয় কৌশলের সীমাবদ্ধতাও সামনে এনে দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ভোটের রায়ই নির্ধারণ করবে-এই স্বতন্ত্র পথে হাঁটা কতটা কার্যকর হয়।

এসএইচ 

Link copied!