ছুটির দিনে মুখরিত ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় শুক্রবার (৯ জানুয়ারী) ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় পরিলক্ষিত হয়েছে। কন কনে ও তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে রূপগঞ্জের পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারের মেলাপ্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের ঢল নামে।
স্টল ও প্যাভিলিয়নগুলোতে ছিল উপচেপড়া ভিড়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীদের আগমন বাড়তে থাকে। সন্ধা ৬টায় বাণিজ্যমেলা লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। দর্শনার্থীর সমাগমে বিক্রেতা, মেলার আয়োজক ও প্রবেশ টিকিটের ইজারাদার খুশি।
মেলায় থাকছে ৫২’র ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদদের স্মরণে নির্মিত হয়েছে বাংলাদেশ স্কয়ার। মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী ও জুলাই আন্দোলনে আহতরা কার্ড প্রদর্শন সাপেক্ষে বিনামূল্যে মেলায় প্রবেশ করছেন। মেলায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিসহ রয়েছে দেশি-বিদেশি ৩২৭টি স্টল। ব্যাংকিং লেনদেনের জন্য রয়েছে ব্যাংকের একাধিক বুথ। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত, তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিন রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা চলবে।
মেলায় আসা শিশুদের জন্য রয়েছে দুইটি শিশুপার্ক। মেলা পর্যবেক্ষণের জন্য রয়েছে সিসিক্যামেরা। সতর্ক অবস্থায় রয়েছে নয় শতাধিক পুলিশের একাধিক টিম। রাজধানীসহ নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও নরসিংদী জেলার লোকজন যেন নির্বিঘ্নে মেলায় আসতে পারেন সেজন্য অন্যান্য বছরের মতো রয়েছে বিআরটিসি বাস সার্ভিস। এবারের মেলায় ১১টি বিদেশীসহ ৩২৭টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন রয়েছে। দেশীয় বস্ত্র, মেশিনারিজ, গৃহসামগ্রী, স্পোর্টস গুডস, স্যানিটারিওয়্যার, ক্রোকারিজ, মেলামাইন পলিমার, হারবাল ও টয়লেট্রিজ, ইমিটেশন জুয়েলারি, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, হোম ডেকর, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্য, ফার্নিচার, ইলেকট্রনিক্স, কসমেটিকস, হস্তশিল্প, খেলনা, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসহ নানা ধরণের পণ্য মেলায় প্রদর্শিত হচ্ছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মেলায় আসার প্রস্তুতি ছিল অনেকেরই। তাই অধিকাংশ দর্শনার্থীই অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করেছেন। ফলে মেলার প্রবেশদ্বারে ঠেলাঠেলি কিংবা চাপের মুখে পড়তে হয়নি। ছুটির দিন থাকায় সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা মেলায় আসতে শুরু করেন। জুমার নামাজের পর দল বেঁধে তারা মেলায় প্রবেশ করেন। বিকালে মেলার স্টল ও প্যাভিলিয়নে ক্রেতা-দর্শনার্থীর ঢল নামে। ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা স্টলগুলোতে তাদের পছন্দের পণ্য ঘুরে দেখেন। কেউ কেউ কেনাকাটাও করেন। বেশি ভিড় ছিল কাপড়, অলংকার, শো-পিস, তৈজসপত্র, কুটির শিল্প ও ইলেতট্রনিক্স পণ্যের স্টলে। বিক্রিও হয়েছে বেশ।
শুক্রবার মেলা প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের পদচারণা ছিল চোখে পড়ার মতো। দুপুরের পর থেকে বাড়তে থাকে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের সমাগম। স্টলগুলোতে নারীদের ভিড় ছিল বেশি। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই মেলায় এসেছেন। পছন্দের জিনিস কিনেছেন। প্লাস্টিক পণ্য, ক্রোকারিজ, ইমিটেশনের গয়না, শাড়ি, থ্রি-পিস, কসমেটিকসের স্টলগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় ছিল বেশি। মূল্যছাড়সহ বিভিন্ন অফার থাকায় ক্রেতারা আকৃষ্ট হচ্ছেন। মেলায় শিশুদের জন্য রয়েছে নজরকাড়া ডিজাইনের পোশাক, জুতা ও খেলনা। বিকাল ৫টার মধ্যেই মেলাপ্রাঙ্গণ ভরে যায়। নানা শ্রেণির ও নানা বয়সের মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে মেলাপ্রাঙ্গণ।
মেলায় যমুনা ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড অটোমোবাইলস লিমিটেডের বিক্রয় প্রতিনিধি সাহেরা বেগম বলেন, বিগত বছরের মতো এবারও বাণিজ্যমেলায় আমাদের উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী নিয়ে এসেছি। রেফ্রিজারেটর, এয়ারকন্ডিশনার, মোটরসাইকেলের পাশাপাশি বেশ কিছু নতুন আকারের টেলিভিশন এবার মেলায় নিয়ে এসেছি। যমুনা ইলেকট্রনিক্স সবসময় ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে তাদের চাহিদার পণ্য বাজারে নিয়ে আসছে। বিদেশি যত উন্নত প্রযুক্তি আছে সেগুলো মাথায় রেখে আমাদের কোম্পানি নিজস্ব কারখানায় আধুনিক পণ্য তৈরি করছে। এছাড়া মেলায় যমুনার সব পণ্যের ওপর বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ থেকে মেলায় আসা তুষার বলেন, ছুটির দিন থাকায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মেলায় এসেছি। প্রাকৃতিক পরিবেশ আর খোলামেলা জায়গায় মেলার আয়োজন হওয়ায় প্রচুর লোকজনের সমাগম হয়েছে। মেলা উপভোগ করছি। পরিবারের সদস্যরা খুশি।
গাজীপুর থেকে আসা ইকবাল হোসেন বলেন, মেয়েটি কয়েক দিন ধরে মেলায় আসতে চাচ্ছে। কনকনে শীত আর ঘন কুয়াশার জন্য মেলায় আসিনি। ছুটির দিন পেয়ে শীত ও কুয়াশা উপেক্ষা করে মেলায় এসে আনন্দ পাচ্ছি।
ভুলতা থেকে আসা ব্যবসায়ী গোলজার ভুইয়া বলেন, ভুলডা-গাউছিয়া থেকে কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত যানজট থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছি। এখানে প্রয়োজনানুযায়ী ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা প্রয়োজন। আর এফএলের বিক্রয় প্রতিনিধি হাসান বলেন, বিক্রি কম হলেও ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের সমাগম বেড়েছে। তবে দিন যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিক্রিও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর(ইপিবি) সচিব তরফদার সোহেল রহমান বলেন, ব্যবস্থাপনা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা থাকায় এবার মেলার পরিবেশ অনুকূলে রয়েছে। মেলার সাপ্তাহিক ছুটি শুক্রবার থাকায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের সমাগম বেড়েছে। কাঙ্খিত দর্শনার্থীদের আগমনে সবাই খুশি। অবশ্যই এবারের বাণিজ্যমেলা ব্যবসা সফল হবে।
এম
আপনার মতামত লিখুন :