যুদ্ধের মধ্যে যেভাবে কমছে-বাড়ছে স্বর্ণ-রুপার দাম

  • নিউজ ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মার্চ ১১, ২০২৬, ০৯:২০ এএম
যুদ্ধের মধ্যে যেভাবে কমছে-বাড়ছে স্বর্ণ-রুপার দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়েছে। দুর্বল মার্কিন ডলার, মুদ্রাস্ফীতি কমার আশঙ্কা এবং তেলের দাম হ্রাসের প্রভাবে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) স্বর্ণের বাজারে এ ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দ্রুত শেষ হতে পারে—এমন ইঙ্গিতও বাজারে প্রভাব ফেলেছে।

মঙ্গলবার স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ২৩১ দশমিক ৭৯ ডলারে পৌঁছায়। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে এপ্রিল ডেলিভারির জন্য স্বর্ণের ফিউচারের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ২৪২ দশমিক ১০ ডলারে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডলার সূচক কমে যাওয়ায় অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারী বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বর্ণে তুলনামূলক সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে। ফলে স্বর্ণের চাহিদা বেড়ে দাম বাড়তে সহায়তা করেছে।

এদিন তেলের দামও হঠাৎ কমে যায়, যা এর আগে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শিগগির শেষ হতে পারে বলে মন্তব্য করায় তেলের সরবরাহ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি উদ্বেগ কিছুটা কমেছে।

টিডি সিকিউরিটিজের গ্লোবাল কমোডিটি স্ট্র্যাটেজি প্রধান বার্ট মেলেক বলেন, তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে থেকে কমলেও তা এখনও মুদ্রাস্ফীতিকে সহায়তা করছে। তবে এটি এত বেশি নয় যে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর সক্ষমতা সীমিত করবে। এতে বিনিয়োগকারীরা আবার মূল্যবান ধাতুর বাজারে আগ্রহী হচ্ছেন।

সাধারণত স্বর্ণ মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হলেও সুদের হার বাড়লে এর আকর্ষণ কমে যায়, কারণ স্বর্ণ থেকে সরাসরি কোনও আয় পাওয়া যায় না।

বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স ও পার্সোনাল কনজিউমশন এক্সপেনডিচারস তথ্য প্রকাশের দিকে নজর রাখছেন। আগামী ১৭–১৮ মার্চের বৈঠকে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে বলে বাজারে ধারণা রয়েছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে ফ্লাইট সীমাবদ্ধতা থাকায় দুবাইয়ে স্বর্ণ লন্ডনের তুলনায় ডিসকাউন্টে লেনদেন হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে সরবরাহ বেশি থাকলেও চাহিদা তুলনামূলক কম রয়েছে।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট রুপার দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৮৯ দশমিক ৩৯ ডলারে উঠেছে। প্ল্যাটিনামের দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২২৯ দশমিক ১৫ ডলারে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৭৫ দশমিক ৫০ ডলারে নেমেছে।

দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ৬৮ হাজার ২১৪ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৬ হাজার ২৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৯ হাজার ৪৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৯ হাজার ১৫৯ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

এম

Link copied!