ছবি: সংগৃহীত
ঘটনাটি ১৯৯২ সালের। শেরওয়ানি পরিহিত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তরুণ ইমরান খানকে নিয়ে এক বিদেশি সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন, এই তরুণ ছেলেটিকে নিয়ে কি আপনি গর্বিত? জবাবে নওয়াজ বলেছিলেন, অবশ্যই, তিনি অসাধারণ কাজ করেছেন। সাংবাদিকের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, রাজনীতিতে আসার প্রস্তাব দিলেও ইমরান তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। অথচ সেই দুই ব্যক্তিত্বই পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন এবং তীব্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীতে রূপ নেন।
নওয়াজ শরীফ এবং ইমরান খান দুজনেই লাহোরের সচ্ছল কিন্তু অরাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শুরুতে দুজনের কেউই রাজনীতিতে আগ্রহী ছিলেন না। ক্রিকেটই ছিল তাদের পরিচয়ের প্রথম সেতু বন্ধন। আশির দশকের শুরুতে ইমরান খান যখন পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অধিনায়ক, তখন পাঞ্জাবের অর্থমন্ত্রী থাকা নওয়াজ শরীফ ১৯৮৫ সালে ওই প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হন। সে সময় লাহোর জিমখানা ক্লাবে নিয়মিত ক্রিকেট খেলতে আসতেন নওয়াজ। খোদ মুখ্যমন্ত্রী হয়েও আন্তর্জাতিক দলের বিপক্ষে ওয়ার্ম-আপ ম্যাচে ওপেন করতে নেমে পড়ার মতো ঘটনাও ঘটিয়েছিলেন তিনি।
১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নওয়াজ শরীফ প্রকাশ করেছিলেন যে তিনি অতীতে ইমরানকে রাজনীতিতে আসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে তেহরিক-ই-ইনসাফ প্রতিষ্ঠার পর ইমরান যখন রাজনীতিতে নামেন, তখন নওয়াজ তাকে দলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ ও জোটের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্নীতির বিরোধিতার কথা বলে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন ইমরান।
১৯৯৯ সালে পারভেজ মুশাররফের সামরিক অভ্যুত্থানে সরকার উৎখাত হলে দুই নেতার জীবনেই নতুন মোড় আসে। নওয়াজ শরীফ দেশত্যাগে বাধ্য হন। ২০০৭ সালে লন্ডনে দুই নেতা একত্রিত হয়ে সামরিক শাসকের বিরুদ্ধে জোট বাঁধলেও সেই ঐক্য বেশি দিন টেকেনি।
পরবর্তীতে ২০১১ সালের পর ইমরান খানের রাজনৈতিক উত্থান এবং ২০১৩ সালের নির্বাচনে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয় পেয়ে ইমরান প্রধানমন্ত্রী হলেও তার সেই মেয়াদও পূর্ণ হয়নি। সময়ের পরিক্রমায় ক্ষমতার পালাবদলে দুজনেই কারাবাস এবং রাজনৈতিক ঝড়ের মুখোমুখি হয়েছেন। ক্রিকেট মাঠের সেই সখ্য আর বন্ধুত্বের সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত চরম রাজনৈতিক বৈরিতায় রূপ নেয়, যা আজও পাকিস্তানের রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করে চলেছে। তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা
এসএইচ