রামিসার কবরের পাশে ৯০ বছরের দাদা, অসহায়ত্ব আর গভীর বেদনার ছাপ

  • জেলা প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মে ২১, ২০২৬, ১২:৫১ পিএম
রামিসার কবরের পাশে ৯০ বছরের দাদা, অসহায়ত্ব আর গভীর বেদনার ছাপ

ধর্ষণের পর হত্যার শিকার আট বছর বয়সী শিশু রামিসাকে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। ছোট্ট শিশুটির কবরের পাশে নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন তার ৯০ বছর বয়সী চাচাতো দাদা মজিবর রহমান মোল্লা। শোকে ভারাক্রান্ত বৃদ্ধের চোখেমুখে ছিল অসহায়ত্ব আর গভীর বেদনার ছাপ।

বুধবার রাতেই জানাজা শেষে রামিসাকে দাফন করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে কবরস্থানে গিয়ে দেখা যায়, কবরের মাটি তখনো ভেজা। মাঝখানে লাগানো একটি সূর্যমুখী ফুলগাছ মাথা নুইয়ে আছে নীরবে। পুরো পরিবেশজুড়ে ছিল শোকের ভারী আবহ।

পারিবারিক সূত্র জানায়, রামিসার বাবা ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। পরিবারটি স্থায়ীভাবে গ্রামে না থাকলেও ছুটি বা উৎসবে বাড়িতে আসতেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, রামিসা ছিল ভীষণ প্রাণবন্ত ও চঞ্চল স্বভাবের। বাড়িতে এলেই সবার সঙ্গে মিশে আনন্দে মাতিয়ে রাখত পুরো পরিবারকে।

রামিসার চাচাতো ভাই রানা মোল্লা বলেন, এমন নিষ্ঠুর ঘটনা তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। তিনি দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিচার দাবিতে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র সিরাজদিখান উপজেলা শাখা বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় পরিবেশ ও মানবাধিকার সংস্থা মানববন্ধনের আয়োজন করেছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, দুই বোনের মধ্যে রামিসাই ছিল ছোট। তার আকস্মিক ও নৃশংস মৃত্যু শুধু পরিবার নয়, পুরো এলাকাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

এম

Link copied!