টাইমস্কেল লাগিয়ে যেভাবে দ্বিগুন হলো শিক্ষকদের বেতন

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২১, ০৭:৩৯ পিএম
টাইমস্কেল লাগিয়ে যেভাবে দ্বিগুন হলো শিক্ষকদের বেতন

ঢাকা : একজন সরকারি চাকুরীজীবি তার চাকুরী জীবনে টাইমস্কেল পাবেন দুইটি। এটি তার চাকুরীকাল ১০ এবং ১৬ বছর অতিক্রান্ত হলে। কিন্তু ২০১৩ সালে জাতীয়করণ করা বেসরকারি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেশকিছু শিক্ষক অবৈধভাবে বাগিয়ে নিয়েছেন ৩টি টাইমস্কেল। এতে তাদের বেতন বেড়েছ প্রায় দ্বিগুন।

টাইমস্কেল বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের নির্দেশনা হল, ‘একই পদে কর্মরত কর্মচারী কোন প্রকার উচ্চতর স্কেল (টাইমস্কেল)/সিলেকশন গ্রেড (যে নামেই অভিহিত হউক) না পাইয়া থাকিলে সন্তোষজনক চাকরির শর্তে তিনি ১০(দশ) বৎসর চাকরি পূর্তিতে ১১তম বছরে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড এবং পরবর্তী ৬ বছরে পদোন্নতি না পাইলে ৭ম বছরে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্য হইবেন।’

আরও পড়ুন : সুন্দরবনে দেখা মিললো মাঝি-মাল্লাবিহীন ইলিশবোঝাই ট্রলার

জানাগেছে, সরকারি প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা বেতন পাচ্ছেন ৩০-৩২ হাজার টাকা। অন্যদিকে অবৈধ পন্থায় দেশের উত্তরবঙ্গের জেলা গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় এমন ৩৭ জন প্রধান শিক্ষক ২০১৪ সাল থেকে সরকারি প্রায় দ্বিগুণ বেতন তুলছেন। আর এর ফলে এই সাত বছরে সরকারের ক্ষতি হয়েছে প্রায় দুই কোটি টাকা। এসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষ জানলেও উপজেলা শিক্ষা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এখনো বাড়তি বেতনই তুলছেন এসব শিক্ষকরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, তৎকালীন উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস ও উপজেলা শিক্ষা অফিসকে ম্যানেজ করে ২-৩টি টাইম স্কেল, ক্রসপান্ডিং স্কেলের মাধ্যমে অবৈধ ভাবে বাড়তি মাসিক বেতন ভাতা হিসেবে তুলছেন এসব প্রধান শিক্ষক।

এ বিষয়ে চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল সুন্দরগঞ্জ হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম অধিগ্রহণকৃত বেসরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের টাইমস্কেল কর্তন ও অতিরিক্ত টাকা আদায় করে বিল দাখিল করতে চিঠি দেয় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে। 

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের হিসাব মহানিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ সালের স্মারক অনুযায়ী ২০১৩-১৪ সালে অধিগ্রহণকৃত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের টাইমস্কেল পাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত পাওয়া গেছে। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রধান শিক্ষকদের টাইমস্কেল কর্তন ও অতিরিক্ত টাকা আদায় করে বিল দাখিল করতে বলা হলো।

অভিযোগ রয়েছে, এই চিঠির পরও অদৃশ্য শক্তি ও ঘুষের কারণে চিঠিটি ধামা-চাপা দিয়ে এসব শিক্ষক অতিরিক্ত সরকারি অর্থ প্রতি মাসেই বেতন হিসেবে উত্তোলন করছেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৩-১৪ সালে অধিগ্রহণকৃত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকরিকাল গণনা ও আর্থিক সুবিধা নির্ধারণ করে ২০২০ সালের ১২ আগস্ট একটি পরিপত্র জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়।

এতে বলা হয়, অধিগ্রহণকৃত এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষক ২০১৩ এর বিধি-এ উল্লেখিত কার্যকর চাকরিকাল একই বিধিমালার বিধি-১০ এ পেনশন গণনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। ফলে এ সংক্রান্ত মঞ্জুরি আদেশ সংশোধন করে অতিরিক্ত প্রদান করা অর্থ সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের থেকে আদায় যোগ্যা।

এতে আরো বলা হয়, উল্লিখিত বিষয়ে আর্থিক সংযোগ ছিলো বিধায় অর্থ বিভাগের সম্মতি ছাড়া কোন হিসাবরক্ষণ অফিস টাইমস্কেল প্রদান সংক্রান্ত বিল পাশ করা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এরপরই ২০২০ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর উপসচিব রওনক আফরোজা সুমা সাক্ষরিত আরো একটি পরিপত্র জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়। এখানে বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে বলা হয়, জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জাতীয়করণের আগে চাকরিকাল গণনা করে টাইমস্কেল সিলেকশন গ্রেড প্রদানের কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি।

জানতে চাইলে গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হোসেন আলী বলেন, আমার জানা মতে যেসব শিক্ষক পেনশনে চলে যাচ্ছেন তাদের পেনশন থেকে টাকা কেটে সমন্বয় করা হচ্ছে। তবে এখনো যেসব চাকরি করছেন তাদের বেতন কাটা হচ্ছে কী না সেটি জানা নাই। 

আরও পড়ুন : ফের বিয়ের পিঁড়িতে মাহিয়া মাহি!

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি পরিপত্রের কারণে সারাদেশে কমবেশি এমন অবস্থার তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলাও ছিল আদালতে। তবে ফলাফল জানি না। 

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় অথবা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এখনো কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা পাইনি। নির্দেশনা আসলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

Link copied!