পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মেহেরুন্নেছা উর্মি (২৮) নামের এক নারী পুলিশ কনস্টেবলের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার ( ২ মে ) ভোররাতে টিয়াখালী ইউনিয়নের পশ্চিম বাদুরতলী গ্রামের একটি ভাড়া বাসার তৃতীয় তলার কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত উর্মি বাউফল উপজেলার ইন্দ্রপুর গ্রামের বহিষ্কৃত পুলিশ সদস্য মহিববুর রহমান বাপ্পীর স্ত্রী। তিনি পার্শ্ববর্তী আমতলী পৌর শহরের শাহজাহান মিয়ার কন্যা এবং কলাপাড়া থানায় কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট মাস আগে স্বামী বাপ্পী ও দুই সন্তান—দেড় বছরের ফারদিন এবং চার বছরের ফারিস্তাকে নিয়ে ওই এলাকার আমিরুল ইসলামের পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলায় ভাড়া বাসায় ওঠেন উর্মি। পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো বলে জানা গেছে।
শনিবার রাত দেড়টার দিকে উর্মির স্বামী মহিববুর রহমান বাপ্পী থানায় খবর দেন যে, তার স্ত্রী ঘরের ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
এ বিষয়ে স্বামী মহিববুর রহমান বাপ্পী বলেন, “রাতের দিকে আমাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে আমি বাইরে গেলে এসে দেখি ঘরের দরজা বন্ধ। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখি উর্মি ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আছে। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেই।
ভাড়া বাসার মালিক আমিরুল ইসলাম বলেন, তারা প্রায় আট মাস ধরে আমার বাসায় ভাড়া থাকতেন। মাঝেমধ্যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হতো। তবে এমন ঘটনা ঘটবে তা কখনো ভাবিনি। রাতের দিকে হঠাৎ চিৎকার শুনে বিষয়টি জানতে পারি।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভোররাতে মরদেহ উদ্ধার করে।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় মানসিক সান্ত্বনা দিতে নিহতের স্বামী ও দুই সন্তানকে থানায় নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
এম
আপনার মতামত লিখুন :