ছবি : প্রতিনিধি
পাবনা: সরকারি সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের মামলায় পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিএনপি নেতা সোহেল রানাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। এ ঘটনার সংবাদ প্রকাশ করায় উল্টো স্থানীয় এক সাংবাদিকের নামে মামলা দায়ের করেছে ওই বিএনপি নেতার স্ত্রী।
বুধবার (১০ জুন) বিকেলে ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আযম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, মঙ্গলবার (৯ জুন) পাবনার আমলি আদালত ৪-এ হাজির হয়ে জামিন চাইলে বিচারক বেবী নাজনীন জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গত শনিবার (৬ জুন) বিভিন্ন কার্ড প্রদান ও সরকারি সুবিধা দেওয়ার প্রলোভনে প্রতারণার শিকার ৩৫ জন ভুক্তভোগী ভাঙ্গুড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
অভিযুক্ত সোহেল রানা উপজেলার পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের রাঙ্গালিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও ৩ নাম্বার ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সোহেল রানা ভাঙ্গুড়া বাজার, পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের রাঙ্গালিয়া, পাটুলিপাড়া, ভেড়ামারা, পারভাঙ্গুড়া গ্রামের অর্ধশতাধিক মানুষকে ভিজিডি কার্ড, পানির পাম্প, সরকারি প্রকল্পের ঘরসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা দেওয়ার কথা বলে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরে সাত-আট মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো সুবিধা পায়নি অধিকাংশ ভুক্তভোগী।
গত শুক্রবার (৫ জুন) রাতে প্রতারণার অভিযোগে বিএনপি নেতা সোহেল রানাকে পিটিয়ে থানায় সোপর্দ করে ভুক্তভোগীরা। কিন্তু সোহেল চিকিৎসার কথা বলে কৌশলে থানা থেকে পালিয়ে যান। পরদিন শনিবার (৬ জুন) ৩৫ জন ভুক্তভোগী ভাঙ্গুড়া থানায় একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করেন।
এদিকে, এই ঘটনার সংবাদ প্রকাশ করায় দৈনিক কালের কণ্ঠের ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রতিনিধি মাসুদ রানার বিরুদ্ধে চাঁদাদাবির অভিযোগে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে গত ৮ জুন মামলাটি দায়ের করেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতা সোহেল রানার স্ত্রী শিখা খাতুন।
সাংবাদিক মাসুদ রানা উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামের ময়দান আলীর ছেলে ও ভাঙ্গুড়া প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক মাসুদ রানা বলেন, সকল তথ্য উপাত্ত যাচাই-বাছাই করেই সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছে। তাছাড়া সংবাদটি দেশের প্রথম সারির প্রায় সকল গণমাধ্যমেই প্রকাশিত হয়। অথচ স্বার্থান্বেষী মহল উসকানি দিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে ফায়দা হাসিল করতে চাইছে।
এদিকে সাংবাদিক মাসুদ রানার নামে মামলা দায়েরের ঘটনায় ভাঙ্গুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক মাহবুব উল আলম বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান ফারুকসহ উপজেলার কর্মরত সংবাদকর্মীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে এই মিথ্যা মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার আহবান জানান।
জানতে চাইলে ভাঙ্গুড়া থানার ওসি সাকিউল আযম বলেন, প্রতারণার মামলায় অভিযুক্ত বিএনপি নেতার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আর সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলার জন্য আদালত থেকে তদন্তের জন্য নির্দেশনা এসেছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পিএস
আপনার মতামত লিখুন :