এক বছরে সাত দেশে ৬২২ হামলা চালিয়েছেন ট্রাম্প

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩, ২০২৬, ০৮:০২ পিএম
এক বছরে সাত দেশে ৬২২ হামলা চালিয়েছেন ট্রাম্প

ফাইল ছবি

নিজেকে শান্তির প্রেসিডেন্ট হিসেবে তুলে ধরলেও ২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পরিসংখ্যান ভিন্ন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। অরাজনৈতিক সংঘাত পর্যবেক্ষণ সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডাটা জানায়, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বের অন্তত সাতটি দেশে সরাসরি কিংবা অংশীদার হয়ে মোট ৬২২ বার বোমা হামলা চালিয়েছে। সর্বশেষ শুক্রবার রাত থেকে ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে সরাসরি হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

এসিএলইডির তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরে সিরিয়ায় আইএসের তথাকথিত ৭০টি অবস্থানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। পালমিরায় এক মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে চালানো এই অভিযানে ট্রাম্প একে ভয়াবহ প্রতিশোধ হিসেবে উল্লেখ করেন।

চলতি বছরের ২২ জুন ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা নাতাঞ্জ, ইসফাহান ও ফোরদোতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের দাবি, এতে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা বড়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাল্টা জবাবে ইরান কাতারে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালালেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

মার্চ মাসে ইরাকের আল-আনবার প্রদেশে আইএসের শীর্ষ নেতা আবদাল্লাহ আবু খাদিজাকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প এই অভিযানকে শক্তির মাধ্যমে শান্তি নীতির উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।

২০২৫ সালের মার্চ থেকে মে পর্যন্ত ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক বিমান ও নৌ হামলা চালানো হয়। এতে বন্দর, বিমানবন্দর ও সামরিক স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইয়েমেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, এসব হামলায় শতাধিক বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।

গত ২৫ ডিসেম্বর উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ায় আইএস-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো সরাসরি সামরিক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, এতে একাধিক সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। নাইজেরিয়া সরকার অভিযানকে সফল বললেও হতাহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা জানায়নি।

সোমালিয়ায় ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার সংখ্যা আগের সব প্রশাসনকে ছাড়িয়ে গেছে। বিভিন্ন পর্যবেক্ষক সংস্থার হিসাবে, দেশটিতে অন্তত ১১১ বার হামলা চালানো হয়েছে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব হামলায় বেসামরিক মানুষ, এমনকি শিশুর মৃত্যুর তথ্যও উঠে এসেছে।

এ ছাড়া ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ক্যারিবীয় সাগরে ভেনেজুয়েলাগামী নৌযানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব নৌযান মাদক পাচারে জড়িত। তবে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় অন্তত ৯৫ জন নিহত হয়েছেন। ভেনেজুয়েলা এ ঘটনাকে সরকার পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন যেসব সাতটি দেশে হামলা চালিয়েছে, তার মধ্যে ছয়টিই মুসলিমপ্রধান দেশ। কেবল ভেনেজুয়েলাই এর ব্যতিক্রম, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ খ্রিস্টধর্মের অনুসারী। শুক্রবার রাত থেকে তেলসমৃদ্ধ দেশটিতেও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা শুরু হয়েছে।

নির্বাচনী প্রচারে যুক্তরাষ্ট্রকে বিদেশি যুদ্ধ থেকে বের করে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালে সাতটি দেশে ধারাবাহিক সামরিক অভিযান সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে স্পষ্ট বৈপরীত্য তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক সক্রিয়তা ২০২৬ সালে আরও নতুন সংকটের জন্ম দিতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন পর্যবেক্ষকেরা। সূত্র: আল-জাজিরা

এসএইচ 
 

Link copied!