ময়মনসিংহে পুকুর ভরাটের মহোৎসবে বিলীন ১৬০টি পুকুর

  • ময়মনসিংহ প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মার্চ ৭, ২০২৬, ১২:২৬ পিএম
ময়মনসিংহে পুকুর ভরাটের মহোৎসবে বিলীন ১৬০টি পুকুর

প্রশাসনের উদাসীনতা ও গাফলতির কারনে ময়মনসিংহে চলছে পুকুর ভরাটের মহোৎসব। ইতিমধ্যে ভরাট হয়েছে প্রায় ১৬০টি পুকুর। আর এই পুকুর ভরাটে রয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যর জন্য এটিকে হুমকি মনে করছেন স্থানীয়রা। 

পুকুর ও জলাশয় ভরাট করে অপরিকল্পিত ভাবে গড়ে ওঠছে ময়মনসিংহ শহর। গড়ে তোলা হচ্ছে দালান কোঠা। শহরের আমলাপাড়া, শেওরামুন্সি বাড়ী, নন্দীপাড়া, কালীবাড়ী সহ বিভিন্ন পুকুর ইতিমধ্যে ভরাট হয়ে গেছে প্রভাবশালী মহলের যোগসুত্রে।

সরকারি, অর্পিত্ত সম্পত্তিকৃত ও অন্যান্য মিলিয়ে ১৬৫টি পুকুর ছিল ময়মনসিংহ শহরে। এর মধ্যে ভরাট হয়ে গেছে প্রায় ১৬০টি পুকুর। এভাবে নির্বিচারে পুকুর ভরাট করায় ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবী প্রশাসনের সাথে অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রভাবশালী মহলরা ভরাট করে নিচ্ছে এসব পুকুর, যা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি স্বরুপ। বাকী পুকুর গুলো ভরাট বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্র্যকর ভুমিকা পালন না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

ভরাটকৃত পুকুর পুনঃরুদ্ধার ও পুকুর ভরাটের পায়তারা বন্ধে আন্দোলন করেছে ময়মনসিংহের বিভিন্ন সামাজিক ও পরিবেশ রক্ষার সংগঠন গুলো। জলাশয় সংরক্ষন আইন প্রয়োগের মাধ্যমে  ময়মনসিংহ শহরের পুকুর গুলো পুনঃরুদ্ধার করার দাবী জানিয়ে আসলেও কাজের কাজ হয়নি কিছুই।

ময়মনসিংহ শহরের অনেক জায়গার নামকরন করা হয়েছে পুকুরের নামকে কেন্দ্র করে। গোলপুকুর পাড়, তিন কোনা পুকুর পাড়, পচা পুকুর পাড় ইত্যাদি। অনেক পুকুরের অস্তিত্ব না থাকলেও রয়ে গেছে জায়গার নাম।

জনউদ্যোগ ময়মনসিংহের আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম চুন্নু বলেন, শহরে  পুকুরের সংখ্যা কমছে। সরকারি জায়গায় পুকুর ভরাটের নজিরও আছে এই শহরে। একটা শহরে পুকুর থাকা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা আমরা বুঝতে পারছি না। সময়ের প্রয়োজনে পুকুর ভরাট করে দালানকোঠা গড়ে তোলা হচ্ছে। সেই ভবনে যদি আগুন লাগে তাহলে আগুন নিভানোর জন্য এত পানি পাব কোথায় সেটা আমরা ভাবি না। আমাদের হুশ হওয়ার প্রয়োজন আছে। এখনই সচেতন না হলে সামনে আমাদের জন্য বড় বিপদ অপেক্ষা করছে।

ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী বলেন, অগ্নিনির্বাপণের সময় ফায়ার সার্ভিসের পর্যাপ্ত পানির প্রয়োজন হয়। কোন এলাকায় আগুন লাগলে পানির জন্য  আমাদের বিকল্প উৎসের সন্ধান করতে হয়। আশেপাশে পুকুর থাকলে আমরা সেখান থেকে পানি নিয়ে আগুন নিভাতে চেষ্টা করি। ঘটনার আশেপাশে পুকুর না থাকলে দূর থেকে পানি আনতে সময় বেশি লাগে। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায় বহুগুন।

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সচিব সুমনা আল মাজীদ জানান, অনেক পুকুর পরিস্কার করা হচ্ছে। আর যেগুলো আছে সেগুলো পরিস্কার রাখার জন্য সচেতনা বাড়ানো হচ্ছে। পুকুরে ও এর আশপাশে ময়লা-আবর্জনা ফেললে পুকুরের পানি দূষিত হওয়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধ ছড়াবে। মশা-মাছি বাড়বে। পুকুর রক্ষায় সবধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধান বলেন, কোন এলাকায় কী পরিমাণ পুকুরের জায়গা ভরাট হয়েছে সে সম্পর্কে তথ্য নেই। ইতিমধ্যে বেদখল হওয়া শেরপুকুরটি উদ্ধার করা হয়েছে।  ভরাট অবস্থায় থাকা এ পুকুরটি পুনরায় খনন করা হবে কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সরকারি জায়গায় থাকা কোনো পুকুর কেউ দখল কিংবা ভরাটের চেষ্টা করে তাহলে দখলকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি সুন্দর নগরী গড়ে তোলার জন্য পুকুর গুলো ভরাটের হাত থেকে রক্ষা করে সংরক্ষন করবে প্রশাসন এমনটাই প্রত্যাশা ময়মনসিংহবাসীর। 

এম

Link copied!