ছবি: প্রতিনিধি
ঢাকার সাভারের আমিনবাজার ও আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেল কার্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শন করে সেবার মান, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
আজ সোমবার (৮ জুন) সকালে পরিদর্শনকালে তিনি সেবাদান ব্যবস্থার দুর্বলতা, কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি এবং বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।
পরিদর্শনের শুরুতে প্রতিমন্ত্রী আমিনবাজার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে যান। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নির্ধারিত সময়ে কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না। এছাড়া উপস্থিতি রেজিস্টার ও সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনায় দেখা যায়, আটজন কর্মকর্তার মধ্যে মাত্র দুজন কর্মকর্তা সময়মতো অফিসে উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা কয়েকজন নাগরিক তাঁদের ভোগান্তির কথা প্রতিমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। তাঁরা জানান, বিভিন্ন সেবা গ্রহণের জন্য একাধিকবার ভূমি অফিসে আসতে হলেও অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ে সেবা পাওয়া যায় না। অভিযোগগুলো শুনে প্রতিমন্ত্রী সেবাপ্রদানে দীর্ঘসূত্রতা ও জনভোগান্তি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
পরে তিনি কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতির সময় যাচাই করেন। একই সঙ্গে তথ্যকেন্দ্র-কাম-হেল্প ডেস্কের কার্যক্রম ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করেন। সেবাপ্রার্থীদের দ্রুত ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করতে তথ্যকেন্দ্রকে আরও সক্রিয় ও কার্যকর করার নির্দেশ দেন।
রেকর্ড কিপিং ও ডেটা এন্ট্রি ইউনিট পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি রেকর্ড সংরক্ষণ, নথি ব্যবস্থাপনা এবং চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি বিভিন্ন রেকর্ড রুমও পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনের সময় কর্মকর্তারা জানান, সার্ভারজনিত সমস্যার কারণে মিউটেশন বা নামজারি কার্যক্রম প্রায়ই বিঘ্নিত হচ্ছে, ফলে সেবাগ্রহীতারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানান।
এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, ভূমি সেবার ক্ষেত্রে জনগণের ভোগান্তি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নির্ধারিত সময়ে উপস্থিতির পাশাপাশি সেবার মান, গতি ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে। জনগণ যাতে দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা পায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
পরবর্তীতে তিনি আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেল বা পলাশবাড়ী কার্যালয় পরিদর্শন করেন। সেখানে কার্যালয়সংলগ্ন এলাকায় লাইসেন্সবিহীন নামজারি কার্যক্রম এবং কিছু অবৈধ স্থাপনার বিষয় তাঁর নজরে আসে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি।
এই আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে ভূমি অফিসগুলোর সেবার মান উন্নয়ন, জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকারের কঠোর অবস্থানের বার্তা স্পষ্ট হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এসএইচ
আপনার মতামত লিখুন :