ছবি: প্রতীকী
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে চুরির পাশাপাশি ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। গত এক মাসে উপজেলার কায়েতপাড়া, ভুলতা, মুড়াপাড়া, ভোলাবো ও তারাবো এলাকায় অন্তত ২৫টি চুরি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অধিকাংশ অপরাধ ঘটছে গভীর রাতে। সংঘবদ্ধ চক্র দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাড়িতে ঢুকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মুঠোফোন লুট করে নিচ্ছে। সম্প্রতি কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নগরপাড়া ও মাঝিনা এলাকায় দুই রাতে তিন বাড়িতে ডাকাতি হয়। ভুলতা ও গোলাকান্দাইলে দোকান ও গুদামে চুরি এবং দিনের বেলায় সিএনজি স্ট্যান্ড ও বাজার এলাকায় ছিনতাই বাড়ছে।
থানা-পুলিশ ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নে সবচেয়ে বড় ডাকাতির ঘটনাগুলো ঘটেছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে নগরপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী আবুল হোসেনের বাড়িতে মুখোশধারী ডাকাত দল হানা দিয়ে পরিবারকে জিম্মি করে ১৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকাসহ প্রায় ৪০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে। পরে পুলিশ পাঁচ ডাকাতকে গ্রেপ্তার এবং কিছু লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করে।
এর আগে ৪ সেপ্টেম্বর একই ইউনিয়নের মাইলাবো এলাকায় ব্যবসায়ী হাজী আব্দুর রশিদের বাড়ি থেকে ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট হয়। গত ২ জুলাই গোলাকান্দাইলে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ৩২০ বস্তা চিনিবোঝাই ট্রাক ডাকাতি এবং ২৪ নভেম্বর কাঞ্চন পৌরসভায় স্কুল শিক্ষার্থীর সাজানো স্বর্ণ লুটের নাটক ও পূর্বাচলে ব্লগার জিসানের মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাতে পুলিশি টহল কম থাকা ও মাদকের বিস্তারের কারণে অপরাধ বাড়ছে। রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন আহমেদ জানান, অপরাধ দমনে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্তে অভিযান চলছে।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম আব্দুল বিন সফিক বলেন, "আমি নতুন যোগ দিয়েছি। খোঁজখবর নিয়ে সব অপরাধীদের নির্মূল করা হবে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করা হবে এবং অপরাধী যে-ই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।"
এসএইচ