জাবিতে বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের মধ্যে ফাটল!

  • জাবি প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুন ১, ২০১৬, ০৪:৫৩ পিএম
জাবিতে বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের মধ্যে ফাটল!

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের মধ্যে ফাটল দেখা দিয়েছে। আসন্ন সিন্ডিকেট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষকরা দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন।

জানা গেছে, আগামী ৫ জুন আসন্ন সিন্ডিকেট, অর্থ কমিটি ও একাডেমিক কাউন্সিল নির্বাচনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মতাবলম্বি শিক্ষকদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ‘সম্মিলিত শিক্ষক’প্যালেন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষকরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষকরা মনে করেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বিশেষের হাতের মুঠোয় অন্তরীণ। এ অবস্থা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে বের করে মুক্তবুদ্ধি ও স্বাধীন জ্ঞান চর্চার পীঠস্থানে পরিণত করতে হলে শুভবুদ্ধি সম্পন্ন সহকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে তারা সম্মিলিতভাবে সিন্ডিকেট, অর্থ কমিটি ও একাডেমিক কাউন্সিল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের অপর একটি অংশ জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের ব্যানারে এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পক্ষে অবস্থান নিয়ে নির্বাচন থেকে একাধিক পদে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের মধ্য থেকে সিন্ডিকেট নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারকারীরা হলেন- অধ্যাপক ক্যাটাগরিতে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ফিরোজা হোসেন, সহযোগী অধ্যাপক ক্যাটাগরিতে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আবু সাঈদ মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের মো. নজরুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক ক্যাটাগরিতে অর্থনীতি বিভাগের  মো. নুরুল হক, লেকচারার ক্যাটাগরিতে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের মোহাম্মদ রেজাউল রাকিব। এছাড়া অর্থ কমিটি ও একাডেমিক কাউন্সিল থেকেও একাধিক বিএনপিপন্থি শিক্ষক মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে জোটবদ্ধ নির্বাচনের বিরোধিতা করে প্রচারপত্র বিলি করছেন তারা।

এদিকে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের নাম ব্যবহার করে এ ধরণের প্রচারপত্র বিলি করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ফোরামের নেতৃবৃন্দরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষকরা জানান, বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের মধ্যে ফাটল বহু আগ থেকেই বিদ্যমান ছিল। কিন্তু তা এতদিন দৃশ্যমান ছিল না। ‘বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের একটি অংশ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে সু-সর্ম্পক বজায় রেখে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরণের ফায়দা লুটে আসছিলো। এরই ধারাবাহিকতায় বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের ওই অংশটি আসন্ন নির্বাচনে এককভাবে অংশগ্রহণের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মনোনীত প্রার্থীদের সিন্ডিকেট নির্বাচনে বিজয়ী করতে উঠে পড়ে লেগেছেন। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে বিতাড়িত করতে বিএনপিপন্থি শিক্ষকরা আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করেন। উপাচার্য বিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপিপন্থি শিক্ষক অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সেই সুবাধেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের একটি অংশের সঙ্গে তার সখ্যতা গড়ে উঠে।

এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী শিক্ষকরা অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের ওপর ক্ষুব্ধ রয়েছেন। সর্বশেষ বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিকী অনুষদের ডীন নির্বাচনে তিনি মাত্র ১৫ ভোট পান। অথচ একই অনুষদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আরেক বিএনপিপন্থি শিক্ষক  অধ্যাপক মো. মোজাম্মেল হক ৫৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। এদিকে ক্যাম্পাসের রাজনীতি বিশ্লেষকরা জানান, ‘বিগত ডিন নির্বাচনে বিএনপিপন্থি শিক্ষকরা এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়ায় ব্যাপক ভরাডুবি হয়।

অপরদিকে বামপন্থি ও আওয়ামী পন্থি শিক্ষকদের একাংশ এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে একটি অনুষদের জয় লাভ করতে পারেনি। এ কারণে ক্ষমতাসীন সরকার দলীয় শিক্ষকরা ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। ফলে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ক্যাম্পাসের জাতীয়তাবাদী, বামপন্থি ও প্রগতিশীল আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের একটি অংশ এবার জোট বদ্ধ হয়ে একই প্লাটফর্মে  নির্বাচন করছে। এ কারণে ক্ষমতাসীন সরকার দলীয় শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ফলশ্রুতিতে সরকার দলীয় শিক্ষকরা তাদের পকেটে থাকা কিছু বিএনপিপন্থি শিক্ষককে দিয়ে কৌশলে জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের মধ্যে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করছেন।’

এদিকে জোটবদ্ধ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষকরা দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। ভাগ হয়ে যাওয়া দুটি অংশের মধ্যে একাংশে রয়েছেন দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান, অধ্যাপক নুরুল ইসলাম, অধ্যাপক ছালেহ আহমেদ খান, অধ্যাপক মোস্তফা নাজমুল মানছুর, অধ্যাপক ফিরোজা হোসেন সহ প্রায় ১৫ থেকে ১৬ জন শিক্ষক।

অপর অংশে রয়েছেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের আহবায়ক অধ্যাপক ড. সৈয়দ  মোহাম্মদ কামরুল আহছান, সাধারণ সম্পাদক  অধ্যাপক মো. শামছুল আলম, শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক  মো. শরীফ উদ্দিন, অধ্যাপক  মোহাম্মদ মাফরুহী সাওার সহ বেশির ভাগ বিএনপিপন্থি শিক্ষক।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. শামছুল আলম বলেন, ‘ক্যাম্পাসের বৃহত্তর স্বার্থে জাতীয় ঐক্যমত্তের ভিত্তিতে প্রগতিশীল ও গণতন্ত্রমনা শিক্ষকদের নিয়ে গোষ্ঠী বিশেষের কবল থেকে ক্যাম্পাসকে রক্ষার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আমরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছি এবং থাকবো। আমাদের মধ্যে কোন ফাটল নেই।’

এ বিষয়ে জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের একাংশের নেতৃত্বদানকারী দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, এর আগে গত শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে একক ভাবে অংশ নিয়ে আমরা সাফল্য পেয়েছি। কিন্তু আসন্ন নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতকে পুরোপুরি উপেক্ষা করে আওয়ামীলীগ সমর্থিত শিক্ষকদের সাথে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনের যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে আমরা এর প্রতিবাদ করেছি। তবে আমাদের মধ্যে কোন ফাটল নেই।’

সোনালীনিউজ/ঢাকা/এমএইচএম

 

Link copied!