ছবি : প্রতিনিধি
পাবনা: অবশেষে পাবনার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের হস্তক্ষেপে পাবনার সাঁথিয়ায় ছেলের কাছে আশ্রয় না পাওয়া সেই মা তার ছেলের ঘরেই ফিরলেন। সেইসঙ্গে মায়ের ভরণ পোষণের দায়িত্বও নিয়েছেন গ্রামপুলিশ ছেলে সাগর হোসেন। হাসি ফুটেছে মা-ছেলের মুখে।
সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বৃদ্ধা মা মুন্নি খাতুনকে (৫০) নিজের সঙ্গে রেখে ভরণপোষণ করতে রাজি ছিলেন না পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ সাগর হোসেন (৩০)। ছেলের কাছ থেকে ভরণপোষণ ও আশ্রয় পাওয়ার আশায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করেন তিনি। স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তার অভিযোগের স্থায়ী সুরাহা হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে জীবনের শেষ সময়ে ছেলের সঙ্গে থাকতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন মা।
গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মায়ের করা অভিযোগের শুনানিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিম আহমেদের শুনানিতে মুন্নি খাতুন ও তার ছেলে সাগর হোসেনের শুনানী করেন। শুনানিতে ইউএনও সেলিম আহমেদ সাগরকে তার মাকে নিজের সঙ্গে রেখে দেখাশোনা করার বিষয়ে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেন। একজন বৃদ্ধ ও অসুস্থ মায়ের শেষ বয়সের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে মানবিকভাবে সমস্যাটির সমাধান করার জন্যও ছেলে সাগরকে অনুরোধ করেন ইউএনও।
তবে মাকে নিজের সঙ্গে না রাখার বিষয়ে অনড় থাকেন ছেলে। একপর্যায়ে তিনি ইউএনওকে বলেন, মাকে আমার সঙ্গে দিলে আমি সুইসাইড করব। আমি মাকে সঙ্গে রাখতে পারব না। স্যার, আপনি বলে দেন, আমি মাকে মাসে কত টাকা দেব।
সাঁথিয়া ইউএনওর কার্যালয়ের এমন একটি সংবাদের ভিডিও গত (০৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টা নিয়ে শুরু হয় আলোচনা ও সমালোচনার ঝড়। ঘটনাটি নজড়ে আসে পাবনার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সাঁথিয়া থানার আমলি ম্যাজিস্ট্রেটের। আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে সাঁথিয়া থানার ওসিকে অভিযুক্ত ছেলে ও ভুক্তভোগী মাকে নিয়ে বিজ্ঞ আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।
সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান জানান, আদালকের নির্দেশে গাড়িতে করে মা ও ছেলে নিয়ে বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের বিচারক মা ও ছেলের কথা শুনে তাদের মধ্যে যে সমস্যাটা ছিল সেটা সমাধান করে দেন। অবশেষে বিচারকের মধ্যস্থতায় ছেলে সাগর হোসেন তার মাকে ভরণ পোষণ দিতে স্বীকার করেন। সেইসঙ্গে সে ভুল বুঝতে পেরে তার মাকে জড়িয়ে ধরে এবং দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চান। মায়ের সাথে এমন আচরণ বা এই ধরনের ন্যাক্কারজনক কাজ সে আর জীবনে করবেন না বলেও প্রতিশ্রুতি দেন।
বৃদ্ধা মা মুন্নী খাতুন প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমি এখন খুব খুশি। ছেলেটা তার ভুল বুঝতে পারছে, আমাকে ঘরে তুলে নিছে, তার কাছে রাখবে। এর চেয়ে খুশির আর কি হতে পারে।
ছেলে সাগর হোসেন বলেন, আমি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছি। মাকে অসম্মান করেছিলাম। এটা আমার ঠিক হয়নি। বিজ্ঞ বিচারক মহোদয় আমার ভুল ধরিয়ে দিয়েছেন। বাকি জীবন মাকে সাথে নিয়েই বাঁচতে চাই। সবাই দোয়া করবেন।
পিএস