ফাইল ছবি
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম নতুন রেকর্ড স্পর্শ করেছে। সোমবার প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্সের দাম ৪ হাজার ৪২০ ডলারে পৌঁছায়। চলতি বছরের শুরুতে স্বর্ণের দাম ছিল আউন্সপ্রতি মাত্র ২ হাজার ৬০০ ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার আরও কমাতে পারে এই প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি এবং সুদ কমার সম্ভাবনা মিলিয়ে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন।
বুলিয়নভল্টের গবেষণা পরিচালক অ্যাড্রিয়ান অ্যাশ বলেন, চলতি বছর স্বর্ণের দাম ৬৮ শতাংশের বেশি বেড়েছে, যা ১৯৭৯ সালের পর সর্বোচ্চ। তিনি আরও বলেন, সুদের হার, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বাণিজ্য উত্তেজনা ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের দুর্বলতা বিদেশি ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ তুলনামূলকভাবে সস্তা করেছে। ফলে চাহিদা বৃদ্ধি পেয়ে দাম উর্ধ্বমুখী। সাধারণত সুদের হার কমার প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের বন্ডের মতো নিরাপদ বিনিয়োগে কম রিটার্নের দিকে ঠেলে দেয়, ফলে স্বর্ণ ও রুপার মতো ধাতুতে বিনিয়োগ বেড়ে যায়।
শুধু স্বর্ণ নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতু রেকর্ডবদ্ধ বৃদ্ধি দেখাচ্ছে। সোমবার রুপার দাম আউন্সপ্রতি ৬৯ দশমিক ৪৪ ডলারে পৌঁছায়, চলতি বছরে দাম বৃদ্ধি হয়েছে ১৩৮ শতাংশ। প্লাটিনামের দামও ১৭ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শক্তিশালী চাহিদা, সরবরাহ সংকট এবং শিল্প উৎপাদনে ব্যবহারের কারণে রুপা ও প্লাটিনাম স্বর্ণের তুলনায় ভালো করছে।
বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে, অস্থির অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্বর্ণ, রুপা ও প্লাটিনাম নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সুদ কমার প্রত্যাশা এবং ডলারের দুর্বলতা এসব ধাতুর চাহিদা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।
এসএইচ
আপনার মতামত লিখুন :