ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় শিক্ষা উপকরণ স্টলে শিশু-কিশোর ও শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করছে। মেলার যত সময় যাচ্ছে এখানে তত শিশু- কিশোর ও শিক্ষার্থীদের ভিড় বাড়ছে। ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা সহজেই কারো সহায়তা ছাড়াই বিজ্ঞানবাক্সের মাধ্যমে পাঠ্যবইয়ের বিজ্ঞান বিষয়ের এক্সপিরিমেন্টগুলো অনুসন্ধান, গবেষণা ও তথ্য পরীক্ষা করতে পারে। সেজন্য শিক্ষা উপকরণের পাশাপাশি বিজ্ঞানবাক্সের চাহিদাও বেশি। কোমলমতি শিশুরা এখন মোবাইল ও কম্পিউটারে গেমনির্ভর হয়ে পড়ছে। তাতে তাদের চিন্তাশক্তি বিকশিত হচ্ছে না। এই শিশুরা যদি খেলতে খেলতে বিজ্ঞানের খুঁটিনাটি শিখতে পারে তাহলে তাদের চিন্তার শক্তি বিকশিত হবে।
নারায়ণগঞ্জের পিতলগঞ্জ আব্দুল হক ভুঁইয়া ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে নিয়ে মেলায় আসা শিক্ষক দিপু রহমান বিজয় ও আমির হোসেন পর্যায়ক্রমে এভাবেই বিজ্ঞান শিক্ষার গুরুত্বের বিষয়ে তাদের মতামত শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন। মেলায় এসেই তার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তারা শিক্ষা উপকরণসহ বিজ্ঞানবাক্সের স্টলে নিয়ে আসেন। ঐ স্টলে শুধু তাদের স্কুলের শিক্ষার্থীরাই নয়, ছিল অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিশু-কিশোরদের ভিড়।
চুম্বকের ২৬টি মজার খেলা নিয়ে চমক, ক্যাপ্টেন কিউরিয়াস দুটি মজার সায়েন্স গেম, তড়িৎ তা-ব ও আলোর ২০টি মজার খেলা নিয়ে আলোর ঝলক, ট্যানগ্রাম বুদ্ধি বাড়ানোর প্রাচীন চাইনিজ পাজল গেম, ২০টি ফোকাস চ্যালেঞ্জ, তড়িতের ২০টি মজার খেলা, ২০টি খেলা নিয়ে রসায়ন রহস্য, অদ্ভুত মাপজোখ, ট্যানোগ্রাম, স্মার্টকিট, শব্দকল্প মেলায় প্রদর্শন ও বিক্রি করছে অন্যরকম বিজ্ঞানবাক্স। মহাকাশ এবং সৌরজগৎ বিষয়ক নতুন বিজ্ঞানবাক্স ও ক্লাসভিত্তিক পঞ্চম শ্রেণির ২৭টি এক্সপেরিমেন্ট শিশুদের আকর্ষণ করছে। নিজ হাতে ব্যাবহারিক জ্ঞান সমৃদ্ধ হচ্ছে। বিজ্ঞানবাক্সের পাশাপাশি মেলায় শিক্ষা উপকরণের স্টলে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়।
মেলার ক্রেতা-বিক্রেতা ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এজন্য নয় শতাধিক পুলিশসহ পর্যাপ্ত সংখ্যক আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, র্যাব, গোয়েন্দা সংস্থাসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত রয়েছে।
ঢাকার মিরপুর থেকে মায়ের সঙ্গে আসা স্কুলছাত্রী সুমাইয়া আক্তার বলেন, মেলা থেকে মজার বিজ্ঞানবাক্স নিয়েছি। খুব মজা পাচ্ছি। নিজে নিজে অনেক কিছু বানাবো।
শিক্ষা উপকরণ বিজ্ঞানবাক্সের বিক্রয় প্রতিনিধি নাসিমা ইয়াসমিন বলেন, সাত বছর বয়স থেকে ১৬ বছর বয়সিদের জন্য বিজ্ঞানবাক্স ব্যবহার করতে পারে। তবে চার থেকে ছয় বছরের কৌতূহলী শিশুরাও বিজ্ঞানবাক্সের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করছে। বয়স কিংবা শ্রেণি অনুযায়ী বাক্স তৈরি করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এবার শিক্ষা উপকরণ বিজ্ঞানবাক্স প্যাভিলিয়নে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভিড় লেগেই থাকে। বিক্রিও হচ্ছে প্রচুর।
মেলার ইজারাদার ডিজি ইনফোটেক লিমিটেডের অপারেশন ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম হৃদয় বলেন, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রী ও শিশুদের টিকিটের মূল্য ২৫টাকা করা হয়েছে। তবে মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী ও জুলাই আহতরা কার্ড দেখিয়ে প্রবেশ মূল্য ছাড়াই মেলায় প্রবেশ করতে পারছে।
উল্লেখ্য প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত, তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিন রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা চলে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়ার ১১টি প্রতিষ্ঠান এবারের মেলায় অংশগ্রহণ করছে।
এম
আপনার মতামত লিখুন :