বেসরকারি ব্যাংকের ইতিহাসে রেকর্ড মুনাফায় ব্র্যাক ব্যাংক

  • আবদুল হাকিম | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম
বেসরকারি ব্যাংকের ইতিহাসে রেকর্ড মুনাফায় ব্র্যাক ব্যাংক

দেশের বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ইতিহাসে ব্র্যাক ব্যাংকের মুনাফা প্রথমবারের মতো দুই হাজার কোটি টাকা ছাড়াল। দেশের আর কোনো বেসরকারি ব্যাংক এত মুনাফা করতে পারেনি। যা বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর মধ্যে নিট মুনাফায় রেকর্ড।

অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও গ্রাহকদের আস্থা, সুশৃঙ্খল করপোরেট গভর্ন্যান্স এবং বিচক্ষণ পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনায় শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জনের নজির সৃষ্টি করলো ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি। একই সঙ্গে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ধারাবাহিক বিনিয়োগ এবং গ্রাহককেন্দ্রিক উদ্ভাবন রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ও বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

জানা যায়, বিদায়ী ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ সমাপ্ত হিসাববছরের বছরে ব্যাংকটি সমন্বিতভাবে (সহযোগী প্রতিষ্ঠানসহ) ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকার রেকর্ড মুনাফা করেছে। ২০২৪ সালে ব্যাংকটি ১ হাজার ৪৩২ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছিল। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির মুনাফা বেড়েছে ৮১৯ কোটি টাকা বা ৫৭ শতাংশ।

শুধু এককভাবে ব্র্যাক ব্যাংক গত বছর মুনাফা করেছে ১ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা। আগের বছর যার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২১৪ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির একক মুনাফা বেড়েছে ৩৬৭ কোটি টাকা বা ৩০ শতাংশের বেশি।

আর সহযোগী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে এই মুনাফা ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। রেকর্ড মুনাফার বছর শেষে ব্যাংকটি গত বছরের জন্য শেয়ারধারীদের ১৫ শতাংশ নগদ এবং ১৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২৪ সালে ব্যাংকটি শেয়ারধারীদের সাড়ে ১২ শতাংশ নগদ ও সাড়ে ১২ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ মিলিয়ে মোট ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল।

ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক  ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক রেফাত উল্লাহ খান সোনালী নিউজকে বলেন, চ্যালেঞ্জিং বাজার পরিস্থিতির মধ্যেও ব্র্যাক ব্যাংক ২০২৫ সালে শক্তিশালী আর্থিক ফলাফল অর্জন করেছে। মূল্যবোধভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্র্যাক ব্যাংক বাজার পরিস্থিতি যেমনই হোক, সবসময় শক্তিশালী সুশাসন ও মজবুত ভিত্তি বজায় রাখে। এর ফলে বছরের পর বছর ব্র্যাক ব্যাংক ধারাবাহিক আর্থিক সাফল্য অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, এই সাফল্য গ্রাহকদের ধারাবাহিক আস্থা, সুশাসন এবং বিচক্ষণ পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনার প্রতিফলন। লক্ষ্যণীয় ব্যাপার হলো প্রতিকূল বাজার পরিস্থিতিতেও ব্যাংক এ সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ধারাবাহিক বিনিয়োগ এবং গ্রাহককেন্দ্রিক উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধিতে সাহায্য করেছে এবং রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ও ব্যালেন্স শীট সম্প্রসারণে ভূমিকা রেখেছে।

তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, দৃঢ় আন্ডাররাইটিং মানদণ্ড, সতর্ক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও নজরদারির ফলে সম্পদের গুণগত মান বজায় রয়েছে এবং খেলাপি ঋণ বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখা সম্ভব হয়েছে। ধারাবাহিক সাফল্যের মাধ্যমে ব্র্যাক ব্যাংক বাংলাদেশে সুশাসন, কম্প্লায়েন্স এবং মূল্যবোধভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের রোল মডেলে প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুনাম অর্জন করেছে।

উল্লেখ, ব্যাংকের মুনাফার একটি বড় অংশ বিশ্বের বৃহত্তম এনজিও ব্র্যাকের কাছে যায়, যা দেশের অর্থ সামাজিক উন্নয়নে ব্যয় করে। এভাবেই বাংলাদেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্র্যাক ব্যাংক সবসময় অবদান রেখে চলেছে।

এএইচ/এম

Link copied!