শেয়ারবাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ বাধ্যতামূলক

  • আবদুল হাকিম | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৩, ১২:১২ পিএম
শেয়ারবাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ বাধ্যতামূলক

ঢাকা: বহু প্রতিক্ষার পর স্টক এক্সচেঞ্জে চালু হয়েছে ট্রেজারি বন্ডের সেকেন্ডারি বাজার। কিন্তু এ বাজারে নেই কোন কেনাবেচা। ব্যাংক ও বীমা কোম্পানিগুলো প্রথাগতভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় এ বন্ড কেনাবেচা করছে। এ অবস্থায় বন্ড বাজারকে গতিশীল করতে সব মার্চেন্ট ব্যাংক, ব্রোকার ডিলার, সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানি এবং মিউচুয়াল ফান্ডের নিজস্ব পোর্টফোলিওতে তালিকাভুক্ত ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ বাধ্যতামূলক করে কমিশন।

সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করেছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের বিনিয়োগে বৈচিত্র্য আনা ও ঝুঁকি হ্রাস করতে নিজ পোর্টফোলিওর অন্তত ১ শতাংশ তালিকাভুক্ত ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ থাকতে হবে। এ বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে আগামী জুনের মধ্যে।

এর আগে ২০২২ সালের ৩০ জুনের মধ্যে তালিকাভুক্ত ডেট সিকিউরিটিজে অন্তত তিন শতাংশ বিনিয়োগ করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করে ওই বছরের ২৩ মে একটি নির্দেশনা দেয় বিএসইসি। কেউ এ নির্দেশনা পরিপালন করতে না পারায় ওই সময়সীমা বাড়িয়ে ৩০ জুন ২০২৩ করা হয়েছে।

মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর সংগঠন বিএমবিএর সভাপতি ছায়েদুর রহমান সোনালী নিউজকে বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বন্ড বাজারে বিনিয়োগ করাতে পারলে এ বাজার সক্রিয় হবে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও বিনিয়োগে আসবে বলে মনে করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তবে এই সিদ্ধান্তে বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না। আমাদের ৩ শতাংশ ট্রেজারি বন্ড ক্রয়ের বিষয়ে জানিয়েছে আমরা সময় চেয়েছি, সেটা জুন পর্যন্ত সময় বাড়িয়েছে। ৩ শতাংশ বন্ড কিনার অংশ বিশেষই হবে এই ১ শতাংশ বৃদ্ধিটা।

মার্চেন্ট ব্যাংক এবং ব্রোকার ডিলার প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, গত বছরের নির্দেশনাটি বাস্তবায়ন করতে না পারার কারণ বন্ড বাজারে কারও আগ্রহ নেই। বেক্সিমকোর সুকুক (শরিয়াহ বন্ড) ছাড়া অন্য কোনো বন্ডের ক্রেতা নেই, বিক্রেতাও পাওয়া যায় না। কেউ বিক্রি না করলে, অন্য কেউ কীভাবে বন্ডে বিনিয়োগ করবে। এ কারণে নির্দেশনা পরিপালনে সময় বাড়িয়ে দেওয়ার আবেদন করা হয়েছিল। একদিকে বন্ডে বিনিয়োগ লাভজনক, অন্যদিকে টাকা আটকে থাকে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে এখন ২৪৭টি ট্রেজারি বন্ড তালিকাভুক্ত আছে। এর বাইরে বেসরকারি বন্ড আছে ১০টি। এর মধ্যে বেক্সিমকোর সুকুক ছাড়া বাকিগুলোর লেনদেন হয় না। এখানে ক্রেতা বা বিক্রেতা, কোনো দিক থেকেই চাহিদা থাকে না।

সোনালীনিউজ/এম

Link copied!