ছবি: প্রতিনিধি
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) উপাচার্যের কক্ষে কর্মকর্তাদের দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে উপাচার্যের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগসংবলিত চিঠি নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। ওই দুই শিক্ষক হলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. তানজিউল ইসলাম জীবন এবং ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ড. মো. মনিরুজ্জামান।
অভিযোগপত্রে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. তানজিউল ইসলাম জীবনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি, শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন এবং শেখ হাসিনাকে নিয়ে নিবন্ধ লেখার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ড. মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আবু সাঈদ স্মরণিকায় বিএনপি সরকারের সমালোচনা করার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এসব অভিযোগের সমর্থনে বিভিন্ন নথিপত্রও চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এসব অভিযোগ নিয়ে উপাচার্যের কক্ষে আলোচনা চলছিল। একপর্যায়ে অভিযোগসংবলিত চিঠিগুলো কারা এবং কীভাবে পাঠিয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বাংলা বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার রফিকুল ইসলাম। এ সময় তিনি শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের পরিচালক মামদুদুর রহমানকে উদ্দেশ করে কথা বললে উপস্থিত কর্মকর্তাদের মধ্যে উত্তেজনা ও বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়।
ঘটনার সময় কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা—ড. রোকনুজ্জামান, ড. জিয়াউর রহমান, মামদুদুর রহমান, মো. তারিকুল ইসলাম এবং সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনজুরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, সিরাজুল ইসলাম ও খন্দকার গোলাম মোস্তফা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, জ্যেষ্ঠ ও সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা হলেন বাংলা বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার রফিকুল ইসলাম এবং সংস্থাপন শাখার অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ড. জিয়াউর রহমান।
আহত রফিকুল ইসলাম বলেন, সহকর্মীর পদোন্নতি নিয়ে কথা বলতে গেলে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তাঁদের ওপর হামলা চালান এবং ফুলের টব ছুড়ে মারেন। এতে তিনি আঘাত পেয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
অন্যদিকে, শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের পরিচালক ও জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মামদুদুর রহমান দাবি করেন, আওয়ামীপন্থী সংগঠন স্বাধীনতা পরিষদের নেতারা উপাচার্যের কক্ষে তাঁর সামনেই জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরামের সহসভাপতি ড. জিয়াউর রহমানের ওপর হামলা চালিয়েছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান জানান, ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক মাসুদ রানাকে। সদস্যসচিব হিসেবে রয়েছেন প্রক্টর ইসমাইল হোসেন এবং সদস্য হিসেবে রয়েছেন শহীদ মুখতার ইলাহী হলের প্রভোস্ট ড. জিন্নাতুল বাশার।
এসএইচ