গুম, খুন ও ফোনকল ফাঁসে আলোচিত কে এই জিয়াউল?

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ১, ২০২৫, ০৫:০৩ পিএম
গুম, খুন ও ফোনকল ফাঁসে আলোচিত কে এই জিয়াউল?

সংগৃহীত ছবি

ঢাকা: জিয়াউল আহসান বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে শুরু করে র‌্যাব, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) এবং ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। কর্মজীবনের এক দশকের বেশি সময়ে গুম, খুন ও ব্যক্তিগত ফোনকল আড়িপাতাসহ বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তিনি সমালোচিত হয়েছেন। তবে তৎকালীন সরকারের আস্থাভাজন হওয়ায় ক্রমান্বয়ে পদোন্নতি পেয়ে মেজর থেকে মেজর জেনারেল হন।

জিয়াউল আহসান ১৯৭০ সালের ৪ ডিসেম্বর ঝালকাঠি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯১ সালের ২১ জুন তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে পদাতিক কর্মকর্তা হিসেবে কমিশন লাভ করেন। তিনি সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষিত কমান্ডো ও স্কাই ডাইভার।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার এক বছরের মাথায় মেজর জিয়াউল আহসানকে র‌্যাব-২-এর ভাইস-ক্যাপ্টেন করা হয়। লেফটেন্যান্ট কর্নেল হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে ওই বছরের ২৭ আগস্ট র‌্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান।

২০১৩ সালে কর্নেল পদে পদোন্নতি পেয়ে তিনি র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) হন। ২০১৬ সালে ব্রিগেডিয়ার পদে উন্নীত হয়ে এনএসআই-তে পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সালে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন এনটিএমসির পরিচালক হন। ২০২২ সালের ২১ জুলাই মহাপরিচালক (ডিজি) পদ তৈরি হলে তিনি প্রথম মহাপরিচালক হন। ২০২৩ সালের ৬ আগস্ট এই পদ থেকে চাকরিচ্যুত হন।

জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে কথিত গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’ তৈরি করে বিরোধী মতাবলম্বীদের ধরে রেখে দীর্ঘদিন গুম করার অভিযোগ রয়েছে। তিনি ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীদের ওপর আক্রমণ ও হত্যার সঙ্গে যুক্ত থাকার কথাও স্বীকার করেছেন।

এনটিএমসিতে দায়িত্বের সময় জিয়াউল আহসান সরকারদলীয় ও বিরোধীদলীয় নেতাদের, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ব্যক্তিগত ফোনালাপ রেকর্ড করতেন। বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের ফোনকল ফাঁস করে বিভিন্ন টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রচার করার অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ ছাত্র আন্দোলনের সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইজিপি ও কয়েকজন মন্ত্রীর ফোনালাপের সারাংশ গণভবন থেকে উদ্ধার হয়।

শেখ হাসিনা সরকারের আমলে গুম ও খুনের ঘটনায় জিয়াউল আহসানকে অন্যতম কুশীলব দাবি করে শিকারদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’ তাকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। তিনি বর্তমানে জেলে রয়েছেন এবং জুলাই গণহত্যা মামলার বিচার শুনানি চলছে।

এসএইচ

Link copied!