ফাইল ছবি
ভোরের আলো ফোটার আগেই বিস্ফোরণের শব্দ ও শহরের ওপর দিয়ে যুদ্ধবিমানের প্রচণ্ড গর্জনে ঘুম ভাঙে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের বাসিন্দাদের। কয়েক ঘণ্টা পরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথে দেওয়া এক বার্তায় দাবি করেন, বড় পরিসরের সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করেছে মার্কিন বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যৌথ অভিযানে তাঁকে দেশটির বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও জানান ট্রাম্প।
এই ঘোষণাকে ভেনেজুয়েলার বর্তমান সরকারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক মাস ধরে চলমান চাপের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরেই মাদুরো সরকারকে অবৈধ বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ট্রাম্পের দাবি, মাদক পাচার, অবৈধ অভিবাসন এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষাই ছিল এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলে এক নাটকীয় মোড় এলো।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পেছনে তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে—অবৈধ অভিবাসন, মাদক পাচার এবং তথাকথিত নার্কো-সন্ত্রাসবাদ।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্তে বিপুলসংখ্যক অভিবাসী প্রবেশের জন্য দায়ী করে আসছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ সাল থেকে অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের কারণে প্রায় ৮০ লাখ ভেনেজুয়েলান দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। তাঁদের বেশির ভাগই লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, প্রেসিডেন্ট মাদুরো তাঁর দেশের কারাগার ও মানসিক হাসপাতাল থেকে বন্দিদের যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাতে বাধ্য করেছেন। এ অভিযোগ ভেনেজুয়েলার সরকার সরাসরি অস্বীকার করেছে।
মাদক পাচারকে দ্বিতীয় বড় কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ভেনেজুয়েলা কোকেন পাচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে চলমান ফেন্টানিল সংকটেও দেশটির ভূমিকা রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার দুটি অপরাধী চক্র ত্রেন দে আরাগুয়া ও কার্তেল দে লস সোলেসকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে। ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, কার্তেল দে লস সোলেসের নেতৃত্বে রয়েছেন স্বয়ং প্রেসিডেন্ট মাদুরো। কারাকাস এই অভিযোগও জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
শনিবার ৩ ডিসেম্বর ট্রাম্প দাবি করেন, স্বল্প সময়ের এক অভিযানে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করে ভেনেজুয়েলার বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও অংশ নেয়। নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অভিযানের পরিকল্পনা ও এতে অংশ নেওয়া সেনাদের প্রশংসা করেন।
কারাকাসে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সামরিক স্থাপনার আশপাশে বিস্ফোরণ, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং আকাশে যুদ্ধবিমান উড়তে দেখা গেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস যাচাইকৃত ভিডিওতে শহরের আকাশে ট্রেসার গুলি ও ধোঁয়ার দৃশ্য দেখা যায়। উপকূলীয় আরেকটি এলাকাতেও একই ধরনের দৃশ্য ধরা পড়েছে। এদিকে ভেনেজুয়েলার সরকার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেসামরিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ তুলে সমর্থকদের রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি
এসএইচ
আপনার মতামত লিখুন :