বিচারে সাধারণ মানুষ ও প্রেসিডেন্টে পার্থক্য থাকবে না: জামায়াত আমীর 

  • লালমনিরহাট প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম
বিচারে সাধারণ মানুষ ও প্রেসিডেন্টে পার্থক্য থাকবে না: জামায়াত আমীর 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামীর বাংলাদেশে কোনো বৈষম্য থাকবে না এবং সর্বস্তরে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে। মঙ্গলবার লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারেজ সংলগ্ন হেলিপ্যাড মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, "বিচারে দেখা হবে না কে সাধারণ মানুষ আর কে দেশের প্রেসিডেন্ট।"

জনসভায় স্থানীয় উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, লালমনিরহাট দীর্ঘ সময় ধরে অবহেলিত একটি জেলা। ক্ষমতায় গেলে তিস্তা নদী নিয়ে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে, নদী ভাঙন রোধ করা হবে এবং চরাঞ্চলের কৃষকরা সারা বছর চাষাবাদ করতে পারবে। মোগলহাট স্থলবন্দর পুনরায় চালু করে এলাকার অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ দেওয়া হবে এবং হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে।

হাতীবান্ধা ও লালমনিরহাটের স্বাস্থ্যসেবার অভাব তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৩ লাখ মানুষের ভরসাস্থল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো চিকিৎসক ও যন্ত্রপাতির অভাবে ধুঁকছে। প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিশ্চিত করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসার জন্য জেলা শহর বা রংপুরে ছুটতে না হয়।

তিনি আরও বলেন, যারা অতীতে সাধারণ মানুষকে কষ্ট দিয়েছে তারা এখন ভয়ে আছে, কিন্তু ভয় পাওয়ার কারণ নেই। ন্যায়বিচার সবার জন্য সমান হবে। তিনি আশ্বাস দেন, জনগণের সম্পদ চুরি করা যারা করেছে তাদের মর্যাদার আসনে বসানো হবে। হালাল রুজিতে সবাই বাঁচবে এবং দেশ গড়ার কারিগর হবে।

নারী সমাজকে শ্রদ্ধার আসনে বসানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে জামায়াত আমীর বলেন, দেশের ৯ কোটি নারী মা হিসেবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার সঙ্গে ঘরে, রাস্তায় ও কর্মস্থলে কাজ করবেন। যারা মায়েদের ওপর হাত তোলে, তাদের সতর্ক করা হবে এবং প্রয়োজনে জীবন দিয়ে হলেও তাদের ইজ্জত রক্ষা করা হবে।

সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের বেতন কাঠামোর বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে প্রদত্ত বেতন পর্যাপ্ত নয়। রাষ্ট্রই কর্মকর্তাদের দুর্নীতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যারা আগে সম্মান পাচ্ছেন না, তাদের সম্মান ও পর্যাপ্ত সুবিধা নিশ্চিত করা হবে, এরপর কেউ অপরাধ করলে বিচারের আওতায় আনা হবে।

আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি প্রথম কাজ হবে হ্যাঁ ভোট দেওয়া, এরপর দাঁড়িপাল্লায় ভোট। যারা আগে না ভোটের পক্ষে ছিলেন, তারা জনস্রোত দেখে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে কথা বলছেন।

বক্তব্য শেষে ডা. শফিকুর রহমান লালমনিরহাটের তিনটি ও নীলফামারীর চারটি সংসদীয় আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন। জনসভায় লালমনিরহাট জেলা আমীর অ্যাডভোকেট আবু তাহেরের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য প্রভাষক আতাউর রহমান, লালমনিরহাট–৩ আসনের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এসএইচ 

Link copied!