বলিউডের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র গ্যাংস্টার মুক্তির দুই দশক পূর্তি উপলক্ষে সামনে এলো এর নির্মাণের নেপথ্যের চমকপ্রদ কিছু গল্প। পরিচালক অনুরাগ বসু জানিয়েছেন, সিনেমাটির পুরো যাত্রা শুরু হয়েছিল মাত্র একটি লাইনের আইডিয়া থেকে।
এই আইডিয়াটি দিয়েছিলেন প্রখ্যাত নির্মাতা মহেশ ভাট। তার সংক্ষিপ্ত ভাবনা ছিল—একজন গ্যাংস্টারের প্রেমিকা তাকে প্রতারণা করছে। এই ধারণাই অনুরাগ বসুকে এতটাই নাড়া দেয় যে, তিনি তখনকার চলমান কাজ লাইফ ইন আ... মেট্রো থেকে বিরতি নিয়ে মাত্র দুই সপ্তাহেরও কম সময়ে ‘গ্যাংস্টার’-এর চিত্রনাট্য লিখে ফেলেন।
চরিত্র নির্বাচনেও ছিল ভিন্নতা। ‘সিমরান’ চরিত্রের জন্য নতুন মুখ খুঁজতে গিয়ে বহু অডিশনের পর কঙ্গনা রানাওয়াত-কে দেখে অনুরাগের মনে হয়, তিনিই সঠিক পছন্দ। যদিও নিশ্চিত হওয়ার আগে তিনি আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করেছিলেন। পরবর্তীতে এই সিনেমার মাধ্যমেই কঙ্গনা বলিউডে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন।
শুটিং চলাকালীন সময়টা ছিল আরও চ্যালেঞ্জিং। ক্যান্সারের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন অনুরাগ বসু, তবুও তিনি কাজ থামাননি। দক্ষিণ কোরিয়ায় ছোট একটি ইউনিট নিয়ে সীমিত বাজেটে শুটিং সম্পন্ন করা হয়। প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার এই সিনেমার খরচ বাঁচাতে ইউনিটের সদস্যরা নিজেরাই রান্না করতেন—পরিচালক নিজে রান্না করতেন ডাল, আর কঙ্গনা কাটতেন পেঁয়াজ।
সংগীতের ক্ষেত্রেও ছিল চমক। দীর্ঘদিনের সহকর্মী প্রীতম-এর সুরে তৈরি গানগুলো আজও শ্রোতাদের মাঝে জনপ্রিয়। বিশেষ করে ‘ইয়া আলি’ গানটি প্রথমে ছবির অংশ না থাকলেও শেষ মুহূর্তে জুবিন গার্গ মুম্বাই এলে তা রেকর্ড করে যুক্ত করা হয়, যা পরে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
অল্প বাজেট, কঠিন পরিস্থিতি এবং একঝাঁক নতুন প্রতিভা নিয়ে তৈরি এই চলচ্চিত্রটি আজ বলিউডের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক। ইমরান হাশমি ও কঙ্গনার অভিনয় এবং অনুরাগ বসুর পরিচালনা ‘গ্যাংস্টার’-কে এনে দিয়েছে কাল্ট ক্লাসিকের মর্যাদা।
এম
আপনার মতামত লিখুন :