মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি পতাকাবাহী একটি জাহাজ জব্দের দাবি করার পরপরই তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি শুরু হয়।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, সোমবার (২০ এপ্রিল) এশিয়ার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই তেলের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যায়। এর আগে ইরান ঘোষণা দেয়, তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখবে এবং সতর্কতা অমান্যকারী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৪.৭৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৪.৬৬ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৫.৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৮.৫৫ ডলারে। সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর পর থেকেই জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ওঠানামা চলছে।
এই উত্তেজনার পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত ও অনিশ্চিত কূটনৈতিক পরিস্থিতি। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আলোচনার জন্য একটি মার্কিন প্রতিনিধি দল পাকিস্তান সফরে যাবে, যার নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে তেহরান এখনও আলোচনায় অংশগ্রহণের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান দেয়নি।
বিশ্লেষক সল কেভনিক মনে করেন, বাস্তব ঘটনার চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পারস্পরিক বার্তা ও অবস্থান পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়াতেই তেলের বাজার বেশি প্রভাবিত হচ্ছে। তার মতে, দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া এখনো কঠিন।
এদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা হবে। বিশ্বে ব্যবহৃত প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এর যেকোনো বিঘ্ন সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলে।
সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে পড়তে শুরু করেছে। এশিয়ার দেশগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে, কারণ তাদের জ্বালানি সরবরাহের বড় অংশ এই রুটের ওপর নির্ভরশীল। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশ জ্বালানি সাশ্রয়, কর্মঘণ্টা হ্রাস এবং বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
এম
আপনার মতামত লিখুন :