আন্তর্জাতিক বাজারে সপ্তাহের শুরুতেই বড় ধাক্কা খেল স্বর্ণের দাম। ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে সোমবার (২০ এপ্রিল) সোনার দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিনের শুরুতে স্পট গোল্ডের দাম ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৭৯৩.৯৮ ডলারে নেমে এসেছে, যা গত ১৩ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের জুন ডেলিভারির গোল্ড ফিউচারস ১.৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্স ৪,৮১৩.৬০ ডলারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের মান বৃদ্ধিই সোনার দাম কমার অন্যতম প্রধান কারণ। ডলার শক্তিশালী হলে অন্যান্য মুদ্রার তুলনায় সোনা কেনা বেশি ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে, ফলে চাহিদা কমে যায়।
এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষক ইলিয়া স্পিভাক জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা বিনিয়োগকারীদের আচরণে প্রভাব ফেলেছে। তার ভাষায়, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় ‘ওয়ার ট্রেড’ পরিস্থিতি ফিরে এসেছে, যা পণ্যমূল্য ও মুদ্রাবাজারে বড় প্রভাব ফেলছে।
এই পরিস্থিতিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও সোনার বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। সাধারণত সংকটকালে সোনাকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হলেও সুদের হার ও বন্ড ইল্ড বাড়লে বিনিয়োগকারীরা ডলার ও বন্ডের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড বেড়েছে, যা সোনার দামে নিম্নমুখী চাপ সৃষ্টি করেছে। একইসঙ্গে পারস্য উপসাগর এলাকায় নৌ চলাচলে অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলেছে।
সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও পতন দেখা গেছে। স্পট সিলভার ০.৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৮০.০৪ ডলার এবং প্লাটিনাম ০.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ২,০৯৩.৫৬ ডলারে নেমে এসেছে।
এম
আপনার মতামত লিখুন :