ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মে ২১, ২০২৬, ০৯:১০ এএম
ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বসবাসকারী অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে রাজ্য সরকার। মূলত ‘ডিটেক্ট (চিহ্নিত করা), ডিলিট (মুছে দেওয়া) ও ডিপোর্ট (ফেরত পাঠানো)’—এই তিন নীতির ওপর ভিত্তি করে পুরো প্রক্রিয়াটি চালানো হচ্ছে।

গত বুধবার (২০ মে) নবান্নে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই সংক্রান্ত আইন কার্যকর করার কথা ঘোষণা করেন। আনন্দবাজার পত্রিকার বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যারা ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) আওতাভুক্ত নন, তাদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হবে। এরপর সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মাধ্যমে তাদের নিজ দেশে পুশব্যাক বা ফেরত পাঠানো হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের এক বছর আগের নির্দেশিকা মেনে রাজ্য প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী যৌথভাবে এই অভিযান চালাবে।

কারা পড়বেন এই আইনের আওতায়?

ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকা অনুযায়ী, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মূলত দুই ধরণের অভিবাসী এই আইনের আওতায় পড়বেন:
১. যারা বৈধ পাসপোর্ট বা কোনো রকম আইনি নথি ছাড়া ভারতে প্রবেশ করেছেন (যেমন: বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা নাগরিক)।
২. যারা বৈধ নথি নিয়ে ভারতে প্রবেশ করার পর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও নিজ দেশে ফিরে যাননি।

যেহেতু কেন্দ্রীয় সরকারের আলাদা কোনো পুলিশ বাহিনী নেই, তাই অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা, গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ ও দেশছাড়া করার সম্পূর্ণ দায়িত্ব রাজ্য পুলিশ এবং অভিবাসন ব্যুরোর যুগ্ম ডিরেক্টরের হাতে দেওয়া হয়েছে।

ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া যেভাবে চলবে

অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়াটি সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়মের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে:

তথ্য সংরক্ষণ ও পোর্টাল: কোনো বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা নাগরিক সীমান্তে ধরা পড়লে তৎক্ষণাৎ তার আঙুলের ছাপ, ছবি ও ব্যক্তিগত বিবরণ সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘ফরেনার্স আইডেন্টিফিকেশন পোর্টাল’-এ আপলোড করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ইন্টারনেট না থাকলে তথ্য প্রথমে অফলাইনে সংগ্রহ করে পরে পোর্টালে তুলতে হবে।

টাস্ক ফোর্স ও হোল্ডিং সেন্টার: অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত ও আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রতি জেলায় পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠনের পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরি করবে রাজ্য সরকার।

নাগরিকত্ব দাবি ও যাচাই: আটক কোনো ব্যক্তি নিজেকে ভারতীয় নাগরিক দাবি করলে ৩০ দিনের মধ্যে তার তথ্য যাচাই করা হবে। উপযুক্ত প্রমাণ না মিললে তদন্ত সাপেক্ষে তাকে কালো তালিকাভুক্ত বা ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ করা হবে। তদন্ত শেষে রাজ্য পুলিশ উপযুক্ত আইনি কাগজসহ অনুপ্রবেশকারীদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে তুলে দেবে।

ভুলবশত সীমান্ত পারাপার: অনিচ্ছাকৃতভাবে কেউ সীমান্ত পেরিয়ে এলে এবং তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হলে, তাদের সরাসরি সীমান্তের রক্ষীবাহিনীর মাধ্যমে ফেরত পাঠানো হবে। বাংলাদেশ সীমান্তের জন্য বিএসএফ (BSF) এবং মিয়ানমার সীমান্তের জন্য আসাম রাইফেলস এই দায়িত্ব পালন করবে।

খরচ ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া

কোনো অনুপ্রবেশকারী গ্রেপ্তার হলে তার সমস্ত তথ্য রাজ্য সরকার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানাবে। এরপর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট দেশের (বাংলাদেশ বা মিয়ানমার) দূতাবাসের মাধ্যমে ওই ব্যক্তির নাগরিকত্ব যাচাই করে নেবে।

বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গাদের আটক করা থেকে শুরু করে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া পর্যন্ত প্রাথমিক খরচ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার বহন করবে, যা পরে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যকে ফিরিয়ে দেবে। তবে জেলাভিত্তিক হোল্ডিং সেন্টার তৈরির যাবতীয় খরচ রাজ্য সরকারকেই দিতে হবে।

এছাড়া ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের নামে ভারতে যাতে পরবর্তীতে কোনো পরিচয়পত্র (যেমন: আধার কার্ড, ভোটার কার্ড বা পাসপোর্ট) তৈরি হতে না পারে, তা নিশ্চিত করবে ভারতের নির্বাচন কমিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পুরো প্রক্রিয়াটির অগ্রগতি নিয়ে রাজ্য সরকারকে প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে প্রতি মাসে বিস্তারিত রিপোর্ট কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। সূত্র : আনন্দবাজার

এম

Link copied!