পাওনা টাকার জন্য ডেকে ইয়াবা সেবনে ছাত্রলীগ কর্মীকে হত্যা

  • লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৬, ২০২৬, ১০:০৮ এএম
পাওনা টাকার জন্য ডেকে ইয়াবা সেবনে ছাত্রলীগ কর্মীকে হত্যা

লক্ষ্মীপুরে ছাত্রলীগ কর্মী ফজলে রাব্বি বাবুকে (২১) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। পাওনা টাকার জন্য ইয়াবা সেবনে ডেকে নিয়ে মুগুর দিয়ে আঘাত ও পরে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় হত্যাকারী মো. শাহেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামি মাহফুজুর রহমান ওরফে কানা মাহফুজকে গ্রেপ্তারের জন্য খুঁজছে পুলিশ। 

রোববার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। 

গ্রেপ্তার শাহেদ হাজিরপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব আলাদাদপুর গ্রামের মৃত আবুল বাশারের ছেলে। তিনি ১১ মাস আগে সৌদি আরব থেকে দেশে আসেন। পলাতক আসামি মাহফুজ একই এলাকার বাসিন্দা। নিহত রাব্বি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন। 

প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ জানায়, গত ১৭ জানুয়ারি রাতে রাব্বি নিখোঁজ হয়। পরদিন তার বাবা পূর্ব আলাদাদপুর গ্রামের বেলাল হোসেন চন্দ্রগঞ্জ থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরী করেন। ঘটনাটি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রায়হান কাজেমীর তত্ত্ববধানে চন্দ্রগঞ্জ থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদসহ তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে শাহেদ ও মাহফুজকে সন্দেহ করে। তবে তারা আত্মগোপনে চিল। টানা অভিযান চালিয়ে রাজধানীর দোহার এলাকা থেকে শাহেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিকে উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের চন্দ্রপ্রবাহবাঘ গ্রামের একটি টয়লেটের সেফটি ট্যাংকের ভেতর থেকে স্থানীয়দের সহযোগীতায় রাব্বির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাহেদকে জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার রহস্য উন্মোচিত করে। 

শাহেদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, রাব্বি, মাহফুজ ও শাহেদ একসঙ্গে ইয়াবা সেবন করতে। এরমধ্যে রাব্বির কাছ থেকে মাহফুজ টাকা পেতো। কিন্তু সে টাকা দিচ্ছিল না। এজন্য মাহফুজ ও শাহেদ পরিকল্পনা করে রাব্বিকে মেরে তার মোটরসাইকেলটি বিক্রি করে টাকা উসুল করবে। এ ঘটনায় স্থানীয় একটি মসজিদের সামনে মাহফুজ ও শাহেদ ওয়াদা করে। ঘটনার দিন বিকেলে তারা একত্র হয়ে পরিকল্পনা করে রাব্বিকে ইয়াবা সেবনের জন্য ডাকবে। পরে নির্জন বাগানে নিয়ে হত্যার পর তার মরদেহ গুম করে মোটরসাইকেল আত্মসাত করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী শাহেদ মোবাইলফোনে বাবুকে ডেকে চন্দ্রপ্রবাহবাঘ গ্রামে দিঘির পাড়ে আসতে বলে। এশার আজানের আগে রাব্বি দিঘির পাড়ে গেলে শাহেদ ইয়াবা সেবনের কথা বলে তাকে নির্জন বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে গেলেই পরিকল্পনা অনুযায়ী আগ থেকে অবস্থান করা মাহফুজ মুগুর দিয়ে রাব্বির মাথায় আঘাত করে। এতে রাব্বি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে চাদর দিয়ে মাথা প্যাঁচিয়ে গলা চেপে ধরে তাকে এলাপাতাড়ি আঘাত করে। এতে সে মারা যায়। পরে শাহেদ ও মাহফুজ তার কাছে থাকা মোটরসাইকেলের চাবি, ঘড়ি ও মোবাইল নিয়ে যায়। পরে ঘড়িটি তারা দিঘীতে ফেলে দেয় এবং মরদেহও দিঘীর পাড়ে পানিতে নিয়ে রাখে। 

পুলিশ জানায়, শাহেদ ও মাহফুজ পরে চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রির সঙ্গে জড়িত ওমর ফারুকের কাছে তা (বাইক) হস্তান্তর করে। সে যাওয়ার পরে পেট্টোল ঢেলে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে রাব্বির জুতা, হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত চাদর ও বোতল পুড়িয়ে দেয়। চাদর ভেজা থাকায় তা না পুড়লে মুগর ও চাদ পার্শ্ববর্তী একটি ডোবায় ফেলে দেয়। পরে মরদেহ নিয়ে সেফটি ট্যাংকে ফেলে দিয়ে মোবাইলফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যায়। 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, গ্রেপ্তার শাহেদের তথ্যমতে হত্যায় ব্যবহৃত মুগুর উদ্ধার করা হয়েছে। ফারুক মোটরসাইকেলটি রাকিব নামে একজনের কাছে বিক্রি করেছে। তাদের দুইজনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামি মাহফুজকে গেপ্তারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। 

এম

Link copied!