জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের সংকট চরমে, বিপাকে ঈশ্বরদীর রোগীরা

  • ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৭, ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম
জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের সংকট চরমে, বিপাকে ঈশ্বরদীর রোগীরা

ছবি: প্রতিনিধি

পাবনার ঈশ্বরদীতে জলাতঙ্ক (র‍্যাবিস) প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ্যাকসিন না থাকায় বেসরকারি ফার্মেসিতেও বেশি টাকা দিয়েও এই ভ্যাকসিন মিলছে না। ফলে কুকুর, বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত রোগীরা পড়েছেন চরম বিপাকে।

দীর্ঘদিন ধরে ভ্যাকসিনের ঘাটতির কারণে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী হাসপাতালে এসেও ভ্যাকসিন না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। অনেককে বাধ্য হয়ে পাবনা, নাটোর, রাজশাহী এমনকি ঢাকায় আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

স্ত্রীর জন্য ভ্যাকসিন নিতে আসা আতাবর আলী বলেন, তাঁর ছেলেকে কয়েক দিন আগে বিড়াল কামড়েছিল। গত পরশুদিন ভ্যাকসিন দেওয়া শেষ হয়েছে। শুক্রবার ১৬ জানুয়ারি রাতে তাঁর স্ত্রীকে আবার বিড়াল কামড়ায়। শনিবার সকালে ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য হাসপাতালে যোগাযোগ করলে ভ্যাকসিন পাওয়া যায়নি। এরপর ঈশ্বরদীর সব ফার্মেসিতে খোঁজ করেও ভ্যাকসিন পাওয়া যায়নি। ছেলেকে বিড়াল কামড়ানোর সময় নাটোর ও রাজশাহী থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করতে হয়েছিল।

একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে রফিকুল ইসলাম বলেন, তিন দিন পর রাজশাহী থেকে এক হাজার টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন আনাতে হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চাহিদা অনুযায়ী জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন না পাওয়া লজ্জাজনক পরিস্থিতি।

ঈশ্বরদী উপজেলার একাধিক ফার্মেসির মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ইনসেপ্টা ও পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালসের অনিয়মিত ভ্যাকসিন সরবরাহের কারণে সংকট আরও বেড়েছে। কোনো বিকল্প না থাকায় রোগীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. আলী এহসান বলেন, গত বছরের নভেম্বর থেকেই সরকারি পর্যায়ে ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ঈশ্বরদীতে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা অনেক বেশি। প্রতিনিয়ত কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত রোগীরা হাসপাতালে আসছেন। জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট থাকায় অনেক রোগী বিমুখ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত সংকট নিরসনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এসএইচ 


 

Link copied!