ঘুষের মামলায় শিক্ষক শ্যামল কান্তি কারাগারে

  • নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মে ২৪, ২০১৭, ০৫:৪৫ পিএম
ঘুষের মামলায় শিক্ষক শ্যামল কান্তি কারাগারে

নারায়ণগঞ্জ : ঘুষ গ্রহণের মামলায় জেলার বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২৪ মে বুধবার) বিকেল সাড়ে ৪টায় জেলা অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অশোক কুমার দত্তের আদালতে শ্যামল কান্তি আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে একই আদালত দুপুর ১২টায় এমপিওভুক্ত করে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে স্কুলের ইংরেজি শিক্ষক মোর্শেদা বেগমের কাছ থেকে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ঘুষ নেয়ার মামলায় শুনানি শেষে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

বিকেল পৌনে ৪টার দিকে আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়ে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হন শ্যামল কান্তি। বিকেল সাড়ে ৪টায় শুনানি শুরু হয়।

জেলা আদালত পুলিশের পরিদর্শক সোহেল আলম জানান, শ্যামল কান্তি ভক্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। বিকেলে তিনি একই আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

শ্যামল কান্তির আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, শ্যামল কান্তি শারীরিকভাবে অসুস্থ। তাছাড়া তিনি একজন শিক্ষক। এসব দিক বিবেচনায় তিনি আদালতে জামিন প্রার্থনা করলেও আদালত সেটা না মঞ্জুর করেন। আগামী ১৩ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

গত বছরের ১৩ মে শ্যামল কান্তি ভক্তকে কান ধরে উঠবসের ঘটনার দুই মাসের মাথায় ওই বছরের ১৪ জুলাই ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, শিক্ষার্থীকে মারধর ও শিক্ষক মোর্শেদাকে এমপিওভুক্ত করে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ঘুষ নেয়ার অভিযোগে তিনটি মামলার আবেদন নারায়ণগঞ্জের আদালতে জমা পড়ে। এর মধ্যে তাৎক্ষনিক দুটি মামলা আদালত খারিজ করে দেয়।

তবে এমপিওভুক্ত করে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত স্কুলের ইংরেজি শিক্ষক মোর্শেদা বেগমের কাছ থেকে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগের মামলাটি গ্রহণ করে আদালত। দীর্ঘ তদন্তের পর পুলিশ ৪ জনকে সাক্ষী দেখিয়ে গত ১৭ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্রটি দাখিল করে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর এমপিওভুক্ত করে দেয়ার জন্য শ্যামল কান্তি ভক্তকে ৩৫ হাজার টাকা ঘুষ দেন ইংরেজি শিক্ষক মোর্শেদা বেগম। এরপর আরো ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরে আরো ১ লাখ টাকা দেয়া হয়। কিন্তু শ্যামল কান্তি ভক্ত শিক্ষক মোর্শেদা বেগমকে এমপিওভুক্ত করাতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে এমপিওভুক্ত না হওয়ায় মোর্শেদা বেগম শ্যামল কান্তির কাছে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ফেরত চাইলে তিনি ২০১৬ সালের ১২ মে কোনো টাকা নেয়নি বলে অস্বীকার করেন। এবিষয়ে মোর্শেদা বেগমের অভিযোগের ভিত্তিতে বন্দর সহকারী কমিশনার ভূমি তদন্তও করেন।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/এমএইচএম

Link copied!